সরকারি মুজিব কলেজে টাকা ছাড়া মিলছে না প্রশংসাপত্র!

নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার সরকারি মুজিব কলেজে টাকা ছাড়া মিলছে না প্রশংসাপত্র ও ট্রান্সক্রিপ্ট। এতে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছেন।

শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা অভিযোগ করেন, এইচএসসিতে ভর্তির জন্য প্রশংসাপত্র ও ট্রান্সক্রিপ্ট আনতে গেলে কলেজের অফিস সহকারী আবদুর রহমানকে দু’শত টাকা করে দিতে হচ্ছে। এ টাকা না দিলে প্রশংসাপত্র মিলছেনা শিক্ষার্থীদের। টাকার কম দিলে অধ্যক্ষ নেই, প্রশংসাপত্রে অধ্যক্ষের স্বাক্ষর পড়েনি, প্রবেশপত্র, রেজিস্ট্রেশন কার্ড ছাড়া প্রশংসাপত্র দেয়া হয় না এভাবে নানান অজুহাত দিয়ে কাল ক্ষেপন করে আবদুর রহমান। পরে তার চাহিদা মেতাবেক টাকা দিলে ছাত্র-ছাত্রীদের প্রশংসাপত্র ও ট্রান্সক্রিপ্ট প্রদান করা হয়। এই ভাবে বিনা রশিদে সরকারি মুজিব কলেজর শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অবৈধভাবে হাজার হাজার টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে।

২০১৭ সালে কলেজ থেকে এইচএসসি (উচ্চ মাধ্যমিক সার্টিফিকে পরীক্ষা) পাস করা শিক্ষার্থী আবদুল হালিম জানায়, প্রশংসাপত্রের জন্য অফিস সহকারী তার কাছ থেকে ২শ’ টাকা দাবি করে। দাবিকৃত টাকা বাড়ি থেকে নিয়ে প্রশংসাপত্র নিতে হয়েছে। অপর ছাত্র মো. সফিকুল ইসলামের কাছ থেকে অফিস সহকারী ২শ’ টাকা দাবি করে। ২শ’ টাকা না থাকায় প্রশংসাপত্র ও ট্রান্সক্রিপ্ট না নিয়ে তাকে খালি হাতে বাড়ি ফিরতে হয়েছে।

বোর্ড/বিশ্ববিদ্যালয় এবং শিক্ষা অধিদফতরের কোন নির্দেশ না থাকলেও তারা শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে প্রশংসাপত্র বাবদ এ টাকা অবৈধভাবে হাতিয়ে নিচ্ছে। এভাবে দূর দূরান্ত থেকে আসা অসংখ্য শিক্ষার্থী হয়রানি ও দুরভোগের শিকার হচ্ছে। অফিস সহকারী আবদুর রহমানের ঘুষ বাণিজ্য থেকে রেহায় পাচ্ছে না গরিব ও মেধাবী শিক্ষার্থীরাও। এ বিষয়ে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা অফিস সহকারী আবদুর রহমান এর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়ার জোর দাবি জানান।

এ ব্যাপারে কলেজ অধ্যক্ষ প্রফেসর জিয়া উদ্দিন চৌধুরীর সঙ্গে মোবাইলে আলাপ করা হলে তিনি সাংবাদিকদের জানান, কলেজের কাজে ঢাকায় এসেছি। প্রশংসাপত্র বিতরণ খরচ বাবদ ৫০ টাকা করে নেয়ার আদেশ দেয়া হয়েছে। তবে এর অতিরিক্ত টাকা নেয়ার জন্য তাকে বলা হয়নি।

মানবকণ্ঠ/এসএস/এফএইচ