সরকারি-আধা সরকারি অফিসে বিদ্যুতের পুরনো লাইন মেরামতের নির্দেশনা

সব সরকারি, আধাসরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত অফিসে বিদ্যুতের পুরনো, জরাজীর্ণ লাইন মেরামত করার নির্দেশনা দিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। একই সঙ্গে বিদ্যুতের লাইন নিয়মিত পরীক্ষা করারও তাগিদ দেয়া হয়েছে। এ ছাড়াও ত্রুটি বিচ্যুত লাইনগুলো অপসারণসহ বৈদ্যুতিক সংযোগ স্থাপনে সতর্কতা বাড়ানোর কথা বলা হয়েছে। ৭ সেপ্টেম্বর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সুরক্ষা বিভাগ থেকে প্রতিটি মন্ত্রণালয় আর বিভাগের কাছে আলাদাভাবে চিঠি দিয়ে এই নির্দেশনা দেয়া হয়।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বিদ্যুৎলাইন বা স্টেশনে ত্রুটি আর অবহেলার জন্য সংঘটিত অগ্নিকাণ্ডের ব্যাপারে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। একই সঙ্গে তিনি জরুরিভিত্তিতে সব বড় বড় প্রতিষ্ঠানের বৈদ্যুতিক সংযোগ ব্যবস্থা পরীক্ষা করা প্রয়োজন বলে অভিমত প্রকাশ করেন। এরই ভিত্তিতে অর্থবিভাগের সিনিয়র সচিব হেদায়েতুল্লাহ আল মামুন ২৬ জুলাই মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলমের কাছে একটি আধা সরকারি চিঠি দেন। চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, সারাদেশে প্রায় চার লাখ কিলোমিটার বিদ্যুৎ বিতরণ লাইন রয়েছে। জাতীয় গ্রিডের বিদ্যুৎ লাইনে রাজধানীসহ সারাদেশে সামান্য ঝড়-তুফানে বিদ্যুৎতের খুঁটি ও তার পড়ে অহরহ দুর্ঘটনা ঘটছে । অনেক আগে বিদ্যুৎ স্থাপন করা হলেও, জরাজীর্ণ তার আর বাঁশের খুঁটি ও গাছপালা দিয়ে বসত ঘর তৈরি করায় প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনা ঘটছে। শুধু তাই নয়, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ওপর দিয়ে বিদ্যুৎ সংযোগ স্থাপন করায় অনেক মানুষ এখনো মৃত্যুর ঝুঁকি নিয়ে বসবাস করছে। চিঠিতে আরো উল্লেখ করা হয়েছে, রাজধানীসহ সারাদেশে বড় ধরনের অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হয় শর্টসার্কিট বা বিদ্যুৎ সংযোগের গোলযোগ থেকে। এর ফলে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে প্রাণহানির ঘটনা দিন দিন বাড়ছে।

এদিকে এক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, ২০১৬ সালে ঢাকা শহরে প্রায় ৪ হাজার দুর্ঘটনা ঘটেছে। একই সঙ্গে সারাদেশে প্রায় ১৭ হাজার অগ্নিকাণ্ড ঘটলেও, তা নিয়ন্ত্রণ করা হয়েছে। আর এ সব দুর্ঘটনার বেশিরভাগ হচ্ছে বিদ্যুৎ থেকে। একই বছরে প্রায় ৫৯ হাজার দগ্ধ রোগী চিকিৎসা নিয়েছেন। আর এর মধ্যে ১৬ হাজার রোগীই এসেছেন বৈদ্যুতিক কারণে অগ্নিকাণ্ডে দগ্ধ হয়ে। বার্ন ইউনিটে আগুনে পুড়ে মারা যাওয়া রোগীর মধ্যে ৪২ শতাংশই বৈদ্যুতিক দুর্ঘটনা জনিত কারণে। প্রাকৃতিক দুর্যোগে বিদ্যুতের বিপাকে কি ধরনের বিপর্যয় হতে পারে তার একটি বিশদ বিবরণ তুলে ধরা হয়েছে অর্থসচিবের চিঠিতে। বিশেষ করে যখন কোনো ধরনের বড় ভূমিকম্প হবে তখন বিদ্যুতের ত্রুটির জন্য কি ধরনের ক্ষতি হতে পারে সে ব্যাপারে আভাস দেয়া হয়েছে।

জানা গেছে, অর্থসচিবের এই চিঠি খুবই গুরুত্ব পেয়েছে মন্ত্রিপরিষদ সচিবের কাছে। যে কারণে চিঠি পেয়ে তিনি আবার প্রতিটি মন্ত্রণালয় ও বিভাগের সচিবদের কাছে একটি চিঠি পাঠিয়েছেন। এই চিঠির ভিত্তিতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সুরক্ষা বিভাগ চিঠি দিয়ে বিষয়টি স্মরণ করিয়ে দেয়। বলা হয়েছে, অগ্নিকাণ্ড বিষয়টি গুরত্বপূর্ণ। আর তা নিরাপত্তার স্বার্থেই এ বিষয়ে উদ্যোগ নেয়া উচিত। অগ্নি নিরাপত্তার স্বার্থে সব সরকারি আধা সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের বিদ্যুৎ লাইন নিয়মিত পরীক্ষা করাসহ ত্রুটিপূর্ণ লাইন অপসারণ করা জরুরি। একই সঙ্গে বৈদ্যুতিক সংযোগ স্থাপনে সতর্কতা অবলম্বনের নির্দেশনা দেয়া হয়।

মানবকণ্ঠ/এসএস