সমুদ্রপথে জঙ্গি হামলার আশঙ্কা ভারতের

সমুদ্রপথে যেকোনো সময় ভারতে জঙ্গি হামলার আশঙ্কা করছেন দেশটির নৌবাহিনী প্রধান অ্যাডমিরাল সুনীল লানবা। মঙ্গলবার নয়াদিল্লিতে আয়োজিত ‘ইন্দো-প্যাসিফিক রিজিওনাল ডায়লগ’ অনুষ্ঠানে এই আশঙ্কার কথা তুলে ধরেন।

এর আগে পাকিস্তান তথ্য মন্ত্রণালের এক টুইট বার্তায় দাবি করা হয়, ‘ভারতীয় একটি সাবমেরিন পাকিস্তানের জলসীমায় ঢুকে পড়ার চেষ্টা করলে পাকিস্তান নৌবাহিনীর সদস্যরা তা প্রতিহত করেন। তবে পাকিস্তানি নৌসেনা ওই সাবমেরিনটি “টার্গেট” করেনি। পাকিস্তান সরকারের শান্তির পথে পদক্ষেপের কথা মাথায় রেখেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।’

এরপরই এক অনুষ্ঠানে ভারতের নৌবাহিনী প্রধান বলেন, ‘পুলওয়ামায় আক্রমণের পর এমন দেশ আছে যাদের লক্ষ্য ভারতের ক্ষতি করা। আমাদের কাছে খবর আছে আরও নানাভাবে ভারতের জঙ্গি হানার পরিকল্পনা করা হয়েছে। তার মধ্যে একটি হলো সমুদ্রপথ। এই হামলা চালাতে বিশেষভাবে প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে জঙ্গিদের।’তবে কোন দেশ এই হামলা চালাতে পারে সে বিষয়ে তিনি কিছু বলেন নি।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম জি-নিউজের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভারতের নৌবাহিনী প্রধান অ্যাডমিরাল সুনীল লানবার ওই মন্তব্যের পরই সমুদ্রপথে জঙ্গিহানার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। কারণ, এর আগে ২০০৮ সালে মুম্বাই হামলার সময় আজমল আমির কাসভসহ অন্য জঙ্গিরা আরবসাগর দিয়েই মুম্বাই উপকূলে হামলা করেছিল।

গত ১৪ ফেব্রুয়ারি ভারতনিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরের পুলওয়ামায় দেশটির আধা সামরিক সিআরপিএফের গাড়িবহরে আত্মঘাতী হামলায় ৪৬ জওয়ান নিহত হন। পাকিস্তানভিত্তিক জঙ্গি সংগঠন জইশ-ই-মুহাম্মদ এ হামলার দায় স্বীকার করে। এর পর থেকেই দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা ছড়ায়। এ ঘটনার ১২ দিন পর গত মঙ্গলবার ভোরে পাকিস্তাননিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরের বালাকোটে বিমান হামলা চালায় ভারত। এর পরদিন দুই দেশের সেনাদের মধ্যে কাশ্মীর সীমান্তে গোলা ও গুলিবিনিময় হয়। আকাশযুদ্ধে ভারত হারায় দুটি যুদ্ধবিমান।

মানবকণ্ঠ/এফএইচ