সন্ধ্যা হতেই যেখানে শুরু হয় যৌনকর্মীদের দাপট

পূজার ছুটি হোক, শীতের ছুটি কিংবা সপ্তাহের শেষে একটু ছুটি পাওয়া গেলেই বেড়িয়ে আসার জন্য ভারতের পশ্চিমবঙ্গের দীঘা ছাড়া আর কিছু ভাবাই যায় না। কথায় আছে ‌‌‘বাঙালির উঠলো বাই তো দীঘা যাই’। দীঘার মনোরম পরিবেশ আর সমুদ্রের ঢেউ মন কাড়ে সাধারণ মধ্যবিত্তসহ সব বাঙালির।

বার বার ছুটে যেতে ইচ্ছা করে সেই সমুদ্রের কাছে। পুরাতন দীঘা থেকে নতুন দীঘা, উদয়পুর, তাজপুর এই সবকিছুই আমাদের প্রবলভাবে আকর্ষণ করে। শঙ্করপুরে লাল কাঁকড়ার দেশে হারিয়ে যেতে মন চায়। ১০ বছর আগের দীঘা আর বর্তমান দীঘার মধ্যে আকাশ-পাতাল পার্থক্য।

সন্ধ্যা হতে না হতেই যৌ-ন কর্মীদের দাপট, পর্যটকরা নাজেহালআগের থেকে অনেক উন্নতি হয়েছে দীঘার। হয়েছে অনেক নতুন নতুন সুপার ডিলাক্স হোটেল। বানানো হয়েছে বিশ্ববাংলা পার্ক। কিন্তু বহুদিন ধরে যে সমস্যা চলে আসছে তা হল মদ্যপ মানুষের দাপট। এখন আরো নতুন এক তাণ্ডব শুরু হয়েছে। সেটা হল যৌনকর্মীদের উৎপাত।

এরা দিনের বেলায় সমুদ্রের ধারে চাঁদা তোলে আর সন্ধ্যাবেলা দেখায় তাদের অন্য রূপ। দাঁড়িয়ে থাকে অন্ধকার গলিতে, আর কোন অল্প বয়সী ছেলে দেখতে পেলে প্রলোভন দেখানো শুরু করে। বয়স কম হওয়ার ফলে তারা রাজিও হয়ে যায় অনৈতিক কাজে।

পর্যটকরা জানিয়েছেন যে তারা শরীরী আবেদনের জন্য ছোট ছোট পোশাক পরে সেজে গুজে দাঁড়িয়ে থাকে। সেখানে চলে অবাধ দর কষাকষি। তারপর ছেলেদের নিয়ে যায় নিজেদের পরিচিত হোটেলে। সেখানে চলে যৌন খেলা।

আবার অনেক ছেলে ভয়ে অনেক বেশি টাকা দিয়ে দেয়। এমনকি রাস্তায় কোন গাড়ি দেখতে পেলে তারা রাস্তার মাঝখানে গাড়ি দাঁড় করিয়ে গাড়িতে উঠে করতে থাকে অসভ্যতা। শরীরের বিভিন্ন অঙ্গে হাত দিয়ে পর্যটকদের বাধ্য করে টাকা দেয়ার জন্য।

শুধু এখানেই থেমে থাকে না, তাদের পকেট থেকে বের করে নেয় মানিব্যাগ। তারা রাস্তার যাত্রীদেরও ছাড়েনা। টেনে নিয়ে যায় অন্ধকারে। যারফলে হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে পর্যটকদের। মূলত দীঘা স্টেশনের কাছে আর অমরাবতী পার্কের কাছে এসব যৌনকর্মীদের দেখা যায় বলে পর্যটকরা জানায়।

যারা রাতের ট্রেনে বেড়াতে আসে বা পার্কে ঘুরতে যায় তারাও হয় ওদের টার্গেট। কোন অন্ধকার জায়গা পেলে ঝাঁপিয়ে পড়ে, শুরু হয় যৌন হয়রানি। যারা পরিবার নিয়ে ঘুরতে যায় তারা বিব্রতকর অবস্থায় পড়ে এবং সম্মান হারায়।

মানবকণ্ঠ/এএম