সন্তানের সঙ্গে দূরত্ব ঘোচাতে

১) সন্তানকে সঙ্গ দিন, মানসিকভাবে ওর সঙ্গে থাকুন, ভালোবাসার প্রকাশ দেখান, ওর কাজকে ভালোবাসুন, ওকে সাহায্য করবেন কথা দিন এবং ওর প্রতি আপনার আগ্রহ আছে প্রকাশ করুন।
২) সন্তানকে ধীরে ধীরে বোঝার চেষ্টা করুন। ওকে বোঝাতে হবে, নিজের গড়ে ওঠার জন্য ও স্কুলে যাচ্ছে, কাজকর্ম শিখছে-এতে বাবা-মাকে সে ধন্য বা কৃতার্থ করছে না।
৩) ওকে ভালোবাসাও দিতে হবে, সুরক্ষা দিতে হবে, আবার সুস্থ প্রতিদ্বন্দ্বী মনোভাব তৈরি করতে শেখাতে হবে। ও যতটুকু সামলাতে পারে তেমনই কাজের দায়িত্ব দিতে হবে। বলতে হবে, সবাইকে পারছে তুমিই বা পারবে না কেন? চেষ্টা করলেই পারবে।
৪) ওকে পরিচালনার ব্যাপারে আপনাকে দৃঢ় অথচ নমনীয় হতে হবে। ওকে বোঝাতে হবে কোনো কিছুই শেষ কথা নয়। সুতরাং আলোচনার রাস্তা সব সময়ই খোলা আছে।
৫) ভুল থেকেই শিখতে হয় এটা শেখাতে হবে। ভুলগুলো নিয়ে আপনমনে ভাবতে উৎসাহিত করুন। প্রয়োজনে ভুলগুলো নিয়ে ওর সঙ্গে আলোচনা করুন।
৬) এসব ব্যাপারে ও নিজে কী ভাবে, প্রয়োজনে ওকে জিজ্ঞাসা করুন।
৭) ওর কথা ধৈর্য ধরে শুনুন।
৮) খুঁজে দেখুন কখন কোনো ব্য?াপারে প্রশংসা করে ওর আত্মবিশ্বাস বাড়ানো যায়, ওকে অভিনন্দন জানানো যায় বা ওকে সম্মান জানানো যায়। কিন্তু অহেতুক প্রশংসা করে ওকে আত্মম্ভরী করে তুলবেন না।
৯) ওর ব্যাপারে কোনো কিছুতে স্ট্য?াম্প মেরে দেয়ার চেষ্টা করবেন না, ওর বিচার ওকেই করতে দিন। আর পাঁচজনের সামনে ওকে খাটো করবেন না।
১০) কীভাবে সম্যক অবস্থাটা ও মানিয়ে নিতে পারে সে ব্যাপারে ওকে উৎসাহিত করুন।
১১) হঠাৎ করে ওর কাজে নাক গলাতে যাবেন না।
১২) জগৎ, জীবন বা সংসারের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো নিয়ে ভাবতে এবং প্রশ্ন করতে ওকে উৎসাহিত করুন।
১৩) ওর স্বপ্ন আশা-আকাক্সক্ষাগুলোকে উৎসাহিত করুন, তাকে বাস্তবায়িত করার সমস্যা নিয়ে আলোচনা করুন। কী করে সেগুলো বাস্তবায়িত করা যাবে সে ব্যাপারে বিস্তারিত পরিকল্পনা করুন।
সেইমতো কাজকর্ম যাতে ও শুরু করতে পারে সে ব্যাপারে উৎসাহিত করুন।
১৪) ওকে শেখান কেমনভাবে সব সময় সাহায্যের প্রত্যাশা না করে শুধুমাত্র বিপদের সময় সাহায্য চাইতে হয়।
১৫) ভুলত্রুটি থাকলেও সে নিজে যে কাজে অংশগ্রহণ করছে সেটা যে অনেক বেশি দামি, এই প্রত্যয় ওর মধ্যে আনার চেষ্টা করুন। এই ধরনের কাজের মধ্য দিয়েই যে সে পরিণত হয়ে উঠবে, এ কথাও তাকে বুঝিয়ে বলুন।
১৬) এমন কিছুটা সময় তার জন্য রাখবেন যাতে সে সময়ে সে স্বাধীনভাবে তার মেজাজ দেখাতে পারে, আবোল তাবোল কিছু করে বসতে পারে, একা আপনমনে থাকার সুযোগ পায়।
১৭) যখন তার ব্যবহার হঠাৎ পাল্টে যাবে তখন ওকে জিজ্ঞাসা করে জানার চেষ্টা করুন, ইতিমধ্যে কোনো কিছু ঘটেছে কি?
১৮) মনে রাখবেন বাইরে কোনো একটি কাজ করতে হলে কিশোর-কিশোরীদের মানসিকভাবে অনেকখানি প্রস্তুতি নিতে হয়। ফলে কখনোই এমন আশা করবেন না যে, আপনি যখনই চাইবেন ও প্রস্তুত হয়ে যাবে।
১৯) ও বন্ধুদের সম্পর্কে যে গল্প করছে তা পছন্দ না হলেও আপনি আগ্রহভরে শুনুন, ওর আলোচনাটিকে মর্যাদা দিন।
২০) ধীর-স্থির বাবা-মা সম্পর্কে কিশোর-কিশোরীদের অভিযোগ অনেক কম থাকে। ওরা সবসময় চায় বাবা-মা তাদের কথা আগ্রহভরে শুনবে।
২১) পারিবারিক সম্পর্ক নষ্ট না করে এসব সম্পর্কের বিশেষ বিশেষ দিকগুলো সম্পর্কে ওর সঙ্গে আলোচনা করুন।
২২) তর্কযুদ্ধ হোক, মতদ্বৈততা হোক, আপনি জানবেন এসব স্বাস্থ্যকর।
২৩) সমাজ তার কাছে কী আচার-আচরণ এবং কাজ আশা করে এটা ধীরে ধীরে আপনারা তাকে শেখান। সে যে সমাজের অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ, এটাও তাকে বুঝিয়ে বলতে হবে। এসঙ্গে সুনাগরিক হতে হলে কী কী গুণাবলী আবশ্যক, এ কথাও কোনো সময়ে তার সঙ্গে আলোচনা করবেন।
২৪) বিভিন্ন বিষয়ে যখন আপনি ওর সঙ্গে মতামত বিনিময় করবেন তখন যেন সামাজিক এবং পারিবারিক মূল্যবোধগুলো দ্বারা উদ্দীপিত হয়।
২৫) নিজস্ব একটি মূল্যবোধ গড়ে তোলার ব্যাপারে সব সময় উৎসাহিত করবেন।
২৬) ওকে মাঝে মাঝেই মনে করিয়ে দেবেন যে ওর এটি কৈশোর অবস্থা, অর্থাৎ উৎক্রমণের পর্যায়কাল।
২৭) ও যেন যে কোনো সঠিক ও গুরুত্বপূর্ণ কাজের ধারাবাহিকতা রক্ষা করে চলার মানসিক প্রস্তুতি গ্রহণ করে। ২৮) সে কেমন করে দূরকে নিকট-বন্ধু করবে আর পরকে ভাই করবে, এই সিদ্ধান্তটা ওর উপরেই ছেড়ে দিন।
– সম্পর্ক ডেস্ক