সনু নিগমের পক্ষে তসলিমা : ইমামরা মিথ্যাবাদী, ওরা টাকা দেবে না

তাসলিমা নাসরিনআজান নিয়ে বিরূপ মন্তব্য করায় ভারতের জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী সনু নিগম যখন নিজ দেশ ও দেশের বাইরে নিন্দা ও সমালোচনার ঝড়ে আক্রান্ত ঠিক সেই সময় তার পাশে এসে দাঁড়ালেন ভারতে স্বেচ্ছায় নির্বাসিত বিতর্কিত লেখিকা তসলিমা নাসরিন। ভারতের সংবাদমাধ্যম হিন্দুস্থান টাইমস, স্টারডাস্ট ও অনলাইন পোর্টাল ইন্ডিয়াডটকমের খবরে বলা হয়েছে, গত বুধবার রাতে সনু নিগমের পাশে দাঁড়িয়ে টুইটারে তসলিমা নাসরিন লিখেছেন, ‘ইমামরা মিথ্যাবাদী। ওরা টাকা দেবে না।’

সনুর বিতর্কিত মন্তব্যের পর পশ্চিমবঙ্গ সংযুক্ত সংখ্যালঘু সংগঠনের সহ-সভাপতি সৈয়দ শাহ আতেফ আলী আল কাদেরি ঘোষণা দিয়েছিলেন, সনুকে যদি কেউ চুল ফেলে ন্যাড়া করে তাহলে ১০ লাখ রুপি পুরস্কার দেয়া হবে।

এরপর সনু টুইটারে ঘোষণা দিয়ে চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করে মাথা ন্যাড়া করেন। গত বুধবার দুপুরে নিজের বাড়িতে চুল ফেলার সময় সাংবাদিক ডাকেন সনু। সেখানেই তিনি সেই মুসলিম নেতাকে সরাসরি বলেন, ‘আমি কথা রেখেছি। নিজেই চুল ফেলেছি। এবার আমার বাড়িতে ১০ লাখ রুপি পৌঁছে দিন।’
আগে টুইট করে জানিয়েছিলেন, পরে সংবাদ সম্মেলনে সনু জানান, তিনি ইসলাম বিরোধী নন। তিনি শুধু জানাতে চেয়েছিলেন, লাউড স্পিকারের ব্যবহার কোনো ধর্মীয় প্রয়োজনীয়তা নয়। আমেরিকা বা অস্ট্রেলিয়ার মতো দেশে তা করা হয় না। তার দাবি, তিনি সাধারণ একটি বিষয়ে কথা বলেছিলেন। তা নিয়ে অনর্থক জটিলতা তৈরি করা হয়েছে। প্রত্যেকেরই মত প্রকাশের স্বাধীনতা আছে। সেরকমই তিনি একটি বিষয়ে মতামত জানিয়েছিলেন।

সনু নিগমের এই সাহসিকতার প্রশংসায় মুখর হয়ে ওঠেন বিশিষ্ট ব্যক্তিরা। সামাজিক মিডিয়ায় সনুকে সমর্থন জানিয়ে একের পর এক পোস্ট আসতে থাকে। তখনই বেগতিক বুঝে সংবাদ সংস্থা এএনআইকে কাদরি জানান, তিনটের মধ্যে একটি শর্ত পূরণ হয়েছে। বাকি শর্ত পূরণ করলে তবেই মিলবে ইনাম। সনুর মাথা কামানোর পর নেট দুনিয়ায় উঠছে একটাই প্রশ্ন আদৌ ফতোয়ার ইনাম পাবেন তো সনু? এরই প্রেক্ষিতে তসলিমা নাসরিন গত বুধবার সন্ধ্যায় টুইটারে ইমামদের সম্পর্কে ওই মন্তব্য করেন।

টুইটে তসলিমা উল্লেখ করেছেন, তার মুখে কালি মাখানোর জন্য একবার কলকাতারই এক ইমাম ৫০ হাজার টাকা পুরস্কার ঘোষণা করেছিলেন। তসলিমার এক ‘বন্ধু’ তার মুখে কালি মাখালেও সেই ৫০ হাজার টাকা দেননি বলে টুইট করেছেন ভারত ও বাংলাদেশে নিষিদ্ধ হওয়া উপন্যাস ‘লজ্জা’র এই লেখিকা। সনুর শব্দ দূষণের বিষয়ে মন্তব্যকে সমর্থন করে টুইটারে তসলিমা আরো লিখেছেন, যেকোনো ধর্মীয় কারণে শব্দদূষণ বন্ধ হওয়া উচিত। আজান সুন্দর হতেই পারে। কিন্তু ঘুমোনোর সময়, পড়াশোনা বা কাজের সময় কারও ইচ্ছা হতেই পারে তিনি আজান শুনবেন না। যদি প্রার্থনার জন্য উঠতে হয়, তাহলে ফোনে অ্যালার্ম দিয়ে রাখা উচিত বলে টুইট করেছেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, সুইডেন ও পরবর্তীতে ভারতের কোলকাতায় নির্বাসিত থাকা বিতর্কিত এই লেখিকা।

মানবকণ্ঠ/আরএ

One Response to "সনু নিগমের পক্ষে তসলিমা : ইমামরা মিথ্যাবাদী, ওরা টাকা দেবে না"

  1. Hasan   21/04/2017 at 8:58 AM

    Taslima please do not show your face in media as seeing your face makes me upset.

    Reply

Leave a Reply

Your email address will not be published.