সংস্কার হচ্ছে বিএনপির সহযোগী সংগঠনগুলো

সংস্কার হচ্ছে বিএনপির সহযোগী সংগঠনগুলোপুরো উদ্যোমে অঙ্গ সংগঠনগুলোকে সক্রিয় করতে সারাদেশে জেলা কমিটিগুলোকে নির্দেশ দিয়েছে বিএনপি। গত কয়েকদিন আগে তৃণমূলে এ ধরনের একটি ই-মেইল বার্তা পাঠিয়েছে দলটির কেন্দ্রীয় দফতর বিভাগ। বার্তা পাঠানোর পাশাপাশি সংগঠনগুলোর নেতাদের মুঠোফোনেও নির্দেশ দেয়া হয়। এমন বার্তা জানিয়েছেন দলটির দফতরের একজন দায়িত্বশীল ব্যক্তি। তিনি বলেন, ‘বিএনপিকে মাঠের রাজনীতি সক্রিয় করতে হলে নতুন আঙ্গিকে অঙ্গসংগঠনগুলোকে ঢেলে সাজানোর নির্দেশ দিয়েছে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।’

একইসঙ্গে বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতৃত্ব পরিবর্তনের প্রক্রিয়া শুরু করেছে দলটি। পর্যায়ক্রমে সব অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনকে নতুনভাবে আনতে চাইছে বিএনপির নেতারা। নতুন কমিটি গঠন ও পুরনো কমিটির হালনাগাদ করতে দলটির হাইকমান্ড বেশ তৎপর হয়েছেন গত এক সপ্তাহ থেকে। অপরদিকে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর বিএনপির সর্বস্তরে দল পুনর্গঠন ও অঙ্গসংগঠনগুলোর নতুন নেতৃত্ব তৈরির দাবি ওঠে। এরই ধারাবাহিকতায় অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনগুলোর নেতৃত্বে পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেয় বিএনপি।

এরই মধ্যে সম্প্রতি বিএনপিপন্থি আইনজীবীদের সংগঠন জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরাম ও চিকিৎসকদের সংগঠন ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ড্যাব) আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়েছে। শিগগিরই কাউন্সিলের মাধ্যমে জাতীয়তাবাদী কৃষক দল, ছাত্রদল, যুবদল, মৎস্যজীবী দল, সাংস্কৃতিক দল, শ্রমিক দল, জাতীয়তাবাদী দোকান মালিক সমিতি দল, জাতীয়তাবাদী ওলামা দলের নেতৃত্বেও পরিবর্তন আনতে হাত দিয়েছে দলটির শীর্ষ নেতারা।

তারা মনে করেন এ মুহূর্তে কমিটিগুলোকে নতুনভাবে ঢেলে সাজাতে হবে। তা না হলে বিএনপির অঙ্গ সংগঠনগুলো দুর্বল হয়ে পড়বে। অন্যদিকে এভাবে কৃষিবিদ ও প্রকৌশলীদের সংগঠনের নতুন কমিটি ঘোষণা হবে। পর্যায়ক্রমে স্বল্প সময়ের মধ্যেই অন্যান্য অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনগুলোরও নতুন কমিটি গঠন করা হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

এ দিকে ২১ বছর আগের মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটি দিয়েই চলছে বিএনপির সহযোগী সংগঠন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী কৃষক দল। মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটি, পদ নিয়ে নেতাকর্মীদের মাঝে গ্রুপিংসহ বিভিন্ন কারণে সংগঠনটি এখন কঠিন সংকটে। বিএনপির যে কয়েকটি সহযোগী সংগঠন রয়েছে তার অন্যতম কৃষক দল। কৃষি ও কৃষকদের উন্নতির লক্ষ্যে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান কৃষক দল প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। তার ১৯ দফা কর্মসূচির মধ্যে ৫ নম্বরে বলা আছে, সর্বোচ্চ অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে কৃষি উন্নয়নের মাধ্যমে গ্রামীণ তথা জাতীয় অর্থনীতিকে জোরদার করা। কিন্তু কালের পরিক্রমায় ঐতিহ্যবাহী এ সংগঠনটির কার্যক্রম এখন কঠিন সংকটের মুখে। বর্তমানে অস্তিত্বহীন কৃষক দল। এ অবস্থায় কৃষক দলের তৃণমূল থেকে কেন্দ্র পর্যন্ত কাউন্সিলের মাধ্যমে নতুন নেতা নির্বাচন করা হবে। যে কোনো সময় কৃষক দলের কাউন্সিলের তারিখ ঘোষণা করা হতে পারে বলে সূত্র জানিয়েছে।

অপরদিকে ১৯৯৮ সালের ১৬ মে সংগঠনটির সর্বশেষ জাতীয় কাউন্সিল হয়। দলটির ঘোষণাপত্র এবং গঠনতন্ত্রের ৯ নম্বর ধারায় উল্লেখ আছে, জাতীয় কাউন্সিল হবে সংগঠনের সর্বোচ্চ সংস্থা। ২ বছরে একবার জাতীয় কাউন্সিল বা জাতীয় সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। দুই মাসের এবং জরুরি অবস্থায় ১৫ দিনের নোটিশে জাতীয় কাউন্সিল অনুষ্ঠিত করা যাবে। সেই হিসেবে বর্তমান কমিটির মেয়াদ শেষ হয়েছে ২০ বছর আগে। ২০১৭ সালে একাধিকবার কাউন্সিলের তারিখ নির্ধারণ হলেও অদ্যাবধি কোনো কাউন্সিল করতে পারেনি কৃষক দল।

কৃষক দল সূত্র জানায়, ১৯৯৮ সালের ১৬ মে সম্মেলনের মাধ্যমে মাহবুবুল আলম তারাকে সভাপতি ও শামসুজ্জামান দুদুকে (বর্তমান ভাইস চেয়ারম্যান) সাধারণ সম্পাদক করে কৃষক দলের কমিটি গঠন করা হয়। ২০০১ সালে তারা দল থেকে বহিষ্কৃত হলে সিনিয়র সহসভাপতি মজিবুর রহমানকে ভারপ্রাপ্ত সভাপতি করা হয়। ২০০৮ সালে তিনিও মারা যান। এরপর কৃষক দলের তৎকালীন আরেক সহসভাপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে ভারপ্রাপ্ত সভাপতি করা হয়েছিল। ২০১৬ সালের ১৯ মার্চ দলের ষষ্ঠ জাতীয় কাউন্সিলের পর তিনি বিএনপির মহাসচিব নির্বাচিত হন। এরপর কৃষক দলের ভারপ্রাপ্ত সভাপতির পদ থেকে অব্যাহতি চেয়ে দলের চেয়ারপার্সনের কাছে তিনি চিঠি লেখেন। সেই থেকে কৃষক দলের সভাপতির পদটি শূন্য।

সংগঠনের একাধিক সূত্র থেকে জানাগেছে, বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান মোহাম্মদ শাহজাহান ও শামসুজ্জামান দুদুকে শীর্ষ পদে রেখেই কৃষক দলের নতুন কমিটি গঠনের আলোচনা চলছিল। এখন দু’জনই বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান। দলের ষষ্ঠ জাতীয় কাউন্সিলের সিদ্ধান্ত মোতাবেক বিএনপিতে এক নেতার এক পদ নীতি বাস্তবায়ন শুরু হয়। সেক্ষেত্রে এ দু’জন নেতার কৃষক দলে আসার সম্ভাবনা ক্ষীণ। বর্তমানে কৃষক দলের নতুন কমিটি গঠনের ব্যাপারে কঠোর অবস্থানে বিএনপির হাইকমান্ড। তবে দীর্ঘ দিন ধরে সংগঠনের সাধারণ সম্পাদকের পদে থাকায় শামসুজ্জামান দুদুকে সংগঠনের শীর্ষ পদে রাখার দাবি জানান অনেকেই।
কৃষক দলের নেতৃত্বে আসার জন্য কাজ করে যাচ্ছেন বিএনপি ও কৃষক দলের বেশ কয়েকজন নেতা। এদের মধ্যে শীর্ষ পদের জন্য ঢাকা মহানগর বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব ও বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা মো. আবদুস সালাম, বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা আতাউর রহমান ঢালী, সহ-প্রচার সম্পাদক আমিরুল ইসলাম খান আলিম, বিএনপি নেতা শামীমুর রহমান শামীম, মাহমুদুর রহমান সুমন, কৃষক দলের নেতা এ কে এম মোয়াজ্জেম হোসেন, নূর আফরোজ জ্যোতি, মো. শাহজাহান মিয়া সম্রাট, তকদির হোসেন জসিম, মো. মাইনুল ইসলামসহ কয়েকজনের নাম শোনা যাচ্ছে। কৃষক দলের বর্তমান কমিটির অনেকেই গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে আসতে পারেন বলে জানা যায়।

কৃষক দলের কার্যক্রম সম্পর্কে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু সাংবাদিকদেরকে বলেন, ‘অনেক দিন হয়েছে কৃষকদলের কোনো কাউন্সিল হয়নি। আমরা এ ব্যাপারে কাজ করছি। আমরা তৃণমূল থেকে কমিটি পুনর্গঠনের কাজ শুরু করব। ইউনিয়ন, থানা বা উপজেলা ও জেলা কমিটি শেষ করে কেন্দ্রীয়ভাবে কৃষক দলের জাতীয় সম্মেলন হবে। এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি গ্রহণ করেছি। দলের ভেতরের বিভিন্ন স্তরের নেতাদের সঙ্গে আলোচনা চলছে।

যদি সরকারের কোনো রোষানলে না পড়ি তাহলে তিন মাসের মধ্যেই কৃষক দলের কাউন্সিল সম্পন্ন করতে পারবেন বলে তিনি প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন। অন্যদিকে শিগগিরই নতুন কমিটি গঠন হতে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের। বিএনপির একজন সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক জানান, শিগগিরই ছাত্রদল, যুবদলসহ সব অংগঠনগুলোর নতুন কমিটি গঠিত হবে। কমিটি গঠনের সঙ্গে থাকবে নতুনত্ব। এ নিয়ে সিরিয়াসলি কাজ করছে বিএনপির শীর্ষ নেতারা।

মানবকণ্ঠ/এএম

Leave a Reply

Your email address will not be published.