সংরক্ষিত এমপি হিসেবে পান্নাকে চান কিশোরগঞ্জবাসী

রাজনীতিক, সাংবাদিক ও সাহিত্যিক হিসেবে খ্যাতি পাওয়া জান্নাতুল ফেরদৌস পান্নাকে একাদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত মহিলা আসনের এমপি হিসেবে চান কিশোরগঞ্জবাসী। রাজনীতিতে একনিষ্ঠতা আর সদ্ব্যবহারে মাধ্যমে ঈর্ষণীয় জনসমর্থন আদায় করে নিজেকে অন্যন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছেন এই নারী। সদ্য সমাপ্ত একাদশ সংসদ নির্বাচনে কিশোরগগঞ্জের পাকুন্দিয়া থানা মহিলা আওয়ামী লীগের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালনকারী মাঠের এই নেত্রীর কঠোর আত্মত্যাগ তাকে বর্ষীয়ান রাজনীতিক সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের যোগ্য রাজনৈতিক উত্তরসুরি হিসেবে পরিচিতি এনে দিয়েছে। যে কারণে আশরাফের প্রতি দলের সম্মান প্রদর্শনের জন্য হলেও তার এলাকার মেয়ে পান্নাকে এমপি হিসেবে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন দেয়া উচিত বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর ও বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের হিউম্যান রাইটস অব বাংলাদেশের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট মুখলেছুর রহমান বাদল বলেন, পান্না অনেক ছোট বেলা থেকে রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। সে আওয়ামী পরিবারের সন্তান। একাত্তরে তার পরিবার মুক্তিযোদ্ধোদের দেখভালের দায়িত্ব পালন করেছে। একাত্তরে তার দাদার বাড়িতে দীর্ঘ তিন মাস শতাধিক মুক্তিযোদ্ধাকে থাকা, খাওয়া ও নিরাপত্তা দিয়েছে। তাছাড়াও জান্নাতুল ফেরদৌস পান্না সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের একনিষ্ট কর্মী হিসাবে এক দশকেরও বেশী সময় কাজ করেছে। তাকে সংরক্ষিত আসনে নমিনেশন দিলে এলাকার উপকার হবে। এলাকার মানুষ তাকে অত্যন্ত সম্মানের দৃষ্টিতে দেখে। আমি তাকে নমিনেশন দেয়ার পক্ষে।

কিশোরগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের দফতর সম্পাদক ও কিশোরগঞ্জ জেলা কৃষক লীগের সভাপতি আহমেদ উল্লাহ জান্নাতুল ফেরদৌস পান্না সম্পর্কে বলেন, পান্না অনেক ভালো একজন নেত্রী। সর্বন্তরের জনগণ তাকে ভালবাসে। আর পান্না নির্বাচিত হলে এলাকার মানুষের জন্য ভালই হবে। আমার জানা মতে, রাজনীতি করতে গিয়ে বেশ কয়েকবার প্রতিপক্ষের আঘাত সহ্য করেছে। তার বাড়িতে বিএনপি জামায়াতের লোকজন দুইবার হামলা করেছে। তাকে শারীরিকভাবে নির্যাতন করেছে। আমি পান্নাকে ছোটবেলা থেকেই চিনি। অত্যন্ত বিনয়ী, রুচিশীল একজন নেত্রী। শিক্ষাগত যোগ্যতাও অনেক।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, পান্নাকে সংরক্ষিত আসনের এমপি হিসাবে নির্বাচিত করলে পাকুন্দিয়া কটিয়াদীর মানুষ উপকৃত হবে। কারণ সে একজন লেখক মানুষ। মানুষের দুঃখে সব সময়ই পাশে থাকার চেষ্টা করে। সংরক্ষিত আসনে তাকে নমিনেশন প্রদানে আমি জোর সুপারিশ করছি।

পাকুন্দিয়া থানা আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক ওবায়দুল্লাহ বলেন, পান্না প্রার্থী হিসাবে ভাল। শিক্ষিত ও মার্জিত। সকলের নিকট গ্রহণযোগ্য প্রার্থী। পান্নাকে যদি নমিনেশন দেয়া হয় আমরা তার হয়ে কাজ করব। পাকুন্দিয়াবাসীর পক্ষে আমি তাকে নমিনেশন দেয়ার কথাই বলব।

পাকুন্দিয়া থানা আওয়ামী লীগের যুগ্ম আহ্বায়ক রফিকুল ইসলাম রেনু বলেন, পান্না অত্যন্ত ভাল মেয়ে। পাকুন্দিয়া মহিলা আওয়ামী লীগের সভাপতি হিসাবে দায়িত্ব পালন করছে। সম্প্রতি একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পাকুন্দিয়া মহিলা আওয়ামী লীগের নেতাদের নিয়ে তৃণমূল পর্যায়ে অক্লান্ত পরিশ্রম করেছে। কিশোরগঞ্জ-২ আসনের নৌকার বিজয়ে তার অনেক ভূমিকা রয়েছে। আমি তাকে সংরক্ষিত আসনে নমিনেশন দেয়ার পক্ষে।

পাকুন্দিয়া কৃষকলীগের সভাপতি এম. এ. আওয়াল বলেন, এটা খুবই ভাল। উনার মতো একজন সক্রিয় ব্যক্তি যদি এমপি হয় তবে এলাকার মানুষের অনেক উন্নতি হবে। উনি একজন প্রগতিশীল রাজনীতিবিদ। সকল শ্রেণীর মানুষ তাকে পছন্দ করে। এলাকার সকল মানুষের কাছে তার গ্রহণ যোগ্যতা আছে। পান্না আপাকে সংরক্ষিত আসনের এমপি হিসাবে আমরা পাকুিন্দয়া কৃষকলীগের পক্ষে অনুরোধ জানাই।

পাকুন্দিয়া যুবলীগের আহ্বায়ক ও পাকুন্দিয়া ডিগ্রি কলেজের সাবেক ভিপি হেলাল উদ্দিন বলেন, পান্না অত্যন্ত সৎ ও পরিশ্রমী। তাকে আমি অনেক ছোট থেকেই জানি। আমার সঙ্গে ছোট বেলা থেকেই রাজনীতি করে। একজন পরিচ্ছন্ন রাজনীতির মানুষ হিসাবে আমি পান্নাকে সংরক্ষিত আসনের এমপি হিসাবে দেখতে চাই। এবং তাকে নমিনেশন প্রদানের জন্যে জোর দাবি জানাচ্ছি।

পাকুন্দিয়া মহিলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক খালেদা আক্তার এক প্রতিক্রিয়ায় বলেন, পান্না আপার হাত দিয়ে আমাদের পাকুন্দিয়ার নারীরা ঘর থেকে বের হয়েছে। রাজনীতি করছে। পান্না আপার নেতৃত্বে পাকুন্দিয়ায় কয়েক হাজার নারী ১০টি ইউনিয়নে কাজ করছে। আজ পর্যন্ত পান্না আপার সততা নিয়ে আমাদের কোন কর্মী প্রশ্ন তুলতে পারেনি। পাকুন্দিয়া মহিলা আওয়ামী লীগের সকল কর্মীরা পান্না আপাকে অনেক ভালবাসে।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, পান্না আপা আমাদের আদর্শ। পান্না আপার নেতৃত্বেই আমরা কাজ করতে চাই। তাই একাদশ জাতীয় সংসদে পান্না আপাকে অবশ্যই এমপি হিসাবে দেখতে চাই। এটা আমাদের প্রাণের দাবি।

মানবকণ্ঠ/এফএইচ