সংবর্ধনার নামে লাভ-ক্ষতির হিসাব-নিকাশ

আওয়ামী লীগের বড় দুশমন তারা নিজেরা। বঙ্গবন্ধু আমল দেখা মানুষ আমরা। এই মহীরুহকেও তারা বুঝতে দেয়নি কোথায় কোন গোপনে ছিদ্র বড় হচ্ছিল। আমার মনে আছে তিনি গলায় দেয়া ফুলের মালা ছুড়ে দিতেন মানুষকে। ছুটে যেতেন রাস্তায় দাঁড়ানো আম-জনতার কাছে। তাঁর মতো নেতা বাংলাদেশে আর একজন জন্মাবে এই আশা এখনো স্বপ্ন। সেই মানুষটিকেও এরা নামিয়ে এনেছিল। স্তাবকতার একটা বড় দিক সত্য আড়াল করা। যারা এসব করেন তারা এই বিদ্যা খুব ভালোভাবে রপ্ত করেন। তাদের স্তাবকতা এত নিপুণ যে বোঝাই যায় না। শুধু আওয়ামী লীগ কেন দেশের সব জায়গায় সব সেক্টরে সব পরিবেশে চামচামি আর স্তাবকতার ছড়াছড়ি। একসময় সংস্কৃতি এর বিরুদ্ধে কথা বলত। মানুষকে আয়না হয়ে দেখিয়ে দিত এটাই তোমার আসল চেহারা। সে জায়গাটা এখন নষ্টের পথে। অভিভাবক বলে কেউ নেই। নাই অভিভাবকত্ব। রাজনীতি তো এমন এক জায়গায় এসে দাঁড়িয়েছে কে আসল আর কে কি করে কেউ জানে না। সেখানে পরপর দুবার দু’টার্ম শেষ করার পথে আওয়ামী নেতারা ধরাকে সরা মানবেন এটাই স্বাভাবিক।

এরা আসলে কি চায় নিজেরাও জানে না। এখন দেশে কার্যত কোনো বিরোধী দল নেই। ছাপোষা দল জাতীয় পার্টির এরশাদ সাহেব কোথায় থাকেন আর কি তার আদর্শ সেটা নিজেও জানেন না। পত্নী মানে লিগ্যাল পত্নীকে বিরোধী নেতা বানিয়ে উনি যা খুশি তা বলে বেড়ান। মূলত অদৃশ্য বিএনপিই বিরোধী দল। একসময় মুসলিম লীগ করা মানুষগুলো ছিল এ দলের ভিত্তি। বলাবাহুল্য, আমরা মানি বা না মানি সে কারণেই তারা জনমনে জায়গা নিতে পেরেছিল। দল হিসেবে আওয়ামী লীগের মতো উজ্জ্বল অতীত আর ইতিহাস নাই বলেই তারা পতিত। তাছাড়া সেসব পুরনো মানুষও আর নেই। এদলকে পরে কব্জা করেছিল জামায়াতীরা। সেখানেই তাদের মৃত্যু ঘণ্টা বাজে। যদিও এখনো সাইলেন্ট মেজরিটিতে তারা এগিয়ে।

অন্যদিকে গদীপাগল নেতারা বোঝেন না শেখ হাসিনা না থাকলে তাদের অবস্থা কি হতে পারে? কে না জানে দলের চেয়ে এখন নেত্রীর ইমেজ বড়। এটা তার অর্জন।

শেখ হাসিনা দুনিয়ায় সম্মানিত হয়েছেন তার কাজের কারণে। কয়েক বছর তার নেতৃত্ব আর প্রজ্ঞায় বাংলাদেশের উন্নয়ন এখন সবার চোখে পড়ছে। বলাবাহুল্য এর পেছনে তার দল আওয়ামী লীগের চাইতে জনগণের ভূমিকা অধিক। তারা তাকে নেতা মেনে না নিলে দল কিছু করতে পারত বলে মনে হয় না। যেবার বিএনপি জামায়াত ও জঙ্গিরা একজোট হয়ে মতিঝিলে ঝামেলা পাকাল রাতভর সে তাণ্ডব সামাল দিয়েছেন তিনি। পথে-ঘাটে পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর অন্যায় হামলায় মাথা থেঁতলে দেয়ার সময়ও তিনি যেভাবে তা সামাল দিয়েছেন তার কোনো তুলনা নেই। ঘরে বাইরে শত্রু ও স্তাবক পরিবেষ্টিত হওয়ার পরও তিনি একা লড়ছেন।

বিদেশে তার ভূমিকার দিকটা এখন গৌরবের। আমেরিকার পাগলা রাজাও তাকে আর সমীহ না করে পারে না। এশিয়া ইউরোপ সব জায়গায় শেখ হাসিনা আলোচিত। বিষয়টা এমন না এর কারণ দেশের রাজনীতি বা গণতন্ত্র। আসলে তিনি যেভাবে দুশমন দমন করে দেশ ও জনগণকে সামনে নিয়ে যাচ্ছেন সেটা অণুকরণীয়। বাংলাদেশের ইতিহাসও অতীতের পাপগুলো সাফ করার পাশাপাশি তিনি যে কোনো বিষয়ে এখন অনেক দৃঢ়। অতিসম্প্রতি আমাদের ওপর এক অমানবিক বোঝা চাপিয়ে দিয়েছে মিয়ানমার। রোহিঙ্গা নামের এই শরণার্থীর ঢল আমাদের অনেক কিছুকেই পেছনে নিয়ে যাবে। সমাজ ও দেশে শান্তি বা প্রগতির ও ক্ষতি হবে বৈকি। তারপরও তিনি এদের বুকে টেনে নিয়ে ভরসা দিয়েছেন। এমনও বলেছেন, ষোলো কোটি মানুষ খেলে তারাও খাবে। এমন কঠিন সময়ে তার এই সাহসী উচ্চারণ ও জাতিসংঘে সোজাসাপটা মিয়ানমারকে ফয়সালার কথা বলায় তিনি কাদের বিরাগভাজন হতে পারেন? এটা জানার পরও একদল মানুষ তিনি ও নোবেল শান্তি পুরস্কার নিয়ে মেতে উঠেছিল।

একটা কথা মনে রাখতে হবে, যত বড় আর যত ব্যাপক হোক না কেন নোবেল আগের জায়গায় নেই। যখন রবীন্দ্রনাথ পেয়েছিলেন তখন এর গুরুত্ব আর আজ এর ধারে বিশাল ফারাক। নোবেলজয়ী ড. ইউনূস অনেক সময় তার ভূমিকা রাখতে পারেননি। অন্যদিকে মিয়ানমারের সুচি নোবেল পেলেও এখন তার ভূমিকা প্রশ্নবিদ্ধ। তার হাতে রক্তের দাগ দেখে অনেকে সম্মাননা কেড়ে নিচ্ছে। একজন নোবেলজয়ীর জন্য এরচেয়ে বড় অপমান কিছুই হতে পারে না। আমরা ভুলিনি উপমহাদেশে শান্তির দূত নামে পরিচিত গান্ধীকে। তেরোবার মনোনীত হওয়ার পরও তাকে এই পুরস্কার দেয়া হয়নি। তাতে তার গৌরব একটুও কমেনি। বাঙালি ঋষি শ্রী অরবিন্দকেও দেয়নি এরা। তাতে কি আসে যায় আসলে?

আমার ধারণা, কট্টর লীগারদের মনে শেখ হাসিনার চাইতেও ইউনূস ভাবনাই বেশি কাজ করেছিল। তারা ভেবেছিল এবার একহাত নেয়া যাবে। শেখ হাসিনা এগিয়ে থেকেও এই পুরস্কার এবার না পাওয়াটা তার জন্য মঙ্গলের হয়েছে। এখন তার মাথার ওপর দায় অনেক। সেগুলো চুকিয়ে তিনি যখন বাংলাদেশকে নিয়ে মাথা তুলে দাঁড়াবেন তখন পুরস্কার নিজেই লজ্জিত হবে। শান্তি এখন অধরা। দুনিয়ায় এর জন্য লড়াই চলছেই। সেখানে ছোটদেশ হওয়ার পরও আমরা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে সামনে চলেছি। ভারত, চীন, আমেরিকা কেউ আর প্রভুর ভূমিকা নিতে পারে না। আছে দেয়া-নেয়ার হিসাব। যার মানে আমরাও দাতা। ফলে শেখ হাসিনাকে শান্তিতে দেশ চালাতে দেয়ার মতো বড় কোনো পুরস্কার এখন আর নেই। বিচারপতি নিয়ে বিতর্ক নানামুখী ষড়যন্ত্র আর বিপদ ভুলে রাজপথে শোডাউনের কোনো মানে নেই। মনে রাখা দরকার- জনগণ যেন তার সঙ্গে থাকে। এরাই তার শক্তি।

শান্তি পুরস্কারের চেয়েও বড় পুরস্কার তার নিরাপদ দেশ শাসন। এটাই যেন মেনে চলে তার দল। জনমনে তার আসনও পুরস্কার সমার্থক করে তোলা মানে তাকে বড় থেকে নামিয়ে আনা। তার হাতেই নিরাপদ আমরা।
লেখক : সিডনি প্রবাসী

মানবকণ্ঠ/এএস

One Response to "সংবর্ধনার নামে লাভ-ক্ষতির হিসাব-নিকাশ"

  1. Malek   13/10/2017 at 1:55 AM

    অজয় বাবুর কী বলতে চেয়েছেন, কিছু বুঝা গেল না I শুধু জামাত বিএনপি খারাপ, এই টুকু মালুম হইলো I অজয় বাবুরা বাংলাদেশকে কোথায় নিয়ে যেতে চান, একটু বুঝিয়ে বলুন I

    Reply

Leave a Reply

Your email address will not be published.