সংঘাত এড়াতে সতর্ক আওয়ামী লীগ

সংঘাত এড়াতে সতর্ক আওয়ামী লীগ

সময় যতই ঘনিয়ে আসছে, ততই তুমুল প্রচার-প্রচারণা শুরু করেছেন ঢাকা উত্তর-দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের কাউন্সিলর পদপ্রার্থীরা। প্রচারণা থেমে নেই মেয়র ও সংরক্ষিত কাউন্সিলরদের। সবাই এখন ব্যস্ত সময় পার করছে। অভিযোগ উঠেছে, আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনীত পদপ্রার্থী না থাকলেও গোপনে স্থানীয় এমপিরা নিজেদের আত্মীয়স্বজনের সমর্থন দিচ্ছেন। এবারের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ ও সরকারি দলের বিভিন্ন সহযোগী সংগঠন থেকে প্রার্থী রয়েছে। তবে এই নির্বাচনকে সামনে রেখে চতুর্মুখী সহিংসতার আশঙ্কা প্রকাশ করেন অনেক প্রার্থী। এরইমধ্যে কয়েকজন প্রার্থী প্রতিপক্ষের হুমকি-ধমকির ভয়ে নির্বাচনের মাঠ থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন বলেও জানা গেছে। তবে জীবনের নিরাপত্তার ভয়ে কেউই মুখ খুলছেন না।

এদিকে গত সোমবার নির্বাচনের আইনশৃঙ্খলা বিষয়ক কমিটির বৈঠক শেষে নির্বাচন কমিশন (ইসি) সচিবালয়ের সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ বলেছেন, নির্বাচন কমিশন ভবন নির্বাচন ঢাকা-উত্তর ও দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচনে ওয়ার্ড কাউন্সিলর পদপ্রার্থীরা যেন কোনো ধরনের গণ্ডগোল করতে না পারেন সেজন্য তাদের ওপর নজরদারি করবে এবং তাদের গতিবিধি অনুসরণ করবে নির্বাচন কমিশন। আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারি ঢাকা-উত্তর সিটির মেয়র পদে উপনির্বাচনের ভোটগ্রহণ করা হবে। একই সঙ্গে উত্তর ও দক্ষিণ সিটিতে নতুন যুক্ত হওয়া ৩৬টি ওয়ার্ডে সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। সচিব জানান, সিটি নির্বাচনে পুলিশের মোবাইল ফোর্স থাকবে ৯টি, স্ট্রাইকিং ফোর্স থাকবে ৬টি, র‌্যাবের মোবাইল টিম থাকবে ৯টি এবং বিজিবির মোবাইল টিম থাকবে ৯টি। এ ছাড়া আলাদাভাবে র‌্যাব ও বিজিবির কিছু মোবাইল টিম অপেক্ষমাণ বাহিনী হিসেবে থাকবে। নির্বাচনের শৃঙ্খলা রক্ষায় প্রয়োজনীয় সংখ্যক নির্বাহী ও বিচারিক হাকিম নিয়োজিত থাকবেন। আইনশৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীপ্রধানরা কমিশনকে আশ্বস্ত করেছেন, নির্বাচনে এমন কোনো পরিবেশ সৃষ্টি হবে না যার কারণে ভোটাররা ভোটকেন্দ্রে যেতে ভয় পাবেন।

দলীয় সূত্রে জানা যায়, আসন্ন ঢাকা-দক্ষিণ ও উত্তর সিটি কর্পোরেশন কাউন্সিলর, সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলর নির্বাচনে বিএনপি ও তাদের সহযোগী সংগঠন থেকে দলীয় প্রতীকে অংশ না নেয়া এবার সরকারি দল আওয়ামী লীগ এই দুটি পদ উন্মুক্ত রেখেছেন। নির্বাচনকে প্রতিযোগিতামূলক করতেই মেয়র ছাড়া বাকি পদ উন্মুক্ত রেখেছেন। এবারের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ ও সরকারি দলের সহযোগী অঙ্গসংগঠন থেকে প্রার্থী হয়েছেন একাধিক ব্যক্তি। প্রার্থীরা নিজেদের বিজয়ী করতে নির্বাচনে শক্তি প্রয়োগের প্রবণতা দেখা দিয়েছে। স্থানীয় নেতারা কারো পক্ষ না নেয়া সংগঠনগুলো বিভিন্নভাবে প্রচার-প্রচারণা চালাচ্ছেন। আওয়ামী লীগ প্রার্থী ও নেতাকর্মী এবং সমর্থকদের দিয়ে প্রচারণায়, যুবলীগ প্রার্থী ও নেতাকর্মী, ছাত্রলীগ প্রার্থী ও নেতাকর্মী এবং সমর্থক নিয়ে বিভিন্ন প্রচারণায় মাঠে রয়েছেন। যেহেতু অধিকাংশ প্রার্থী সরকারি দলের রাজনীতি করেন, এ কারণে নির্বাচনের দিন ও তার আগের দিন সহিংসতার আশঙ্কা দেখছেন স্থানীয় ভোটাররা।

এদিকে নির্বাচনকে সামনে রেখে বিভিন্ন এলাকায় চিহ্নিত সন্ত্রাসীরা এলাকায় আসতে শুরু করেছে। তবে এসব সন্ত্রাসী যাতে বিশৃঙ্খল পরিবেশ সৃষ্টি করতে না পারে সেদিকে সজাগ দৃষ্টি রাখছেন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। স্থানীয়দের ধারণা, কাউন্সিলর প্রার্থীরা প্রত্যেকেই নিজ নিজ এলাকায় প্রভাবশালী হওয়ায় নিজেদের বিজয়ী করতে সব ধরনের শক্তি প্রয়োগের চেষ্টা করবেন। এতে নির্বাচনের আগে-পরে বড় ধরনের সংঘাতের ঘটনা ঘটতে পারে।

এ বিষয়ে কথা হয় ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শাহে আলম মুরাদের সঙ্গে তিনি বলেন, সবারই ভোটার অধিকার রয়েছে। আর আওয়ামী লীগ এই পদটি উন্মুক্ত রেখেছেন। এতে সহিংসতা নয় বরং অবাধ-সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

এ বিষয়ে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক হেদায়েতুল ইসলাম স্বপন বলেন, নির্বাচন অবাধ-সুষ্ঠু করার দায়িত্ব নির্বাচন কমিশনের। তবে আওয়ামী লীগের এক কর্মী হিসেবে আমরা মনে করি অতীতের যে কোনো নির্বাচন থেকে এবারের সিটি নির্বাচন অনেক সুন্দর ও সুষ্ঠু হবে। তিনি বলেন, কোনো ওয়ার্ডে যাতে প্রার্থী ও সমর্থকদের মধ্যে গণ্ডগোল না হয়, সেদিকে আমাদের নজর আছে। একই সঙ্গে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত প্রত্যেক প্রার্থীকে বলে দেয়া হয়েছে, কেউ কারো প্রচার কিংবা নির্বাচনী কাজে বাধা হয়ে দাঁড়াবেন না।

মানবকণ্ঠ/এসএস