সংঘর্ষের পর চবি ছাত্রলীগের দুই নেতা বহিষ্কার

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (চবি) বহিষ্কৃত এক ছাত্রলীগ নেতাকে পরীক্ষায় অনুমতি না দেয়ায় পুলিশের সঙ্গে ছাত্রলীগের সংঘর্ষে পাঁচ পুলিশ সদস্যসহ ৪ সাধারণ শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার সকাল ১১টার দিকে সমাজবিজ্ঞান অনুষদের কেন্দ্রীয় পরীক্ষাকেন্দ্রের সামনে এ সংঘর্ষ হয়। এ সময় পুলিশ রকিবুল হাসান নামের এক শিক্ষার্থীকে আটক করে। ছাত্রলীগের এ অংশটি নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সিটি মেয়র আ জ ম নাছির ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিক্স গ্রুপের অনুসারী হিসেবে পরিচিত।

এদিকে এ ঘটনায় দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে চবি ছাত্রলীগের উপদফতর সম্পাদক মিজানুর রহমান বিপুল ও কার্যনির্বাহী সদস্য আবদুল্লাহ আল কায়সার শাকিলকে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করেছে। বহিষ্কারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন চবি ছাত্রলীগের সভাপতি মো. আলমগীর টিপু।
সংঘর্ষে আহতরা হলেন— পুলিশের এসআই মো. মহসিন আলী, কনস্টেবল ইমাম হোসেন, রফিকুল ইসলাম, আনোয়ার হোসেন ও শরিফুল ইসলাম এবং সাধারণ শিক্ষার্থী ২০১৩-১৪ শিক্ষাবর্ষের রায়হান, শাহানূর প্রিতম, নূর উদ্দিন ও মিসবাউল ইসলাম।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, গত বছরের ১০ অক্টোম্বর ছাত্রলীগের উপক্রীড়া সমপাদক মাহবুবুর শাহরিয়ার শাহীনকে কুপিয়ে আহত করার ঘটনায় যোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের ২০১২-১৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ও শাখা ছাত্রলীগের কার্যনির্বাহী সদস্য আবদুল্লাহ আল কায়সার শাকিলকে দুই বছরের জন্য বহিষ্কার করে প্রশাসন।
গতকাল বৃহস্পতিবার ছিল তার চতুর্থ বর্ষের স্নাতক ফাইনাল পরীক্ষা। কিন্তু বহিষ্কারাদেশ থাকায় কায়সারকে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে দেয়নি পরীক্ষা কমিটির সদস্যরা। এ ঘটনায় তার অনুসারী ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা সেখানে জড়ো হয়। তারা কায়সারকে পরীক্ষা দিতে না দিলে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে না বলে জানায়। তারা অন্য পরীক্ষার্থীদের বিভিন্নভাবে হুমকি ও বাধা দেয়। এ সময় পুলিশ ও প্রক্টরিয়াল বডির সদস্যরা পরীক্ষা নেয়ার চেষ্টা করলেও ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের বাধার মুখে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হতে পারেনি। একপর্যায়ে পুলিশ ছাত্রলীগ কর্মীদের ধাওয়া দিলে ছাত্রলীগ কর্মীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল ছুড়লে সংঘর্ষ বেধে যায়। উত্তেজিত ছাত্রলীগ কর্মীরা সমাজবিজ্ঞান ঝুপড়ির সামনে একটি ট্রাকসহ অনুষদের কয়েকটি জানালা ভাঙচুর করে।
পরে অনুষদের সামনে পরিস্থিতি শান্ত হলেও পরবর্তীতে বিশ্ববিদ্যালয়ের জিরো পয়েন্টের মূলফটকে তালা ও শাটল ট্রেনের পাঁচটি বগির হুসপাইপ কেটে দেয় ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের জন্য পুলিশ লাটিচার্জ করে। এ সময় ফটোকপি করা অবস্থায় রায়হান, শাহানূর প্রিতম, নূর উদ্দিন ও মিসবাউল ইসলাম নামের পাঁচ সাধারণ শিক্ষার্থী আহত হয়। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে রকিবুল হাসান নামে একজনকে আটক করে। সন্ধ্যায় এ রির্পোট লেখা পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের চলাচলের জন্য ব্যবহূত শাটল ট্রেন চলাচল বন্ধ রয়েছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে পরীক্ষা কমিটির চেয়ারম্যান মুহাম্মদ জাকারিয়া বলেন, অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার জেরে আমরা ৪০১নং কোর্সের পরীক্ষা স্থগিত করে দিয়েছি। পরবর্তীতে এ পরীক্ষার সময়সূচি জানানো হবে। এ ছাড়াও অন্যান্য পরীক্ষাসমূহ যথাসময়ে অনুষ্ঠিত হবে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর মোহাম্মদ আলী আজগর চৌধুরী বলেন, সকাল সাড়ে ৯টার দিকে যখন পরীক্ষার কক্ষ খুলে দেয়া হয় তখন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে দুই বছরের জন্য বহিষ্কৃত ছাত্র আবদুল্লাহ আল কায়সার শাকিলের নেতৃত্বে বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী পরীক্ষার্থীদের হলে ঢুকতে বাধা দেয়। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগেরও ফাইনাল পরীক্ষা ছিল একই পরীক্ষাকেন্দ্রে। শুধুমাত্র অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষার্থীদের হলে প্রবেশ করতে দেয় পরীক্ষায় বাধাদানকারী শিক্ষার্থীরা। পরে ঘটনাস্থলে পুলিশ পৌঁছে পরীক্ষায় বাধাদানকারী শিক্ষার্থীদের সরিয়ে দিতে চাইলে তারা পুলিশের সঙ্গে ধাক্কাধাক্কি করে। এ সময় দুই-তিনজন শিক্ষার্থী সামান্য আহত হয়।

মানবকণ্ঠ/এফএইচ