শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সুখ স্মৃতিকে কাজে লাগাতে চান মাহমুদউল্লাহ

ক্রীড়া প্রতিবেদক:
প্রতিপক্ষ হিসেবে শ্রীলঙ্কা আর শ্রীলঙ্কার মাটি মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের জন্য অম্ল মধুর স্বাদ হয়ে আছে। শ্রীলঙ্কার মাটিতে শততম টেস্ট খেলতে গিয়েছিল বাংলাদেশ। সিরিজের দ্বিতীয় টেস্ট ছিল সেটি। কিন্তু প্রথম টেস্ট খেললেও মাইলফলকের শততম টেস্ট আর খেলা হয়নি তার। কোচ হাথুরুসিংহের ‘বলি’ হয়েছিলেন। পরে একদিনের সিরিজেও তাকে দলে রাখা হয়নি। এমনকি দেশে ফেরত পাঠিয়ে দেয়ার সিদ্ধান্তও নিয়েছিল টিম ম্যানেমেন্ট। এ নিয়ে তুমুল হই চই আর সমালোচনা। হস্তক্ষেপ করেন বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন। ফলে ব্যাকফুটে যেতে বাধ্য হয় টিম ম্যানেজমেন্ট। একদিনের সিরিজে দলে না থাকলেও শ্রীলঙ্কায় থেকে গিয়েছিলেন। পরে খেলেছিলেন কুড়ি ওভারের সিরিজ। এই শ্রীলঙ্কার বিপক্ষেই এ বছরে শুরুতেই কুড়ি ওভারের নিদাহাস ট্রফিতে তার ব্যাটে ভর করেই বাংলাদেশ স্বাগতিকদের পেছনে ফেলে খেলেছিল ফাইনাল। এবার সেই শ্রীলঙ্কার বিপক্ষেই ৫০ ওভারের এশিয়া কাপ ক্রিকেট আসরের উদ্বোধনী ম্যাচেই মাঠে নামবে বাংলাদেশ। মাহমুদউল্লাহ শততম টেস্টের স্মৃতিকে পেছনে ফেলে সামনে নিয়ে এসেছেন নিদাহাস ট্রফির সাফল্যকে। এশিয়া কাপ খেলতে ৯ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ গিয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাত। সেখানে করছে শুধুই অনুশীলন। এর মাঝে মাহমুদউল্লাহ কথা বলেছেন এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিলের (এসিসি) ওয়েব সাইটে। সেখানে তিনি বলেন, ‘আমাদের দারুণ কিছু স্মৃতি আছে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে। এশিয়া কাপে আমি ব্যক্তিগতভাবে কিছু করার চেষ্টা করব। দলের জন্য অবদান রাখতে পারলে ভালো লাগে। দল জিতলে সেই ভালো লাগা আরো বেড়ে যায়। আমি যতটা সম্ভব ভালো পারফর্ম করতে চাই।’ প্রথম ম্যাচের প্রতিপক্ষ হিসেবে শ্রীলঙ্কা সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘শ্রীলঙ্কা শক্তিশালী দল। খুব ভালো ক্রিকেট খেলছে তারা। তাদের বিপক্ষে জিততে হলে আমাদের সেরাটা খেলতে হবে।’ নিজেদের প্রস্তুতি ভালো হয়েছে জানিয়ে মাহমুদউল্লাহ জানান এশিয়া কাপে ভালো কিছু তারা করতে পারবেন। অংশ্রগ্রহণকারী দলগুলো সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘সত্যি কথা বলতে, আসরের সবগুলো দলই এখন ভালো ক্রিকেট খেলছে। প্রতিটি দলই গুরুত্বপূর্ণ। স্বস্তিতে থাকার কোনো সুযোগ নেই।’ দলগুলোকে যথেষ্ট গুরুত্ব সহকারে দেখছেন বলেই মাহমুদউল্লাহ একটি একটি করে ম্যাচ নিয়ে ভাবতে চান। এগুতে চান।
সংযুক্ত আরব আমিরাতে গরম খুব বেশি। কিন্তু পেশাদার খেলোয়াড়ের কাছে কন্ডিশন কখনোই ফ্যাক্টর হতে পারে না। কন্ডিশনের সঙ্গে মানিয়ে নেয়াই পেশাদার খেলোয়াড়ের বৈশিষ্ট্য হওয়া উচিত। তিনি বলেন, ‘এই মুহূর্তে দুবাইয়ের আবহাওয়ায় আদ্রতা বেশি। অবশ্য একজন পেশাদার ক্রিকেটার হিসেবে এর সঙ্গে মানিয়ে চলতে হবে, খেলতে হবে। আবহাওয়ার ব্যাপারটাকে আমরা ইতিবাচকভাবে নিচ্ছি।’
ক্রিকেট খেলা যেখানেই বাংলাদেশ খেলতে যায়, সংযুক্ত আরব আমিরাতে এর আগে বাংলাদেশ একবারই খেলেছে ১৯৯৫ সালে। সেটিও ছিল এশিয়া কাপ ক্রিকেট। চার দলের আসরে বাংলাদেশ কোনো মাচ জিততে পারেনি। তখন বাংলাদেশ আবার টেস্ট মর্যাদা পায়নি। যে কারণে শক্তির দিক দিয়ে ছিল অনেক দুর্বল। এবার যখন খেলতে যাচ্ছে তখন বাংলাদেশ সমীহ জাগানো দল। লক্ষ্য শিরোপার দিকে। দর্শকরাও আসবেন বুক ভরা আশা নিয়ে। সেই সব সমর্থকদের উদ্দেশে মাহমুদউল্লাহ বলেন, ‘প্রচুর বাংলাদেশি থাকেন এখানে। যে কারণে এখানে আমরা অনেক বেশি সমর্থন পাব বলেই বিশ্বাস করছি। আশা করি আমরা তাদের জন্য ভালো কিছু করব।’