৩ মাসের বকেয়া বেতনের দাবিতে বিক্ষোভ

শ্রীপুরে বিক্ষুব্ধ শ্রমিকদের ওপর টিয়ারশেল, আহত ১৫

গাজীপুরের শ্রীপুরে ৩ মাসের বকেয়া বেতনের দাবিতে বিক্ষোভ করেছে শ্রমিকরা। রোববার সকালে উপজেলার মুলাইদ গ্রামে ইউনিয়ন গার্মেন্টস নামে এক পোশাক কারখানার শ্রমিকরা এ বিক্ষোভ করে। এ সময় বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা কারখানায় ভাংচুর চালায়। এক পর্যায় পরিস্থিতি শান্ত করতে টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে পুলিশ। এতে শিল্প পুলিশের এক সদস্যসহ স্থানীয় মাদ্রাসার শিক্ষার্থী ও আন্দোলনরত শ্রমিকদের মধ্যে অন্তত ১৫জন আহত হয়েছে।

কারখানার শ্রমিক ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, গত ৩ মাসের বকেয়া বেতন চলতি মাসের ৭তারিখে দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু ১২ তারিখ পর্যন্ত তা পরিশোধ না করায় শনিবার থেকে কারখানার প্রায় ১২শ শ্রমিক আন্দোলনে নামে। তারা কর্মবিরতি পালনসহ কারখানার বাইরে বিক্ষোভ করে। রোববার শ্রমিকদের সাথে কারখানা কর্তৃপক্ষের কথা কাটাকাটির জের ধরে কারখানায় ভাংচুর চালায় বিক্ষুব্ধরা। এ সময় ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে অবরোধ করতে যাওয়ার চেষ্টা করলে পুলিশের বাধার মুখে পড়ে শ্রমিকরা। পুলিশের বাধা ডিঙ্গিয়ে মহাসড়কের দিকে যাওয়ার সময় স্থানীয় ওয়াজেদ আলী নূরানিয়া হাফেজিয়া মাদ্রাসার সামনে গেলে পরিস্থিতি শান্ত করতে কয়েক রাউন্ড টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে পুলিশ। এতে শ্রমিক, মাদ্রাসার শিক্ষার্থী ও পুলিশের এক সদস্যসহ অন্তত ১৫জন আহত হয়। আহত তোফারেল ও বেলালকে স্থানীয় ক্লিনিকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়।

ইউনিয়ন গার্মেন্টস কারখানার উপ-ব্যবস্থাপক বজলুর রশিদ জানান, উৎপাদিত পণ্য শিপমেন্ট সমস্যা থাকায় শ্রমিকদের কিছু বেতন বকেয়া রয়েছে। সমুদয় বেতন ক্রমান্বয়ে ১৬তারিখের মধ্যে পরিশোধ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এ ঘোষণার পর কাজে ফিরে গেছে শ্রমিকরা।

গাজীপুর শিল্প পুলিশের গিভেন্সি ক্যাম্প ইনচার্জ সেলিম রেজা জানান, আন্দোলনরত শ্রমিকরা কারখানা ভাংচুর করেছে। তাদের শান্ত করতে চাইলে দুই পক্ষের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ায় শিল্প পুলিশের এক সদস্য আহত হয়েছে। তারা মহাসড়ক অবরোধ করতে চাইলে পরিস্থিতি শান্ত করতে টিয়ারশেল নিক্ষেপ করা হয়েছে। পরে কারখানা কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে বেতন পরিশোধের আশ্বাস পেয়ে শ্রমিকরা কাজে ফিরে গেছে। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে।

মানবকণ্ঠ/আরএ