শ্বশুর বাড়ির লোকজনের হাতে মার খেলেন হিরো আলম!

শ্বশুর বাড়ির লোকজনের হাতে মার খেলেন হিরো আলম!

পরকীয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্ত্রীকে পিটিয়ে আহত করায় শ্বশুর বাড়ির লোকজনের হাতে মার খেলেন এই সময়ে আলোচিত নায়ক আশরাফুর আলম ওরফে হিরো আলম (৩৫)। সোস্যাল মিডিয়ার জনপ্রিয় ও আলোচিত মুখ হিরো আলমের বিরুদ্ধে তার স্ত্রী সাবিহা আক্তার সুমি পরোকীয়ার অভিয়োগ তুলেছেন। অপরদিকে স্ত্রীর বিরুদ্ধে পরোকীয়ার পাল্টা অভিয়োগ তুলেছেন হিরো আলম। আহত সুমিকে মঙ্গলবার বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। মারধরের বিষয় অস্বীকার করে হিরো আলম পাল্টা শ্বশুর বাড়ির লোকজনের বিরুদ্ধে তাকে মারধর করা এবং তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে পরকয়ীয়ার অভিযোগ তুলেছেন। এই ঘটনা এলাকায় ব্যাপক আলোচনায় সৃষ্টি হয়েছে।

হিরো আলমের স্ত্রী সাবিহা আক্তার সুমি জানায়, ২-৩ মাস পরপর গ্রামে বাড়িতে আসে হিরো আলম। এসেই সে কারণে অকারণে তার স্ত্রীর উপর শারীরিক নির্যাতন করেন। হিরো আলম ঢাকায় কোনো মডেলকে বিয়ে করেছে। ঘটনার দিন মঙ্গলবার রাতে হিরো আলম দীর্ঘ সময় মোবাইলে কোন মেয়ের সঙ্গে কথা বলছে স্ত্রী সুমি বাধা দেয়। এতে হিরো আলম ক্ষিপ্ত হয়ে তার স্ত্রীকে মারধর করে। পরে স্বজনরা স্ত্রীকে উদ্ধার করে শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে।

হিরো আলমের স্ত্রী সুমি জানান, মাঝেমধ্যেই হিরো আলম তাকে মারধর করে। পরশু রাতে সে ঢাকা থেকে আসে। রাতের খাবারের পর মোবাইলে কোনো মেয়ের সঙ্গে কথা বলছিল। আমি নিষেধ করলে বলে আমি ১০টা মেয়ে নিয়ে ঘুরবো, যা ইচ্ছে তাই করবো। আমি ঢাকায় বিয়ে করেছি। এভাবে থাকতে পারলে থাকো না হলে চলে যাও। এর এক পর্যায়ে আলম তেড়ে ওঠে আমার ওপর। আমার গলা চেপে ধরে, শরীরের বিভিন্ন স্থানে মারপিট করে জখম করে। আমার ৩ ছেলে মেয়ে নিয়ে কোথায় যাবো।

হিরো আলমের শ্বশুর সাইফুল ইসলাম জানালেন, আশরাফুল হোসেন আলম থেকে হিরো আলম হয়ে যাওয়ার পর থেকেই হিরো আলমের আচার ব্যবহার পরিবর্তন হয়ে যায়। সে মাঝেমধ্যেই বাড়িতে অশান্তি করে। এ নিয়ে বেশ কয়েকবার পারিবারিকভাবে বিচার করা হলেও হিরো আলম ইদানিং আমার মেয়ের সঙ্গে বেশি দুর্ব্যবহার এবং মারধর করছে। মঙ্গলবারের ঘটনায় তার বাবাকে জানালে তিনি বলেন, আপনারা আপনার জামাইয়ের সঙ্গে কথা বলেন। তিনি আরো বলেন, আমরা হিরো আলমের বিরুদ্ধে থানায় মামলা করবো।
বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ফাঁড়ির ইনচআর্জ আব্দুল আজিজ মন্ডল বলেন, মঙ্গলবার রাত ৯টায় আহত অবস্থায় হিরো আলমের স্ত্রীকে ভর্তি করায় তার পরিবারের লোকজন। তার মাথা দিয়ে রক্ত ঝরছিল। সেখানে কাপড় বাধা ছিলো। শুনেছি হিরো আলম কারণে অকারণে প্রায় তার স্ত্রীকে মারধর করতো।

অভিযোগ অস্বীকার করে হিরো আলম বলেন, দু’চারটা চড় থাপ্পড় মেরেছি এটা কোনো বিষয় না যে তাকে হাসপাতালে ভর্তি হতে হবে। সংসার করতে গেলে ঝগড়া বিবাদ হবেই। কাজের সুবাদে আমাকে বাইরে যেতে হয়। আমি ১০ দিন, ১৫ দিন পরপর বাড়িতে আসি। আমি বিয়ে করেছি বলে গুজব ছড়ানো হচ্ছে। হিরো আলম বলেন, তার স্ত্রী পরকীয়ায় জড়িত। তার স্ত্রী তার কোন কথা শোনে না। এ বিষয়টি নিয়েই মূলত ঝগড়াঝাটি হয়।

সম্প্রতি তার শ্বশুর বাড়ির লোকজন হিরো আলমের ডিস ব্যবসা স্ত্রীর নামে লিখে দিতে বলেন। তিনি তাতে রাজি না হওয়ায় শ্বশুর বাড়ির লোকজন তাকে মারধর করে। তাকে ফাঁসাতেই আহত হওয়ার নাটক করে তার স্ত্রীকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে বলে দাবি করেন হিরো আলম।

মানবকণ্ঠ/এসএস