শেবাচিম হাসপাতালের কিডনি ইউনিট তালাবদ্ধ

শেবাচিম হাসপাতালের কিডনি ইউনিট তালাবদ্ধ

শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতালের কিডনি ইউনিট ২০ বছর ধরে বন্ধ রয়েছে। কোটি টাকা মূল্যের হেমোডায়ালাইসিস মেশিন বছরের পর বছর চাদর দিয়ে ঢেকে রাখা হয়েছে। ফলে মেশিনে জমেছে ধুলার স্তূপ। রোগীদের ৮টি বিছানাসহ কোটি কোটি টাকা মূল্যের চিকিৎসা সরঞ্জামাদি ব্যবহার না হওয়ায় মরিচা পড়েছে।

অভিযোগ পাওয়া গেছে, কতিপয় অসাধু চিকিৎসক নিজেদের ব্যবসায়িক স্বার্থে ডায়ালাইসিস মেশিন সচলে বাধা দিচ্ছে। কারণ হাসপাতালে কর্মরত এসব চিকিৎসকের রয়েছে নিজস্ব মালিকানাধীন কিডনি ডায়ালাইসিস সেন্টার। এই সেন্টারে চলছে জমজমাট চিকিৎসা বাণিজ্য।

মেডিকেলের প্রশাসনিক দফতর সূত্র জানায়, কিডনি সমস্যায় আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসা দেয়ার জন্য ১৯৯৭ সালে তৃতীয়তলায় কিডনি ইউনিট চালু করা হয়। ওই সময়ে নেফরোলজি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক জাহাঙ্গীর আলমকে ইউনিটের দায়িত্ব দেয়া হয়। ১৯৯৮ সালে ডা. জাহাঙ্গীর আলমকে রহস্যজনক কারণে বদলি করা হলে ইউনিটটি বন্ধ হয়ে যায়।

পরবর্তী এক বছরের মধ্যে ডা. দিলীপ কুমার বড়ুয়া, ডা. শামীম আহম্মেদ ও ডা. আবুল কাশেমকে কিডনি ইউনিটের দায়িত্ব দেয়া হলেও অজ্ঞাত কারণে কেউ ২-৩ মাসের বেশি সেখানে দায়িত্ব পালন করেননি। সবশেষ ১৯৯৯ সালের আগস্ট মাসে ডা. আবুল কাশেম বদলি হওয়ার পর একজন সহকারী রেজিস্ট্রার কিডনি ইউনিটের দায়িত্বে পালন করেছিলেন। কিন্তু পরবর্তীতে তিনি দায়িত্ব পালন করেন মেডিসিন ওয়ার্ডে। ওই সময় থেকেই চিকিৎসক সংকটে বন্ধ হয়ে যায় কিডনি ওয়ার্ডটি। আর সেটি চালু করা সম্ভব হয়নি। বছরের পর বছর তালাবদ্ধ অবস্থায় পড়ে থাকায় ওয়ার্ডটির ভেতরে প্লাস্টার খসে পড়তে শুরু করেছে। ময়লা-ধুলায় একাকার হয়ে আছে।

কিডনি ওয়ার্ডের সেবিকা ইনচার্জ হাসিনা মমতাজ জানান, ইউনিটটি পূর্ণাঙ্গভাবে চালুর জন্য ২০০২ সালে কোটি টাকা মূল্যের দুটি হেমোডায়ালাইসিস মেশিন স্থাপন করা হয়। এ মেশিনের সাহায্যে কোনো প্রকার কাটা-ছেঁড়া ছাড়াই ৫০০-৭০০ টাকা খরচে কিডনি রোগীদের ডায়ালাইসিস করা সম্ভব। মেশিন দুটি চালুর লক্ষ্যে ইউনিটের মধ্যে ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্লান্ট, দুটি এসি, দুটি ডায়ালাইসিস বেড, ৬টি পর্যবেক্ষণ বেড, সেবিকা ও চিকিৎসক ডিউটি রুম স্থাপন করা হয়। কিন্তু বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ও টেকনিশিয়ানের অভাবে আজ পর্যন্ত হেমোডায়ালাইসিস মেশিন দুটি চালু হয়নি।

তবে সম্প্রতি একজন টেকনিশয়ানকে দিয়ে হেমোডায়ালাইসিস মেশিন, ডিজিটাল রেডিওলজি মেশিন ও পানি শোধন মেশিনসহ প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করানো হয়। টেকনিশিয়ান জানিয়েছেন, যত দ্রুত মেশিনগুলো সচল করা হবে ততই ভালো। তা না হলে মূল্যবান এ মেশিনগুলো সচল করা সম্ভব হবে না। তার হিসেবে এক থেকে দেড় লাখ টাকার মধ্যে মেশিনগুলো সচল করে রোগীদের কাজে ব্যবহার করা সম্ভব হবে।

নাম প্রকাশ না করা শর্তে মেডিকেলের প্রশাসনিক দফতরের এক কর্মকর্তা জানান, মেডিকেলের কয়েকজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের মালিকানাধীন কিডনি ডায়ালাইসিস সেন্টারে চলছে জমজমাট চিকিৎসা বাণিজ্য। ওই চিকিৎসকদের ব্যবসায়িক স্বার্থেই বন্ধ রয়েছে কিডনি ইউনিটটি। ওই ইউনিট কোনো দিন চালু হবে বলে মনে হয় না বলে মন্তব্য করেন ওই কর্মকর্তা।

হাসপাতালের নেফরোলজি বিভাগের সহকারী রেজিস্ট্রার ডা. মানবেন্দ্র দাস বলেন, সম্প্রতি তিনি নিয়োগ পেয়েছেন। কিন্তু ডায়ালাইসিস মেশিনসহ অন্যান্য যন্ত্রপাতি সচল না থাকায় রোগীদের চিকিৎসা দেয়া সম্ভব হচ্ছে না। ইউরোলোজি বিভাগের প্রধান শরীফ শাহ জামাল জানান, ইউরোলোজি বিভাগ থাকলেও ওয়ার্ড না থাকায় সার্জারি বিভাগে সপ্তাহে ৫-৮ জন রোগীকে ভর্তি করে চিকিৎসা দেয়া হয়। ওই বিভাগেও রয়েছে চিকিৎসক সংকট।

দীর্ঘদিন ধরে কিডনি ওয়ার্ড তালাবদ্ধ থাকার বিষয়টি স্বীকার করে হাসপাতালের পরিচালক ডা. এসএম বাকির হোসেন বলেন, বিষয়টি সংশ্লিষ্ট দফতরকে অবহিত করা হয়েছে। তা ছাড়া আমাদেরও ইচ্ছা রয়েছে কিডনি ওয়ার্ডটি পুনরায় দ্রুত চালু করার।

মানবকণ্ঠ/এসএস

Leave a Reply

Your email address will not be published.