শুরুতেই সুশাসন ও স্বচ্ছতার পথে হাঁটছে সরকার

শুরুতেই সুশাসন ও স্বচ্ছতার পথে হাঁটছে সরকার

আওয়ামী লীগের দেয়া এবারের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুসারে দুর্নীতি রোধ, সুশাসন ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার কাজে শুরুতেই হাত দিয়েছে সরকার। এ লক্ষ্য সরকারের মন্ত্রীদের ‘অভিপ্রায়’ অনুযায়ী একান্ত সচিব (পিএস) নিয়োগের পথ বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। এই প্রথম প্রধানমন্ত্রীর স্বাক্ষরিত সার-সংক্ষেপে মন্ত্রীদের পিএস নিয়োগের আদেশ জারি করা হয়েছে। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়সহ বিভিন্ন সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

গত মঙ্গলবার মন্ত্রীদের একান্ত সচিব নিয়োগ প্রসঙ্গে জনপ্রশাসন সচিব ফয়েজ আহমেদ মানবকণ্ঠকে বলেন, মন্ত্রীদের অভিপ্রায়ের বাইরে সচিব নিয়োগ সম্ভবত এটাই প্রথম। দক্ষ ও সত্ কর্মকর্তাদের পিএস করা হয়েছে। সুশাসন প্রতিষ্ঠা, দুর্নীতিরোধ ও কাজে গতিশীলতা আনতে এই পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে।

সূত্র জানায়, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রশাসনে সুশাসন, স্বচ্ছতা ও সার্বিক কার্যক্রমে গতিশীলতা আনতে সরকারিভাবে মন্ত্রীদের পিএস নিয়োগের পদক্ষেপ নিয়েছেন। অতীতের মতো মন্ত্রীর অভিপ্রায়ে আর পিএস নিয়োগ হবে না। এই নিয়োগকে কেন্দ্র করে নানা সিন্ডিকেট কাজ করে। অনেক সময় মন্ত্রীরা নিজের পছন্দ অনুয়াযী পিএস নেন। কখনো নানা পক্ষের অনুরোধে মন্ত্রীরা তাদের পিএস নেন। এরফলে বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই মন্ত্রণালয়ে পিএসকে ঘিরে একটি দুর্নীতি অনিয়মের সিন্ডিকেট গড়ে ওঠে। এরফলে সরকারের সুশাসন প্রতিষ্ঠার কার্যক্রম শুরুতেই বাধার মুখে পড়ে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে জনপ্রশাসনের দায়িত্বশীল এক কর্মকর্তা মানবকণ্ঠকে বলেন, প্রধানমন্ত্রী মন্ত্রণালয়গুলোর কাজে স্বচ্ছতা আনতে পদক্ষেপ নিয়েছেন। এ কারণে সরকার গঠনের আগেই প্রধানমন্ত্রী দক্ষ, যোগ্য ও পেশায় সুনামধারী কর্মকর্তাদের বাছাই করে পিএস নিয়োগের তালিকা করার নির্দেশনা দেন। নানা প্রক্রিয়ার মধ্যে দিয়ে ৪৬ জন পিএস এর তালিকা করেছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। ওই তালিকার সারসংক্ষেপে সই করেছেন প্রধানমন্ত্রী। এ তালিকার বাইরে কোনো মন্ত্রী পিএস নিয়োগ করতে পারবেন না।

সরকারি প্রজ্ঞাপন ঘেঁটে দেখা গেছে, মন্ত্রীদের পিএস হিসেবে সবচেয়ে মেধাবী উপসচিবদের বেছে নেয়া হয়েছে। ৪৬ জনের তালিকায় ৫ জন ডক্টরেট কর্মকর্তা আছেন। এর মধ্যে রয়েছে কৃষি, অর্থ, শিক্ষা, পররাষ্ট্র, আইন ও পূর্তসহ কয়েকটি মন্ত্রণালয়।

অর্থমন্ত্রণালয়ে একটি সূত্র জানিয়েছে, অর্থমন্ত্রী আহম মুস্তফা কামালের সাবেক পিএস ফের নিয়োগ পাওয়ার প্রক্রিয়া প্রায় চূড়ান্ত করে ফেলে ছিলেন। মন্ত্রী প্রতিমন্ত্রী, উপমন্ত্রীদের পিএস নিয়োগের আদেশ জারি হাওয়ায় তা ঠেকে গেছে। অর্থমন্ত্রীর নতুন পিএস হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন স্থানীয় সরকারের উপসচিব ড. মোহাম্মদ ফেরদৌস আলম।

সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, পিএসদের কাজে যোগদানের আগেই তাদের প্রশিক্ষণ হবে। তাদের জন্য ১২ দফা গাইডলাইন তৈরি করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে— পিএস ও এপিএসের কাজ আলাদা করে দেয়া। যাতে কোনো ঘটনার দায় একে অন্য ঘাড়ে চাপাতে না পারেন। পিএসের কাজে এপিএস খামোখা মাথা ঘামাতে না পারেন। যে যার এরিয়ায় কাজ করবেন।

মন্ত্রীরা এবার কড়া নজরদারিতে থাকবেন, তা প্রধানমন্ত্রী তাদেরকে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন। এভাবেই সুশাসনের পথে হাঁটতে শুরু করেছে সরকার।

মানবকণ্ঠ/এসএস