শীতকালে খান নিয়ম মেনে

শীতকালে খান নিয়ম মেনে

আলু কিংবা রসুনের চপ। পেঁয়াজ আর বেসন দিয়ে তৈরি পেঁয়াজুই হোক বা বেগুনি। তেলেভাজার দোকানগুলোতে সারাবছরই মেলে এমনই সুস্বাদু খাবার। তবে, শীতকালে তেলেভাজার দোকানগুলোর মেনুতে যোগ হয় বাড়তি কিছু পদ। ধনেপাতা থেকে শুরু করে ক্যাপসিকামের চপ। ফুলকপির পকোড়াও বিকোচ্ছে দেদার।

তেলেভাজার দোকানগুলোতেই নয় শুধু, গৃহস্থের হেঁসেল থেকে শুরু করে নামি রেস্তোরাঁতেও একই পদ। শীতকালে খাদ্যতালিকায় যোগ হচ্ছে বাড়তি পদ। কারণ, শীতকালে হরেক রকমের আনাজে ছেয়ে যায় বাজার। তাই শীতকালে পকোড়া যেমন পাতে পড়ে, তেমনই রোজই পাতে পড়ে বিভিন্ন ধরনের শাকও। তবে, শীতকালীন আনাজ নির্ভয়ে খেতে বললেও নিয়ম মেনেই খাওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন ডায়েটিসিয়ানরা। তাদের বক্তব্য, নিয়ম না মেনে খেলে হতে পারে সমস্যা। আর নিয়ম মেনে চললে সমস্ত আনাজই খেতে পারেন খাদ্যরসিকরা।

মালদহের সিনিয়র ক্লিনিক্যাল ডায়েটিসিয়ান অদ্বিতীয়া দাশগুপ্ত বিশ্বাস বলেন, আমাদের অনেকের ধারণা, ফুলকপি বা মুলার মতো আনাজ খেলে গ্যাস হয়। অনেকে বিভিন্ন রোগের ভয়ে বহু আনাজ খান না। আসলে, অনেকে নিয়ম মেনে খান না বলেই সমস্যা হয়। টমেটো, পেঁয়াজকলি, কালো শিমের মতো আনাজ দৈনিক খেলে গ্যাসের সমস্যা, কোলেস্টেরলের মতো সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। তবে, খেতে হবে অল্প পরিমাণে। এ ছাড়া রান্না করার আগে আনাজ ভালো করে ধুয়ে নেয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন চিকিৎসকরা।

শীতকালে ফুলকপি, বাঁধাকপি, পেঁয়াজকলি, শিম, মুলা, গাজর, বরবটি, বিন, মটরশুঁটিসহ বিভিন্ন আনাজ বাজারে আসে। একই সঙ্গে পালং, ছোলা, মটর, সর্ষে শাকও বাজারে বিক্রি হয়। আর শীতকালে শাক-আনাজের জোগান অত্যন্ত বেশি থাকে।

রাসায়নিক মেশানো খাওয়ার বেশি পরিমাণে খেলে পেটের সমস্যা থেকে একাধিক রোগ হতে পারে বলে জানাচ্ছেন স্বাস্থ্য দফতরের কর্তারা। মালদহ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের ডেপুটি সুপার জ্যোতিষচন্দ্র দাস বলেন, রাসায়নিক মিশ্রিত আনাজপাতি খেলে পেটের সমস্যা হয়, বুক জ্বালা করে ঘুমও কম হবে। হতে পারে আরো অনেক ধরনের শারীরিক সমস্যাও। তাই রাসায়নিক সার যুক্ত আনাজ বর্জন করাই ভালো। তবে, সবারই বক্তব্য একটিই- শীতের আনাজ নিয়ম মেনে, নির্দিষ্টভাবে রান্না করেই খাওয়া উচিত। আনন্দবাজার।

মানবকণ্ঠ/এসএস