শীতকালীন ইনফ্লুয়েঞ্জা ঠেকানোর উপায়

শীতকালীন ইনফ্লুয়েঞ্জা ঠেকানোর উপায়

আবহাওয়া বদলের সঙ্গে সঙ্গে ভোল বদলে আমার-আপনার ঘরে হানা দিচ্ছে তীব্র তাপমাত্রা, হাঁচি-কাশি ও মাথা যন্ত্রণার উপদ্রব। সাধারণ জ্বরজারি বা শ্লেষ্মার কারণে হওয়া সারা বছরের চেনা ফ্লুকে চিনতে পারছেন না চিকিৎসকরাই! চারিত্রিক বদল ঘটিয়ে শরীরে হানা দেয়া এই ফ্লু নিয়ে নাজেহাল হতে হচ্ছে রোগী থেকে চিকিৎসক সবাইকেই।

ইনফ্লুয়েঞ্জার ভয় কেবল শীতে নয়, একপ্রকার সারা বছরই এই অসুখের জুজু তাড়া করে বেড়ায় আমাদের। তবে শীতে যে সব অসুস্থতার প্রকোপ ইদানীং খুবই বাড়ছে, তাদের মধ্যে অন্যতম ইনফ্লুয়েঞ্জা। সাধারণত, শীতকালের জ্বর মানেই আমরা ধরে নিই, সর্দি-কাশি ও ঠাণ্ডা লাগার সংক্রমণ থেকে ছড়িয়ে পড়া জ্বর। অচেনা চেহারায় হানা দেয়া ফ্লু’র শুরুটাও অনেকটা এরকমই। কিন্তু তার পরেই নিজের চরিত্র বদলে আচমকাই কোপ বসাচ্ছে আক্রান্তের শরীরে।

নতুন চেহারার এই ফ্লু’র কারণ কী? কী কী উপসর্গ দেখা যায় এতে? আছে না কি কোনো চটজলদি সমাধান ভোল বদলের এই ফ্লু নিয়েই কথা বললেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ সুবর্ণ গোস্বামী।

কেন হয়: সুবর্ণবাবুর কথায়, ‘ইনফ্লুয়েঞ্জা মূলত ভাইরাসের আক্রমণে ঘটে। এন এবং এইচ এই দুই উপাদানের নানা প্রকারভেদেই অসুখের চরিত্রবদল ঘটে। ইদানীং দেখা যাচ্ছে, এই এন ও এইচ দুই উপাদানের (প্রোটিনের গঠনভিত্তি উপাদানের নাম) বিন্যাস ও সমন্বয়গত তফাৎই নতুন নতুন ভাইরাসের জন্ম দিচ্ছে। পরিবেশের দূষণও শ্লেষ্মার কারণে ঘটা সংক্রমণ এর প্রধান কারণ। যার প্রভাবে ফ্লু’র জন্য আলাদা করে সরিয়ে রাখা ভ্যাকসিনও কোনো কাজে আসছে না।’

‘শিফ্ট’ ও ড্রিফ্ট’ দু’রকম পদ্ধতিতে চরিত্র বদলায় ইনফ্লুয়েঞ্জার ভাইরাস। দ্রুত বদলে যাওয়ার ধরনকে শিফ্ট ও ধীরে ধীরে বদলালে তা ড্রিফ্ট পদ্ধতিতে বদলায়। কিন্তু এই নতুন চরিত্রের ফ্লু ভাইরাসরা ক্রমাগত শিফ্ট পদ্ধতিতে বদলে যাওয়ায় তাদের সঙ্গে পাল্লা দিতে পারছে না প্রতিষেধক। যে কারণেই এই ফ্লু সারতে দীর্ঘ সময় নিচ্ছে। ওষুধ কাজ করতে না পেরে আরো জটিল হচ্ছে সমস্যা।

উপসর্গ: সাধারণ ইনফ্লুয়েঞ্জার মতোই এই অসুখেরও প্রাথমিক হানা জ্বর দিয়েই হয়। সঙ্গে গা-হাত-পায়ে ব্যথার সঙ্গে পেশিতে ব্যথা, অনেক সময় পেশির খিঁচও দেখা দেয়। চরিত্র বদলের ফলে শরীরের তাপমাত্রা অনেকটা বেড়ে যায় এবং প্যারাসিটামল জাতীয় ওষুধে সাময়িক কমলেও তা একেবারে ছেড়ে যায় না। ওষুধের প্রভাব কমলেই আবার কামড় বসায় জ্বর।

চিকিৎসা: জ্বরের ভ্যাকসিন দিয়েও এই অসুখ সারানো সমস্যা। তবু ভ্যাকসিন, প্যারাসিটামল ও পূর্ণ মেয়াদকাল জুড়ে প্রয়োজনীয় অ্যান্টিবায়োটিক দেয়াই এর চিকিৎসা। এ সব ছাড়া খুব একটা বিকল্পও কিছু নেই। জ্বর খুব বেড়ে গেলে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়াই শ্রেয়। শ্বাসকষ্ট এলে অক্সিজেন দিতে হবে।

এড়ানো যায় কীভাবে: ধুলো থেকে দূরে থাকুন। চার পাশে কারো হাঁচি-কাশি হলে তার থেকে দূরত্ব বজায় রাখুন। এই হাঁচি-কাশির সংক্রমণ থেকেই এই অসুখ সবচেয়ে বেশি ছড়াচ্ছে। শুধু মুখ বা নাক চাপা দিয়ে হাঁচলে-কাশলেই এর থেকে রেহাই মেলে না। ওই হাত দিয়ে কেউ কিছু স্পর্শ করার পর আপনিও তা ধরলে সেখান থেকেও ছড়াতে পারে অসুখ।

পুষ্টিকর খাবার, সবুজ শাক-সবজি ও মৌসুমি ফল রাখুন ডায়েটে। শরীরকে প্রয়োজনীয় পানি দিন। শীতকালে এমনিতেই পানি কম খাওয়া হয়। সে দিকে নজর রাখুন। আননন্দবাজার।

মানবকণ্ঠ/এসএস