শিশুসহ ৩ জেলায় ৩ জন নিহত

মানবকণ্ঠ ডেস্ক :
নওগাঁ, ঝালকাঠি ও চুয়াডাঙ্গায় সড়ক দুর্ঘটনায় শিশুসহ অন্তত ৩ জন নিহত হয়েছেন। গতকাল রোববার এসব দুর্ঘটনা সংঘটিত হয়। আমাদের প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর-
নওগাঁ: জেলার সাপাহারে মোটরসাইকেলের ধাক্কায় আনোয়ার হোসেন (১২) নামে এক স্কুলছাত্রের মৃত্যু হয়েছে। গতকাল দুপুরে উপজেলার খঞ্জনপুর-ভিওইল সড়কের খঞ্জনপুর বাজার এলাকায় এ দুর্ঘটনা সংঘটিত হয়। নিহত আনোয়ার হোসেন উপজেলার লালচান্দা গ্রামের জালাল উদ্দীনের ছেলে। সে ভিওইল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির ছাত্র।
এলাকাবাসী ও পুলিশ সূত্র জানায়, গতকাল দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে আনোয়ার হোসেন তার বাইসাইকেল নিয়ে খঞ্জনপুর বাজারে যাচ্ছিল। সাইকেল নিয়ে খঞ্জনপুর বাজার এলাকায় পৌঁছলে বিপরীত দিক থেকে আসা দ্রুত গতির একটি মোটরসাইকেল তাকে ধাক্কা দেয়। এতে সাইকেল ছিটকে রাস্তার পাশে পড়ে যায়। গুরুতর আহত অবস্থায় স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে সাপাহার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করে। সাপহার থানার ওসি শামসুল আলম শাহ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
ঝালকাঠি: জেলার রাজাপুরের আদর্শপাড়া (হাইজ্যাক মোড়) এলাকায় অটোরিকশা চাপায় রনি মুন্সি (৬) নামে এক শিশু নিহত হয়েছে। গতকাল সকালে রনির মা জাহানুর বেগমের চোখের সামনেই এ ঘটনা সংঘটিত হয়।
রনি উপজেলার পশ্চিম বাদুরতলা গ্রামের হারুন মুন্সির ছেলে। হারুন মুন্সি ঢাকায় রং মিস্ত্রীর কাজ করেন। রাজাপুর থানার ওসি শামসুল আরেফিন জানান, আদর্শপাড়া (হাইজ্যাক মোড়) এলাকার সোহাগ ক্লিনিক থেকে সামনের দোকানে যাওয়ার জন্য ওই শিশুসহ তার মা বের হন। ভাণ্ডারিয়া-রাজাপুর আঞ্চলিক মহাসড়ক পারাপারের সময় একটি বেপরোয়া অটোরিকশা শিশুটিকে চাপা দিলে শিশুরটির মাথায় আঘাতপ্রাপ্ত হয়ে থেঁতলে যায়। রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে রাজাপুর স্বাস্থ্য কেন্দ্রে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করে। পুলিশ এ ঘটনায় অটোরিকশাটিকে আটক করতে পারলেও চালক পালিয়ে যায়।
চুয়াডাঙ্গা: জেলার দামুড়হুদা উপজেলার জয়রামপুর শেখ পাড়ায় পাওয়ারটিলার পাখি ভ্যানকে ধাক্কা দিলে পাখি ভ্যান উল্টে দাউদ মহুরি (৭৫) নামে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। এ সময় তার ভাইয়ের ছেলে শহিদুল ইসলাম (৪৫) আহত হন। গতকাল বিকেল ৫টার দিকে এ দুর্ঘটনা সংঘটিত হয়।
নিহত দাউদ মহুরি দামুড়হুদা উপজেলার জয়রামপুর গাজীপট্টি পাড়ার মৃত ওসমান গাজীর ছেলে এবং আহত শহিদুল ইসলাম একই এলাকার বাবর আলীর ছেলে।
প্রত্যক্ষদর্শী সূত্র জানায়, বিকেলে দাউদ মহুরি ও তার ভাইয়ের ছেলে শহিদুল ইসলাম দামুড়হুদা বাজার থেকে বাজার করে পাখি ভ্যানযোগে বাড়ি ফিরছিলেন এ সময় উপজেলার জয়রামপুর শেখপাড়ায় পৌঁছলে বিপরীত দিক থেকে আসা ধানের বস্তা বোঝাই পাওয়ারটিলারের ধাক্কায় পাখি ভ্যান উল্টে যায় এবং পাওয়ারটিলারের বস্তা তাদের গায়ের উপর পড়লে ঘটনাস্থলেই দাউদ মহুরি নিহত হন। আহত শহিদুল ইসলামকে উদ্ধার করে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। দামুড়হুদা মডেল থানার ওসি আকরাম হোসেন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।