শিশুশ্রম নিষিদ্ধ করে শ্রমআইনের খসড়া অনুমোদন

শিশুশ্রম নিষিদ্ধ করে শ্রম আইনের খসড়া অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রসভা। এরফলে ১৪ থেকে ১৮ বছরের কিশোরা হালকা কাজ করার সুযোগ পাবে। যদি কেউ শিশু শ্রমিক নিয়োগ করে, তাকে ৫ হাজার টাকার অর্থ দণ্ড করা হবে। শ্রমিক স্বার্থকে প্রধান্য দিয়ে এ আইন করা হচ্ছে। সোমবার সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে মন্ত্রিসভার নিয়মিত বৈঠকে ‘বাংলাদেশ শ্রম (সংশোধন) আইন, ২০১৮’ এর খসড়া অনুমোদন দেয়া হয়। আগে ১২ বছরের শিশুরা হালকা কাজ করার সুযোগ পেত। প্রস্তাবিত আইনে শিশু শ্রমের কোন সুযোগ রাখা হয়নি।

বৈঠকের পরে মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম সাংবাদিকদের বলেন, শ্রমিকদের সুরক্ষা ও উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য ২০০৬ সালে প্রস্তাব আইন করা হয়। পরবর্তীতে ২০১৩ সালে ৯০টি ধারা সংশোধন হয়। আজকেও অনেকগুলো ধারা সংশোধনের কথা বলা হয়েছে। আইএলও কনভেনশন অনুযায়ী, সব কারাখানায় শ্রমবান্ধব পলিসি নিশ্চিত করতে আইনকে আপডেট করার প্রস্তুতি নেয়া হয়। তিনি বলেন, ‘আইনে আগে শাস্তি বেশি ছিলো, এখন কমানো হয়েছে, অনেক নতুন সুবিধা দেয়া হয়েছে।

শ্রমিকদের সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মতো উৎসব ভাতা প্রদান করার বিধান সংযোজন করা হয়েছে জানিয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, কোনো কারখানা বা প্রতিষ্ঠানের শ্রমিকদের তাদেও স্ব স্ব ধর্মীয় উৎসবের প্রক্কালে বিধি দ্বারা নির্ধারিত উৎসব ভাতা প্রযোজ্য।

মোহাম্মদ শফিউল আলম বলেন, কোনো প্রতিষ্ঠানে কর্মরত কোনো প্রাপ্ত বয়স্ক শ্রমিকের কাজের সময় এমনভাবে ব্যবস্থা করতে হবে যেন আহার ও বিশ্রামের বিরতি ছাড়া ১০ ঘণ্টার বেশি না হয়। তবে সরকার ব্যতিক্রম করলে পরিবর্তন করা যাবে।

উৎসব ছুটি নিয়ে বলা হয়েছে, কোনো শ্রমিককে উৎসবের দিনে কাজ করাতে পারবে। তবে এর জন্য তাকে এক দিনের বিকল্প ছুটি এবং দুই দিনের ক্ষতিপূরণমূলক মজুরি দিতে হবে। শ্রমিকরা ইচ্ছা করলে যৌথ দর কষাকষির মাধ্যমে সাপ্তাহিক ছুটির দিনে কাজ করে পরবর্তীতে সাপ্তাহিক ছুটি উৎসব ছুটির সঙ্গে ভোগ করতে পারবেন। সেক্ষেত্রে সাপ্তাহিক ছুটির দিনের কাজের জন্য ভাতা প্রদান করা হবে না।

প্রতিবন্ধী শ্রমিকদের বিষয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব জানান, প্রতিবন্ধী শ্রমিকদের বিপজ্জনক যন্ত্রপাতির কাজে বা ঝুঁকিপূর্ণ কাজে নিয়োগ করা যাবে না। আগে শিশু শ্রমিককে বিপজ্জনক কাজে শর্ত সাপেক্ষে নিয়োগ করার বিধান ছিল। সেটাকে সংশোধন করে প্রতিবন্ধী শ্রমিকের কথা বলা হয়েছে।

নারী শ্রমিকদের ব্যাপারে নতুন ধারা যুক্ত করা হয়েছে জানিয়ে তিনি জানান, কোনো মহিলা শ্রমিক সন্তান প্রসবের প্রমাণ পেশ করার পরবর্তী তিন কর্ম দিবসের মধ্যে উক্ত সময়ের জন্য প্রদেয় প্রসূতি কল্যাণ সুবিধাসহ প্রসব পরবর্তী ৮ সপ্তাহ পর্যন্ত অনুপস্থিত থাকার অনুমতি পাবেন। অর্থাৎ মাতৃকালীন ছুটির মতো সুবিধা ভোগ করতে পারবেন। কোনো মালিক কোনো মহিলাকে প্রসূতি কল্যাণ সুবিধা থেকে বঞ্চিত করলে ২৫ হাজার টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ডে দণ্ডিত হবেন।

মানবকণ্ঠ/এফএইচ