শিল্প মন্ত্রণালয়ের ছোট কাজেও বড় দেরি

শিল্প মন্ত্রণালয়ের ছোট কাজেও বড় দেরি

বিসিকের চারটি উন্নত ও কার্যকর নৈপুণ্য বিকাশ কেন্দ্রের পুনর্নির্মাণ ও আধুনিকায়ন তিন বছরে শেষ হওয়ার কথা। কিন্তু নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তা তো হলোই না বরং এ কাজের জন্য আরো দুই বছর সময় লাগবে বলে জানা গেছে। অর্থাৎ ২০১৯ সালের ডিসেম্বরে শেষ হওয়ার কথা রয়েছে এ কাজের। এ জন্য শিল্প মন্ত্রণালয় থেকে প্রকল্পটির সংশোধনের অনুমোদনের জন্য পরিকল্পনা কমিশনে প্রস্তাব পাঠিয়েছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে শিল্প মন্ত্রণালয়ের ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প কর্পোরেশন-বিসিক। সংশ্লিষ্ট সূত্রে তা জানা গেছে।

সূত্র জানায়, দক্ষ জনশক্তি সৃষ্টি করতে ১৯৮০ থেকে ৮৫ সালে দেশের বিভিন্ন জেলায় ১৪টি এবং ১৯৯৭ থেকে ২০০২ সালে গোপালগঞ্জে একটি নৈপুণ্য বিকাশ কেন্দ্র স্থাপন করা হয়। এসব নৈপুণ্য বিকাশ কেন্দ্রে বিভিন্ন ট্রেডে প্রশিক্ষণ প্রদান করে দক্ষ জনশক্তি সৃষ্টিসহ উৎপাদন বৃদ্ধি এবং পণ্যের গুণগতমান বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। কিন্তু নির্মাণের দীর্ঘ সময় পার হয়ে যাওয়ায় এসব প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের অবকাঠামোসহ প্রশিক্ষণ যন্ত্রপাতিগুলো প্রায় ব্যবহার অযোগ্য হয়ে পড়েছে। অথচ ৪টি নৈপুণ্য বিকাশ কেন্দ্রের পুনর্নির্মাণ ও আধুনিকায়নের মাধ্যমে প্রশিক্ষণার্থীদের প্রশিক্ষণের উপযুক্ত পরিবেশ সৃষ্টির কথা বলা হয়।

তাই প্রতিযোগিতামূলক অর্থনীতিতে দক্ষ জনশক্তির চাহিদা মেটাতে শিল্প মন্ত্রণালয় থেকে একটি উদ্যোগ নেয়া হয় এসব বিকাশ কেন্দ্রের মেরামত, পুনর্বাসন ও আধুনিকায়নের। এরই অংশ বিশেষ ‘বিসিকের ৪টি নৈপুণ্য বিকাশ কেন্দ্রের পুনর্নির্মাণ ও আধুনিকায়ন’ শীর্ষক একটি প্রকল্প তৈরি করা হয়। যা ২০১৫ সালের জানুয়ারি থেকে ২০১৭ সালের ডিসেম্বরে বাস্তবায়নের জন্য পরিকল্পনামন্ত্রী ২০১৫ সালের ২০ মে অনুমোদন দেন। বিসিকের সম্ভাব্যতা সমীক্ষার ভিত্তিতেই গোপালগঞ্জ জেলা, পাবনা, কুমিল্লা ও নরসিংদী জেলায় এসব নৈপুণ্য কেন্দ্র আধুনিকায়ন করার জন্য বলা হয়। সম্পূর্ণ সরকারি ব্যয়ে এটি করা হচ্ছে। তাতে ধরা হয়েছে ২০ কোটি টাকা।

প্রকল্পের প্রধান কাজ হচ্ছে- গোপালগঞ্জে ৬০০ বর্গমিটারের ভবন নির্মাণ করা, পাবনায় ২ হাজার ৮০০ বর্গমিটার, কুমিল্লায় ২ হাজার ৭০০ বর্গমিটার এবং নরসিংদীতে ২ হাজার ৭৮০ বর্গমিটার ভবন নির্মাণের কথা বলা হয়। এ ছাড়া ৪টি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের জন্য প্রশিক্ষণ যন্ত্রপাতি ক্রয়, ডরমিটরি, প্রশিক্ষণ কেন্দ্র ও প্রকল্প অফিসের জন্য আসবাসপত্র কেনার সিদ্ধান্ত হয়। এসব কাজ বাস্তবায়নের জন্য যাতায়াতের জন্য একটি যানবাহন ভাড়া করারও সিদ্ধান্ত হয়। তাতে ব্যয় ধরা হয়েছে ১৮ লাখ টাকা।

বর্তমানে দক্ষ জনশক্তির ওপর গুরুত্ব দেয়া হলেও এ প্রকল্পটির কাজে গতি ফিরে পায়নি। ভৌত অবকাঠামো নির্মাণে পাইলিংওয়ের আবশ্যকতা, প্রশিক্ষণ কার্যক্রমে ব্যয়ের সংস্থানসহ মূলধন খাতের কিছু কিছু খাতে ব্যয় বৃদ্ধি পাচ্ছে। তাই নির্দিষ্ট সময়ে কাজ করা যাচ্ছে। বাড়ানো হচ্ছে সময় ২০১৯ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত। সঙ্গে ব্যয়ও বাড়ছে ২৪ দশমিক ৬৫ শতাংশ বা ৪ কোটি ৯৩ লাখ টাকা। কারণ মূলে এর ব্যয় ধরা হয়েছিল ২০ কোটি টাকা।

সূত্র আরো জানায়, এত ছোট কাজেও অনেক সময় দেয়ার পরও বাস্তবায়ন হচ্ছে না। এটা যেন রেওয়াজ হয়ে গেছে। ছোট-বড় যে কোনো প্রকল্প হোক, সময় যতই দেয়া হোক সংশোধন করে সময় বাড়াতেই হবে। সঙ্গে ব্যয়ও বাড়ানো হচ্ছে। এতে একদিকে সরকারি অর্থের অপচয় হচ্ছে, অন্যদিকে সুবিধাভোগীরা পাচ্ছেন না সময়মতো সেবা। এর ফলে দক্ষ জনশক্তির অভাবে মোট দেশজ উৎপাদন-জিডিপিতে অবদান কমে যাচ্ছে। উপকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছে দেশ। এতে ভিশন ২০২১-এর লক্ষ্যমাত্রা অর্জনেও বিঘ্ন ঘটবে বলে বিশেষজ্ঞরা জানান।

মানবকণ্ঠ/এএএম/এসএস