শিক্ষার্থীদের আন্দোলন এক সপ্তাহ স্থগিত

নিরাপদ সড়ক আন্দোলনের কর্মসূচি আগামী ২৮ মার্চ পর্যন্ত স্থগিত ঘোষণা করেছেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। বুধবার বিকেলে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের (ডিএনসিসি) মেয়র আতিকুল ইসলামের সঙ্গে বৈঠকের পর আন্দোলনকারীরা তাদের এ সিদ্ধান্তের কথা জানান।

বৈঠক শেষে বিউইপির আন্দোলনকারীদের প্রতিনিধি ফয়সাল এনায়েত সাংবাদিকদের বলেন, অগ্রগতি দেখ যদি আমরা সন্তুষ্ট না হই, তাহলে আবার বিক্ষোভ শুরু হবে। দেশের কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠান চলবে না। সারা দেশের সকল শিক্ষার্থী তাতে অংশ নেবে। অনির্দিষ্টকালের জন্য ক্লাস বর্জন কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে, তবে সেটা ২৮ তারিখের পর।

তিনি বলেন, আবরার নিহত হওয়ার ঘটনার তদন্ত করে ৩০ দিনের মধ্যে অভিযোগপত্র দেয়া, সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধে ফুটব্রিজ, স্পিডব্রেকার নির্মাণসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়ে এক মাসের মধ্যে তার দৃশ্যমাণ অগ্রগতি সাধন এবং সুপ্রভাত পরিবহনকে আর কখনও রুট পারমিট না দেয়ার দাবি পূরণ করার প্রতিশ্রুতি তারা মেয়রের কাছ থেকে পেয়েছেন। এর ভিত্তিতে তারা অগ্রগতি দেখার জন্য সাত দিন সময় দিয়ে কর্মসূচি স্থগিত করছেন।

কর্মসূচি স্থগিতের ঘোষণা দিয়ে আন্দোলনকারীদের প্রতিনিধি দলটি প্রগতি সরণির বসুন্ধরা গেইটে শিক্ষার্থীদের অবস্থানে যান। ফয়সাল এনায়েত সেখানে বৈঠকের সিদ্ধান্ত জানিয়ে কর্মসূচি স্থগিতের ঘোষণা দেন। বিক্ষোভকারীদের একাংশ তাতে আপত্তি তুলে অবস্থান চালিয়ে যেতে চাইলেও ঘণ্টাখানেক আলোচনার পর সন্ধ্যা ৭টার দিকে শিক্ষার্থীরা রাস্তা ছেড়ে ফিরে যায় এবং প্রগতি সরণির ওই অংশে দিয়ে যানবাহন চলাচল শুরু হয়।

বসুন্ধরা গেইটের ওই জায়গাতেই মঙ্গলবার বিইউপির আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের প্রথম বর্ষের ছাত্র আবরার সুপ্রভাত পরিবহনের একটি বাসের চাপায় নিহত হন। তার পরপরই সেখানে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ শুরু করে বিইউপির শিক্ষার্থীরা। বুধবার সেই বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায়। আগের দিনের ঘোষণা অনুযায়ী বুধবার সকাল থেকেই শিক্ষার্থীরা নদ্দায় বসুন্ধরা গেইটে জড়ো হতে শুরু করেন। সাড়ে ৯টার দিকে তারা রাস্তায় অবস্থান নিয়ে শুরু করেন বিক্ষোভ। বিইউপির শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ (এআইইউবি), সিদ্ধেশ্বরী কলেজ এবং নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাও এদিন নদ্দার বিক্ষোভে যোগ দেন।

মানবকণ্ঠ/এফএইচ