শিক্ষামন্ত্রীর আশ্বাসে নন-এমপিওদের কর্মসূচি স্থগিত

শিক্ষামন্ত্রীর দীপু মনির আশ্বাসের পর অবস্থান কর্মসূচি এক মাসের জন্য স্থগিত করেছেন নন-এমপিও শিক্ষকেরা। রোববার বিকেলে দীপু মনি শিক্ষকদের মাঝে উপস্থিত হয়ে তাদের দাবি আদায়ের আশ্বাস দেয়ায় এ আন্দোলন স্থগিতের সিদ্ধান্ত নেন। শিক্ষক-কর্মচারী ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় কমিটির সভা শেষে করে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক বিনয় ভূষণ রায়।

তিনি বলেন, শিক্ষামন্ত্রী আমাদের মাঝে এসে এমপিওভুক্তির দাবি মেনে নেয়ার আশ্বাস দিয়েছেন। পাশাপাশি আগামীকাল শিক্ষামন্ত্রী আমাদের সঙ্গে বৈঠক করবেন। সেই বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আমাদের সাক্ষাতের বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করা হবে। বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীর কাছে জানাবেন বলে শিক্ষামন্ত্রী আমাদের কথা দিয়েছেন। তিনি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আমাদের সাক্ষাতের বিষয়টি নিশ্চিত করবেন বলেও জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, ‘যেহেতু শিক্ষামন্ত্রী আমাদের মাঝে এসে এমপিওভুক্তির দাবি পূরণে আশ্বস্ত করেছেন। তার প্রতি শ্রদ্ধা রেখে আমরা আগামী এপ্রিলের তৃতীয় সপ্তাহ পর্যন্ত আন্দোলন স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এ সময়ের মধ্যে আমাদের দাবি পূরণ না হলে সারা দেশ থেকে আবারো শিক্ষক-কর্মচারীরা ঢাকায় সম্মিলিত হয়ে কঠোর আন্দোলন করবে।’

এদিকে এমপিওভুক্তির দাবিতে আন্দোলনকারী শিক্ষকদের দাবি বাস্তবায়নের আশ্বাস দিয়ে বাড়ি ফিরে যাওয়ার আহ্বান জানান শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি। বেলা সাড়ে ৩টায় জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে উপস্থিত হয়ে শিক্ষামন্ত্রী এ আহ্বান জানান। এসময় তিনি বলেন, ‘আমি আপনাদের কষ্টের বিষয়টা জানি। এমপিওভুক্তি ছাড়া আপনারা কীভাবে জীবন-যাপন করেন সে খবরও আমার কাছে রয়েছে। নতুন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তিকরণ কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে।’

মন্ত্রী বলেন, ‘আমরা ইতোমধ্যে আবেদন গ্রহণ কার্যক্রম শেষ করেছি। যেহেতু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিও কার্যক্রম অর্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়, তাই এটি বাস্তবায়নে নানা প্রক্রিয়া প্রয়োজন রয়েছে। এ কারণে কিছুটা সময় নেয়া হচ্ছে।’

এদিকে প্রধানমন্ত্রীর সাক্ষাৎ না পেয়ে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে বসে ৫ম দিনের মতো অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন নন-এমপিও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীরা। দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আগত এসব শিক্ষক-কর্মচারীরা প্রেস ক্লাবের সামনের মূল সড়কের ওপর বসে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন। রাজপথের ধুলো-ময়লায় খোলা আকাশের নিচে শিক্ষক-কর্মচারীদের সঙ্গে বেশ কয়েকজন দুগ্ধজাত শিশুরও উপস্থিত লক্ষ্য করা গেছে। যদিও শিশুদের এ আন্দোলনের প্রয়োজনীয়তা জানা নেই, তবুও অভিভাবকরা বাধ্য হয়েই এসব শিশুদের নিয়ে উপস্থিত হয়েছেন বলে জানান।

মানবকণ্ঠ/এফএইচ