শিক্ষকতা থেকে রাজনীতির মাঠে রোকেয়া আখতার

শিক্ষকতা থেকে রাজনীতির মাঠে রোকেয়া আখতার

শিক্ষকতার সঙ্গে জড়িত ৩৫ বছর ধরে। একাগ্রভাবে প্রতিটি ক্লাসে তিনি হাজারো শিক্ষার্থী মাঝে বিতরণ করেছেন জ্ঞানের আলো। এরই ধারাবাহিকতায় জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে রাজনীতির মাঠেও নিজের অবস্থানকে সমুন্নত করেছেন। তিনি রোকেয়া আখতার। রাঙ্গামাটির যুব মহিলা লীগের সভাপতি হিসেবে তিনি বর্তমানে দায়িত্বপ্রাপ্ত। এ ছাড়া মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের একজন সদস্য হিসেবে রোকেয়া আখতার সংসদে সংরক্ষিত মহিলা আসনে প্রার্থী হতে চান। এর মাধ্যমে বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা গড়ার স্বপ্নকে বাস্তবায়ন করতে প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা কর্তৃক গৃহীত সব কর্মযজ্ঞে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের একজন একনিষ্ঠ কর্মী হিসেবে নিজেকে সমর্পণ ও দেশ-মানবতার সেবা করতে চান তিনি।

রোকেয়া আখতার বলেন, ১৯৭১ এ দশম শ্রেণির ছাত্রী থাকা অবস্থায় মুজিব বাহিনীর সদস্য হিসেবে অংশগ্রহণকারী একঝাঁক তরুণ মুক্তিযোদ্ধাদের আমি নানাভাবে সহায়তা প্রদান করি। সেই ছোটবেলা থেকেই বঙ্গবন্ধু আমার কাছে এক বিস্ময় ও আদর্শের নাম। কি করে তার সান্নিধ্যে থেকে কাজ করা যায় সেটা আমার আজীবনের স্বপ্ন। কিন্তু যুদ্ধ পরবর্তী সময়ে হঠাত্ বিয়ে হয়ে যাওয়া এবং পর পর তিনটি সন্তান হয়ে যাওয়ায় সক্রিয় রাজনীতি করার সুযোগ হয়নি। উপরন্তু সরকারি চাকরিতে যুক্ত হওয়ায় রাজনীতি করার স্বপ্ন স্বপ্নই রয়ে যায়। ১৯৮৪ থেকে ২০১৬ পর্যন্ত সময়টাতে চাকরির পাশাপাশি সবসময় ভেতরে ভেতরে বঙ্গবন্ধুর আদর্শে মানুষকে উজ্জীবিত করার চেষ্টা করেছি। ২০১৬ সালে শিক্ষকতা থেকে অবসর গ্রহণের সঙ্গে সঙ্গে কাল বিলম্ব না করে বাংলাদেশ মহিলা আওয়ামী লীগের সঙ্গে কাজ শুরু করি। একের পর এক সভা, সমাবেশ ও উঠান বৈঠকের মাধ্যমে আওয়ামী লীগের প্রতি সাধারণ মেয়েদের মাঝে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের কথা ছড়িয়ে দেয়ার চেষ্টা করি। ২০১৭ সালের নভেম্বর মাসে রাঙ্গামাটিতে প্রথমবারের মতো প্রধানমন্ত্রী ও বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনার নিজ হাতে গড়া সহযোগী সংগঠন যুব মহিলা লীগের জেলা শাখার যাত্রা শুরু হয়। সেখানে আমাকে আহ্বায়ক করে ১১ সদস্যের কমিটি গঠন করেন বাংলাদেশ যুব মহিলা লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক অপু উকিল ও জেলার নেতারা। তারই নির্দেশে ও সার্বক্ষণিক তত্ত্বাবধানে মাত্র সাড়ে তিন মাসের মধ্যে রাঙ্গামাটি জেলার ১০টি উপজেলায় যুব মহিলা লীগের আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়। পার্বত্য চট্টগ্রামে সে সময়টা ছিল বেশ অস্থিতিশীল। আওয়ামী নেতাকর্মীদের ওপর একের পর এক সন্ত্রাসী হামলা হচ্ছিল। তখন এই বিরূপ পরিস্থিতিতে আমি এক মুহূর্তও থেমে থাকিনি। যার ফলে মাত্র কয়েক মাসে ২০১৮ সালের এপ্রিলে যুব মহিলা লীগ রাঙ্গামাটিতে সম্মেলনের মাধ্যমে অধ্যাপক অপু উকিল ও জেলার নেতারা আমাকে রাঙ্গামাটি জেলা যুব মহিলা লীগের সভাপতির দায়িত্ব পদে নির্বাচিত করেন।

রোকেয়া আখতার আরো বলেন, ২০১৮তে রাঙ্গামাটি যুব মহিলা লীগের সভাপতির দায়িত্ব পাওয়ার পর পরই আমি প্রস্তুতি নিতে থাকি নির্বাচনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ও নৌকা মার্কার প্রতি এই জেলার সাধারণ মানুষের বিশেষ করে নারীদের আস্থা অর্জনের। রাঙ্গামাটির ১০ উপজেলায় জনসংযোগ তৈরি করতে আমি জীবনের ঝুঁকি নিয়ে নিরলসভাবে কাজ করে গেছি। এ সময় যুব মহিলা লীগের সকলকে সঙ্গে নিয়ে ইউনিট, ওয়ার্ড, ইউনিয়ন, উপজেলা ও জেলা কমিটির সঙ্গে নিবিড়ভাবে কাজ করেছি। পাশাপাশি সভা, সমিতি, মিটিং, মিছিল ও উঠান বৈঠক চলেছিল রাত-দিন। এর ফলে তৈরি হয়েছে প্রচুর কর্মী। বিশেষ করে নারী ভোটারের সংখ্যা বেড়েছে আশাতীত। জাতীয় নির্বাচনেও এর ব্যাপক প্রভাব লক্ষ্য করা যায়। নির্বাচনে নারী ভোটারের অংশগ্রহণ ছিল বিস্ময়কর যা সর্বমহলে বিশেষভাবে আলোচিত হয়েছে এবং সেটা প্রিন্ট ও অনলাইন মিডিয়ায় গুরুত্ব সহকারে প্রচারও করা হয়।

উল্লেখ্য, রোকেয়া আখতারের স্বামী বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের বীর মুক্তিযোদ্ধা মৃত আ ব ম আব্দুর রব। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধে মুজিব বাহিনীর সদস্য হিসেবে ভারতের দেরাদুনে প্রশিক্ষণ শেষে ৯নং সেক্টরের অধীনে থানা কমান্ডার হিসেবে সরাসরি যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন। মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে তার লেখা ‘মুক্তিযুদ্ধে আমি’ বইটি প্রকাশিত হয় ২০১১ সালে। তিনি রাঙ্গামাটি জেলা আওয়ামী লীগের সম্মানিত সদস্যও ছিলেন।

মানবকণ্ঠ/এসএস