শান্তিনিকেতনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

শান্তিনিকেতনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

এক ঐতিহাসিক মুহূর্তের সাক্ষী হতে চলছেন দুই বন্ধুপ্রতিম দেশের দুই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও নরেন্দ্র মোদি। সাক্ষী থাকছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও। শুক্রবার এই তিন নেতাকে একসঙ্গে দেখা যাবে বিশ্বভারতীর সমাবর্তন মঞ্চে। শান্তিনিকেতনের পূর্বপল্লিতে নির্মিত বাংলাদেশ ভবনের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে। এটাই হবে আজকের একটি ঐতিহাসিক মুহূর্ত। এই দুটি অনুষ্ঠান ঘিরে বিশ্বভারতী ও শান্তিনিকেতনকে নিরাপত্তার ঘেরাটোপে ঘিরে রাখা হয়েছে।

শুক্রবার সকালে বাংলাদেশ বিমানের একটি ভিভিআইপি ফ্লাইটে ঢাকা থেকে রওনা হয়ে কলকাতার স্থানীয় সময় ৯টা ২৫ এ নেতাজী সুভাস চন্দ্র বসু আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান শেখ হাসিনা। সেখান থেকে হেলিকপ্টারে করে বীরভূমে শান্তিনিকেতনে পৌঁছালে বিশ্ব ভারতীর উপাচার্য অধ্যাপক সবুজ কলি সেন তাকে অভ্যর্থনা জানান। বিশ্ববিদ্যালয়ের রবীন্দ্র ভবনে শেখ হাসিনাকে অভ্যর্থনা জানান ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।

বিশ্বকবী রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রতিষ্ঠিত বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪৯তম এই সমাবর্তন অনুষ্ঠানে শেখ হাসিনা যোগ দিচ্ছেন ‘গেস্ট অব অনার’ হিসেবে। সমাবর্তনস্থলে যাওয়ার আগে তিনি রবীন্দ্র চেয়ারে শ্রদ্ধাও জানিয়েছেন।

বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য মোদি। তিনি আচার্য হওয়ার পর এটাই তার প্রথম বিশ্বভারতী সফর। তবে শেখ হাসিনা এর আগে বিশ্বভারতীর সর্বোচ্চ সম্মান ‘দেশিকোত্তম’ গ্রহণ করতে এসেছিলেন।

আজ বাংলাদেশ ভবনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে থাকছেন পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপাল কেশরীনাথ ত্রিপাঠিসহ বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী, শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ ও সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর । তারা বৃহস্পতিবারই কলকাতায় পৌছেছেন।

বাংলাদেশ ভবনের নির্মাণকাজের অগ্রগতি দেখতে মন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর তিন দিন ধরে শান্তিনিকেতনে অবস্থান করছেন। বাংলাদেশ সরকারের অর্থায়নে এই বাংলাদেশ ভবন নির্মিত হয়েছে।

পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়, দুই শীর্ষ নেতার আলোচনায় রোহিঙ্গা সমস্যার বিষয়সহ জঙ্গিবাদ, যৌথ নদীর পানি বণ্টন, সীমান্ত অনুপ্রবেশের বিষয়গুলো উঠে আসতে পারে।

মোদি-হাসিনার বৈঠক শেষ হওয়ার পর শেখ হাসিনা এবং তার বোন শেখ রেহানা বৈঠক করবেন বিশ্বভারতীতে অধ্যয়নরত বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে। জানা গেছে, এবার বাংলাদেশের পক্ষ থেকে বিশ্বভারতীর কৃতী শিক্ষার্থীদের বৃত্তি দেওয়ার একটি প্রকল্পের কথা ঘোষণা হতে পারে।

মানবকণ্ঠ/এসএস