শখের পাখি সম্পর্ক সমাচার

পাখি পোষার ইতিহাস বহু প্রাচীন। মিসরের ফারাও থেকে শুরু করে রাজধিরাজেরাও পাখি পুষতেন। কখনো শখে আবার কখনো চিঠি আদান-প্রদানের জন্য। পাখি সাধারণত দুই রকমের হয়। প্রথমত, বনের পাখি। দ্বিতীয়ত, খাঁচার পাখি। বনের পাখি খাঁচায় পোষা অন্যায়। এমনকি তারা অনেক সময় খাঁচায় মানিয়ে নিতে না পেরে দ্রুত মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে। এরা খাবার খুঁজে খেতে বেশি পছন্দ করে এবং চঞ্চলতা বেশি থাকে। সেজন্য খাঁচার পরিবেশকে মানিয়ে নিতে পারে না। বনের পাখি পোষা ভারত ও বাংলাদেশে আইনত অন্যায়। এই আইনত অন্যায়ের মধ্যে দেশি পাখি পোষাও অন্যায়। একমাত্র কবুতর ও বিদেশি পাখি পোষা যাবে।
এবার বলি খাঁচার পাখির কথা। এই পাখির জন্ম এবং মৃত্যু খাঁচার মধ্যেই। তাই খুব সহজে এদের খাঁচায় পোষা যায়। নির্দিষ্ট পরিমাণ খাদ্য ও মানুষের গৃহস্থ পরিবেশে এরা খুব সুন্দরভাবে বেঁচে থাকতে পারে। এই পাখির জন্য নির্দিষ্ট বাসা করে দিলে ডিম পাড়ে এবং বংশবৃদ্ধিও ঘটায়।
এবার বলি শখের পাখির কথা। খাঁচায় পোষুন কিংবা খোলামেলা রেখে পোষুন, শখের পাখি বলতে যাদের বোঝায়, তারা হলো রঙিন পালকের সুদর্শন ও মূল্যবান পাখি। এরা বাসার শ্রীবৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে আপনার রুচিবোধেরও পরিচায়ক।
বাজরিগার পাখি: আমাদের দেশে এই পাখিটির আবাসস্থল না হলেও অনেকে শখের বসে বাড়িতে পোষার জন্য বিভিন্ন স্থান থেকে কিনে থাকে। এই পাখিটি বেশ দামি। এই পাখিটি সহজেই ডিম দিতে সক্ষম। এরপর বাচ্চাও দেয় বেশ তাড়াতাড়ি। তবে ডিম পাড়া বা বাচ্চা হওয়াটা অনেকটাই পাখির যতেœর ওপর নির্ভর করে। অধিক রঙে রঙিন, সহজ খাদ্যে সন্তুষ্ট এ পাখিগুলো সহজে লালন-পালন করা যায়। এদের প্রতিটির শরীরে দুটি বা চারটি রঙের মিশ্রণ থাকে।
এ রংগুলো হলুদ, সাদা ও নীল ধরনের হয়ে থাকে। প্রতিটির শরীরে ডোরা কাটা গাঢ় রংও থাকে। দেখে যেন মনে হয়, কোনো একক শিল্পীর হাতের নিপুণ ছোঁয়া। এদের পোষার জন্য প্রয়োজন একটি খাঁচা। এ খাঁচার মধ্যে দিতে হবে ডিম পাড়ার পাত্র ও খাবারের পাত্র। এ পাখি পুষলে ও সঠিক যতœ নিলে দু-আড়াই মাসের মধ্যে ডিম পাওয়া যাবে। তবে যতেœর বিষয়টি অবশ্যই খেয়াল রাখতে হবে।
ককটেল ও গে ককটেল: লালন-পালনে সহজ এমন পাখির মধ্যে আরো রয়েছে ককটেল ও লোটিনো বা গ্রে ককটেল পাখি। এগুলোও সহজে ডিম দেয়। এই পাখিগুলোও পোষার জন্য পরিমাপ মতো খাঁচার দরকার হয়। এর সঙ্গে আরো অন্যান্য সরঞ্জাম। যেমন- পাখির খাবার পাত্র, পানির পাত্র, পাখি বসার ব্যবস্থা ইত্যাদি। পাখিগুলো দেখতে অনেকটা কাকাতুয়ার মতো। এদের মাথায় সুদৃশ্য ঝুঁটি আছে ও এদের ডাক অনেক সুন্দর। এসব পাখি সাড়ে তিন মাস থেকে চারমাসের মধ্যে ডিম দেয়। তবে যতœ আবশ্যক।
খাবার-দাবার: এই পাখিগুলোর খাবার হিসাবে ধান, সূর্যমুখীর বিচি, চিনা ও কুসুম ফুলের বিচি খেয়ে থাকে। এছাড়া ভেজা ছোলা ও শাকসবজি খাওয়ানো যায়। শাকসবজি অবশ্যই ধুয়ে নিতে হবে।
ফিঞ্চ পাখি: শখের পোষাপাখিগুলোর মধ্যে আরো রয়েছে ফিঞ্চ পাখি ও লাভবার্ড পাখি। পাখিগুলো মূলত শস্যভোজী। তাই এগুলো বিভিন্ন শস্য খেয়ে থাকে। এগুলো দেখতে অনেকটা শালিক পাখির মতো। শরীর ছিপছিপে গড়নের হওয়ায় একটু ছুঁয়ে দেখতে ইচ্ছা হয়।
এগুলোর দাম তাই অনেক ক্ষেত্রে রঙের ওপর নির্ভর করে। আর যেহেতু এরা শস্যদানা খেয়ে থাকে, তাই খাবারের খরচটাও অনেক কম। এ পাখিগুলো হোয়াইট ফিডও খেয়ে থাকে।
এছাড়াও আরো পোষা যেতে পারে দেশি-বিদেশি বিভিন্ন জাতের কবুতর। এর মধ্যে রয়েছে পাকিস্তানি ও ইন্ডিয়ান লক্ষ্মা, হল্যান্ডের সিরাজি ও ম্যাগপাই। এরা মূলত ধান, গম বা ভাত খেয়ে থাকে। তাই পোষার খরচটাও কম।
রোগ-বালাই: এসব পাখির রোগের ক্ষেত্রে সচেতন থাকতে হবে। অযতেœর কারণে এরা রানীক্ষেত, ম্যালেরিয়া ও নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হতে পারে। তাই এসব রোগের প্রতিকার করতে প্রয়োজন অ্যান্টি-ভাইরাস, অ্যান্টি-বায়োটিক ও অন্যান্য ওষুধ। তবে পশু চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী খাবারের সঙ্গে মিশিয়ে ওষুধ খাওয়ানো উত্তম। সে সঙ্গে পাখির লালন-পালনে সঠিক মাপের খাঁচা ব্যবহার করা উচিত। কবুতরের জন্য উপযুক্ত খোপ বা ঘর। সবসময় খেয়াল রাখতে হবে এদের যতেœর দিকে।