লালমনিরহাটে বন্যার্তদের পাশে নেই বিএনপি ও জাতীয় পার্টি

লালমনিরহাট

কোনো ইস্যু পেলেই আন্দোলনের হুমকি দেয় বিএনপি। শুরু হয় মিছিল, মিটিং, মানববন্ধন ও সংবাদিক সম্মেলন। বলতে থাকে সরকারের ব্যর্থতার কথা। লালমনিরহাটের রাজপথে পুরোদমে সক্রিয় বিএনপি কিন্তু চলতি বন্যায় দেখা মেলেনি বিএনপি নেতাদের। সরকার ও সরকারি দল বন্যার্ত মানুষের জন্য সাহায্য-সহযোগিতার পাশাপাশি একাধিক মন্ত্রী বন্যার্ত এলাকা পরিদর্শন করলেও দেখা যায়নি বিএনপির নেতাদের। তবে জেলা বিএনপির উদ্দোগে ত্রাণ বিতরণ চলছে বলে দাবি জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদকের। এমন কি এ অঞ্চলের জনপ্রিয় ও প্রধান বিরোধী দল জাতীয় পার্টির নেতাদেরও দেখা যায়নি।

লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলার চর হলদিবাড়ী গ্রামের সফিয়ার রহমান, আব্দুর রহমান, গিয়াস মোল্লা জানান, আমরা তিস্তা নদীর পানিতে পানিবন্দি হওয়ার পর থেকে সরকারের পাশাপাশি বিভিন্ন সংগঠন ত্রাণ বিতরণ করছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত বিএনপি ও জাতীয় পার্টির পক্ষ থেকে কোনো ত্রাণ বিতরণ করা হয়নি। এমন কি তারা আমাদের খোঁজ খবর পর্যন্ত নিতেও আসেনি।

ওই উপজেলার গড্ডিমারী এলাকার সাবেক ইউপি সদস্য জাকির হোসেন জানান, শুনলাম আমাদের হাতীবান্ধা-পাটগ্রাম আসনে বিএনপি থেকে ৭ জন এমপি প্রার্থী আর জাতীয় পার্টি থেকে ৪ জন এমপি প্রার্থী কিন্তু তাদের কারো দেখা মেলেনি বন্যার্ত এলাকায়। তারা শুধু ফেইসবুকে বন্যার্ত মানুষের জন্য স্টাট্যাস দিয়ে বসে আছে। এখন বন্যার্ত মানুষের পাশে নেই আর ভোটের সময় ভোট ভিক্ষা চাইবে এটা কেমন রাজনীতি?

দুই দফা বন্যায় দেশের বেশ কয়েকটি জেলার মত লালমনিরহাটের লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়ে। তিস্তা ও ধরলা নদীর পানি কমে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে শুরু হয় নদী ভাঙন। সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয় জেলার হাতীবান্ধা উপজেলার ৬ ইউনিয়নের প্রায় ৫০ হাজার মানুষ। সব মিলে তিস্তা পাড়ের লোকজন মানবেতর জীবন যাপন করছেন। সরকারি ভাবে ত্রাণ তৎপরতা চালালেও তা প্রয়োজনের তুলনায় কম। ইতোমধ্যে বেসরকারি উদ্দ্যেগেও ত্রাণ বিতরণ শুরু হয়ছে। বন্যার্ত মানুষের মাঝে ত্রাণ বিতরণ ও বন্যার্ত এলাকা পরিদর্শন করে লালমনিরহাটে আসছেন সড়ক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, ত্রাণমন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন মায়া। কিন্তু জাতীয় পার্টির শ্রম প্রতিমন্ত্রী মুজিবুল হক চুন্নু লালমনিরহাটে আসলেও বন্যার্ত এলাকা পরিদর্শন করবেন না বলে তার সফরসূচি সূত্রে জানা গেছে। যা নিয়ে লোকজনের মাঝে শুরু হয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া। জেলা বিএনপির উদ্দ্যেগে সদর উপজেলা ও আদিতমারী উপজেলায় কিছু ত্রাণ বিতরণ করা হলেও বন্যায় সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হাতীবান্ধা উপজেলায় দেখা যায়নি বিএনপির নেতাদের। এ আসনে আগামী সংসদ নির্বাচনে বিএনপি থেকে ৭ জন মনোনয়ন প্রত্যাশী হিসেবে গণসংযোগ করলেও তারা বন্যার্ত মানুষের পাশে নেই।

লালমনিরহাট জেলা বিএনপির সম্পাদক হাফিজুর রহমান বাবলা জানান, বন্যার্ত মানুষের পাশে দাঁড়াতে ইতোমধ্যে জেলা বিএনপির উদ্দোগে ত্রাণ বিতরণ শুরু হয়েছে। সরকার বন্যা পরিস্থিতি মোকাবেলায় ব্যর্থ হচ্ছে। বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক অধ্যক্ষ আসাদুল হাবিব দুলুর নেতৃত্বে একটি টিম দুই-একের মধ্যে লালমনিরহাটের বন্যার্ত এলাকা পরিদর্শন করবেন।

মানবকণ্ঠ/এএস/এসএস