লালদীঘিতে পাঁচ লাখ জনসমাগমের টার্গেট ইসলামী ফ্রন্টের

লালদীঘিতে পাঁচ লাখ জনসমাগমের টার্গেট ইসলামী ফ্রন্টের

দেশের প্রধান বিরোধী দল জাতীয় পার্টির নেতৃত্বাধীন সম্মিলিত জাতীয় জোটের উদ্যোগে আগামী ৭ এপ্রিল চট্টগ্রামে মহাসমাবেশের আয়োজন করা হয়েছে। চট্টগ্রাম নগরীর লালদীঘি ময়দানে এ সমাবেশের আয়োজন করা হয়েছে। এ সমাবেশ উপলক্ষে চট্টগ্রামে ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে সম্মিলিত জাতীয় জোটের শরিক দল বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্ট। ইতিমধ্যে চট্টগ্রাম নগরীর ও বিভিন্ন উপজেলায় সাংগঠনিক সফর করে বিভিন্ন প্রস্তুতি সভা করেছে দলটি। গতকাল বুধবার চট্টগ্রাম মহানগর কার্যালয়ে এক প্রস্তুতি সভা করে নগর ইসলামী ফ্রন্ট। এ সভায় ইসলামী ফ্রন্টের কেন্দ্রীয় মহাসচিব সম্মিলিত জাতীয় জোটের নীতি নির্ধারক এম এ মতিন ঘোষণা দেন আগামী শনিবার লালদীঘির ময়দানে পাঁচ লাখ মানুষের সমাগম করবে ইসলামী ফ্রন্ট। এ লক্ষ্যে ইসলামী ফ্রন্ট চট্টগ্রাম নগর ও তৃণমূলে ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে বলে তিনি জানান।

জানা যায়, জাতীয় পার্টি-ইসলামী ফ্রন্ট নেতৃত্বাধীন সম্মিলিত জাতীয় জোটে আরো দু’টি দল রয়েছে। চট্টগ্রামে অপর দু’টি দলের অবস্থান না থাকলেও জাতীয় পার্টি ও ইসলামী ফ্রন্টের অবস্থান রয়েছে। চট্টগ্রামে জাতীয় পার্টির দুই এমপি ও সংরক্ষিত মহিলা আসনের এক এমপি রয়েছেন। ইসলামী ফ্রন্টেরও বেশ কয়েক জনপ্রতিনিধি চট্টগ্রাম উত্তর-দক্ষিণ জেলায় রয়েছেন। চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া, বোয়ালখালী, পটিয়া ও চন্দনাইশ উপজেলা পরিষদের পুরুষ ভাইস-চেয়ারম্যানরা ইসলামী ফ্রন্ট মনোনীত। এ চার উপজেলায় চার প্রতিনিধির কারণে বেশ শক্ত অবস্থান রয়েছে ইসলামী ফ্রন্টের। এ ছাড়াও সুন্নি অধ্যুষিত এলাকা হওয়ায় দলটির অবস্থান ভালো চট্টগ্রামে। তাই চট্টগ্রামের মহাসমাবেশে তারা নিজেদের জানান দিতে চায়। সম্মিলিত জোটের প্রধান জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদকে তাদের শক্তি সম্পর্কে জানান দিতে ইতিমধ্যে মরিয়া হয়ে প্রস্তুতি নিচ্ছেন দলটির নেতাকর্মীরা।

ইসলামী ফ্রন্টের সাংগঠনিক সূত্রে জানা যায়, মহাসমাবেশকে ঘিরে চট্টগ্রাম নগর, উত্তর ও দক্ষিণ জেলা এবং এর আওতাধীন উপজেলা, থানা, পৌরসভা, ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ে ইসলামী ফ্রন্ট, যুবসেনা ও ছাত্রসেনার নেতাকর্মীরা ব্যাপক প্রচার-প্রচারণায় ব্যস্ত সময় পার করছেন। সমাবেশের ব্যানার, পোস্টার ও ফেস্টুন সাঁটানো হয়েছে চট্টগ্রাম নগরীর বিভিন্ন অলিতে-গলিতে। গ্রামে-গঞ্জেও এ প্রস্তুতি চলছে। বিভিন্ন স্থানে দফায় দফায় চলছে মতবিনিময়, প্রস্তুতি সভা, মিছিল, গণসংযোগ ও মাইকিং। মহাসমাবেশে আসার জন্য ইতিমধ্যে উত্তর ও দক্ষিণ জেলায় বাস, ট্রাক, মিনিবাসসহ শত শত যানবাহন ভাড়া করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংগঠনটির নেতারা। তবে এসব প্রস্তুতি নিজেরাই আলাদাভাবে নিচ্ছে। জাতীয় পার্টির সঙ্গে জোট হলেও যার যার প্রস্তুতি আলাদা আলাদা বলে দাবি করছেন ইসলামী ফ্রন্টের নীতি নির্ধারকরা।

সমাবেশের প্রস্তুতি নিয়ে ইসলামী ফ্রন্টের মহাসচিব এম এ মতিন বলেন, ২৪ মার্চ ঢাকায় সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সম্মিলিত জাতীয় জোটের মহাসমাবেশে ইসলামী ফ্রন্টের পক্ষ থেকে ব্যাপক জনসমাগম করেছে ইসলামী ফ্রন্ট। আগামী ৭ এপ্রিল চট্টগ্রামে সম্মিলিত জাতীয় জোটের সমাবেশ হলেও চট্টগ্রামের এ সমাবেশে সবচেয়ে বেশি জনসমাগম করবে ইসলামী ফ্রন্ট। ইতিমধ্যে শনিবারের সমাবেশে ৫ লাখ মানুষের সমাবেশ ঘটানোর টার্গেট নিয়ে মাঠে কাজ করছে ইসলামী ফ্রন্ট।

তিনি বলেন, ইতিমধ্যে চট্টগ্রামে ১৪টি উপজেলা ও নগরের প্রতিটি থানায় থানায় ছাত্রসেনা, যুবসেনা ও ইসলামী ফ্রন্টের নেতাকর্মীরা কাজ করছেন। উপজেলার গ্রামে-গঞ্জে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা সৃষ্টি হয়েছে। প্রতিটি স্কুল, মাদরাসা ও কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রসেনার নেতাকর্মী টিম ওয়ার্ক করছেন। আাগামী নির্বাচনের আগে এ মহাসমাবেশ নিজেদের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ বলে দাবি করেছেন ইসলামী ফ্রন্টের মহাসচিব এম এ মতিন।

সমাবেশের প্রস্তুতি নিয়ে ইসলামী ছাত্রসেনার কেন্দ্রীয় নেতা নিজামুল করিম সুজন বলেন, চট্টগ্রামের ছাত্র সমাজকে ঐক্যবদ্ধ করে ৭ এপ্রিলের সমাবেশকে সফল করার প্রস্তুতি চলছে। চট্টগ্রামে জামায়াত-শিবির ও জঙ্গিবাদের কোনো স্থান নেই। আগামীতে জাতীয় সম্মিলিত জোটের নেতৃত্বে ছাত্রসেনা ও ছাত্র সমাজ একত্রিত হয়ে জঙ্গিবিরোধী অবস্থান গড়ে তোলা হবে দাবি করেন এ ছাত্র নেতা।

মানবকণ্ঠ/এসএস