লাকসামে পৃথক হত্যা ও অপমৃত্যুর মামালা করেছে দুই পরিবার

লাকসামে পৃথক হত্যা ও অপমৃত্যুর মামালা করেছে দুই পরিবার

কুমিল্লার লাকসামে একই ঘরের পৃথক দু’টি কক্ষ থেকে স্বামীর ঝুলন্ত এবং স্ত্রীর গলাকাটা লাশ উদ্ধারের ঘটনায় থানায় দু’টি পৃথক মামলা হয়েছে। রাবেয়া বেগম (৩০) নামের ওই গৃহবধূকে গলাকেটে হত্যার ঘটনায় তার পিতা আবদুর রহিম বাদী হয়ে লাকসাম থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। অপরদিকে, রাবেয়া বেগমের স্বামী মো. সফিউল্লার ঝুলন্ত লাশ উদ্ধারের ঘটনায় তার ভাই মাহাবুব আলম ওরফে অহিদ বাদী হয়ে থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা দায়ের করেছে।

শুক্রবার সকালে লাকসাম থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মো.নজরুল ইসলাম এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

লাকসাম থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মো.নজরুল ইসলাম বলেন, রাবেয়া বেগমকে গলাকেটে হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় আসামির নাম অজ্ঞাত বলে উল্লেখ করা হয়েছে। আর সফিউল্লার ঝুলন্ত লাশ উদ্ধারের ঘটনায় একটি অপমৃত্যুর মামলা হয়েছে। তিনি বলেন, দু’টি লাশের ময়নাতদন্ত হয়েছে। এখন ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে যদি নিশ্চিত হওয়া যায় সফিউল্লা গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছে তাহলে বুঝা যাবে সে তার স্ত্রীকে গলাকেটে হত্যার পর নিজেই আত্মহত্যা করেছে। এছাড়া আমরা রাবেয়া বেগমের কাটা গলা থেকে বের হওয়া রক্ত এবং সফিল্লার হাতে পাওয়া রক্তের নমুনা সংগ্রহ করেছি। সেগুলোকে পরীক্ষার জন্য সিআইডির ল্যাবে পাঠানো হবে। যদি সেই পরীক্ষায় উভয় রক্ত মিল পাওয়া যায় তাহলে পুরোপুরি নিশ্চিত হওয়া যাবে স্ত্রীকে গলাকেটে হত্যার পর নিজেই গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন সফিউল্লা।

উল্লেখ্য, গত বুধবার সকাল সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার কান্দিরপাড় ইউনিয়নের সালেপুর গ্রামের মুন্সী বাড়ি থেকে হেদায়েত উল্লা মুন্সীর ছেলে মো. সফিউল্লার ঝুলন্ত এবং তার স্ত্রী রাবেয়া বেগমের গলাকাটা লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। ওই বাড়িতে তিন কক্ষ বিশিষ্ট একটি টিনসেড ঘরে পরিবার নিয়ে বসবাস করতেন মো.সফিউল্লা। আগে তিনি মানুষের কৃষি জমিতে পানি সেচের কাজ করাসহ নিজেও কৃষি কাজ করতেন। সফিউল্লা দু’টি বিয়ে করেছেন। প্রায় এক যুগ আগে প্রথম স্ত্রী পারভীন আক্তারের সঙ্গে বিবাহ বিচ্ছেদ ঘটলে পাশের মনোহরগঞ্জ উপজেলার মৈশাতুয়া ইউনিয়নের ইসলামপুর গ্রামের আবদুর রহিমের মেয়ে রাবেয়া বেগমকে বিয়ে করেন তিনি। প্রথম সংসারে জাহিদ হাসান (১৬) নামে তার একটি পুত্র সন্তান রয়েছে। সে বর্তমানে চট্টগ্রামে কাজ করে। বর্তমান স্ত্রী রাবেয়া বেগমের ঘরে নুসরাত জাহান সাইফা (৫) এবং উম্মে হাবিবা সাথী (৯) নামে দু’টি কন্যাসন্তান রয়েছে। ঘটনার সময় সাথী তার নানার বাড়িতে ছিলেন। তিন কক্ষের ওই ঘরের দক্ষিণ পাশের কক্ষের মধ্যে খাটে উপর রাবেয়া বেগমের গলাকাটা লাশ পাওয়া যায়। খাটের উপরের দক্ষিণ পাশ থেকে একটি রক্তমাখা দা উদ্ধার করেছে পুলিশ। আর উত্তর পাশের কক্ষের সিলিংয়ে দড়িতে ঝুলন্ত অবস্থায় সফিউল্লার লাশ পাওয়া যায়। ওই কক্ষটি খালি ছিলো, কিন্তু কক্ষের ভেতর একটি ড্রামের উপর মোড়া থাকতে দেখা গেছে। তবে সফিউল্লার মুখ থেকে রক্ত বের হচ্ছিল।

ওইদিন সকাল ১০টার দিকে সফিউল্লার ছোট মেয়ে নুসরাত জাহান সাইফা কাঁদতে কাঁদতে গিয়ে বাড়ির লোকজনকে ঘটনাটি জানালে তারা পুলিশকে খবর দেন। সেদিন রাতে সাইফা তার মায়ের সঙ্গে একই খাটে ঘুমিয়েছিলো, তবে শিশুটি এ ঘটনা কেবলমাত্র সকালে ঘুম থেকে উঠেই দেখতে পান। পরে পুলিশের সদস্যরা এসে লাশ উদ্ধার করে। ধারণা করা হচ্ছে মঙ্গলবার দিবাগত রাতের শেষভাগে স্ত্রীকে জবাই করে হত্যার পর নিজেই আত্মহত্যা করেছেন সফিউল্লা। কারন গত বেশ কয়েক বছর ধরে সফিউল্লা মানসিক সমস্যায় ভূগছিলেন।

মানবকণ্ঠ/এসএস