লন্ডনে মুসল্লিদের ওপর হামলায় নিহত ব্যক্তি বাংলাদেশি

londonব্রিটেনের লন্ডনে একটি মসজিদের কাছে তারাবি নামাজ শেষে ঘরে ফেরা মুসল্লিদের ওপর গাড়ি উঠিয়ে দেয়ার ঘটনায় যুক্তরাজ্য প্রবাসী এক বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরো ১০ জন। তাদের মধ্যে গুরুতর আহত অবস্থায় ৮ জনকে লন্ডনের তিনটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

নিহতের মেয়ে ফারজানা নিশ্চিত করেছেন, হামলায় মারা যাওয়া তার বাবার নাম মাকরাম আলী (হিরন মিয়া)। তার আনুমানিক বয়স হবে ৫২। দেশের বাড়ি সিলেটের বিশ্বনাথ থানার স্বরওয়ালা গ্রামে। তিনি তার পরিবার নিয়ে দীর্ঘদিন থেকে ফিন্সবারি পার্কে বসবাস করে আসছেন।

নিহত মাকরাম আলীর মেয়ে আরো জানান, তার বাবার বুুুকে পেস মেকার লাগানো ছিল, নামাজ থেকে বের হওয়ার পর বুকে ব্যথা অনুভব করলে ফুটপাতে বসে পড়েন। নামাজ থেকে বের হওয়া মুসল্লিগণ তাকে সাহায্য করতে এগিয়ে আসেন। আর তখনই জটলার উপর ঘাতক ভ্যান উঠিয়ে দেয়।

ফারজানা, তার বাবার হত্যাকারীর দৃস্টান্তমূলক শাস্তি প্রদানের দাবি জানান। তিনি তার পিতার বিদেহী আত্মার মাগফেরাত করে সকলের কাছে দোয়া কামনা করেন।

অনলাইন নিউজ পোর্টাল টেলিগ্রাফের খবরে বলা হয়, সেভেন সিস্টারস রোডে মুসলিম ওয়েলফেয়ার মসজিদে নামাজ পড়ে বের হওয়ার সময় যুক্তরাজ্য প্রবাসী বয়োজ্যেষ্ঠ ওই বাংলাদেশি মারা যান।

নিহতের ভাতিজা সুলতান আহমেদের বরাত দিয়ে ওই অনলাইন নিউজ পোর্টাল আরো জানায়, গাড়িটির সঙ্গে ধাক্কা খেয়ে মাটিতে পড়ে গেলে তার দেহের ওপর দিয়ে গাড়ি উঠে যায়। এতে তিনি ঘটনাস্থলেই নিহত হন।

হামলায় ব্যবহৃত ভ্যান

লন্ডন মেট্টোপলিটন পুলিশের বরাত দিয়ে বিবিসি ও ইনডিপেন্ডেন্টের খবরে বলা হয়, রোববার দিবাগত রাতে উত্তর লন্ডনের ফিন্সবারি পার্ক মসজিদের কাছে ওই গাড়ি হামলায় পথচারীদের ওপর দ্রুতগতির একটি গাড়ি উঠিয়ে দেয়া হয়।

রমজান মাস। ছুটির দিন বলে বেশ ভিড় হয়েছিল সেভেন সিস্টার্স রোডে ব্রিটেনের অন্যতম বড় মসজিদে। সারাদিন রোজা রেখে ইফতারের পর তারাবির নামাজ পড়ে বের হচ্ছিলেন রোজাদাররা। ওই সময় ৪৭ বছর বয়স্ক এক ব্যক্তি দ্রুতগতিতে থাকা গাড়িটি মুসল্লিদের ওপর উঠিয়ে দেয়। ওই ব্যক্তিকে জনতা আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করে। পুলিশ পরে ওই ব্যক্তিকে গ্রেফতার করে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করে।

লন্ডন অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিস বলছে, তারা খবর পাওয়ার পরপরই বেশ কয়েকটি গাড়ি পাঠিয়েছে। ঘটনার পরই দুর্ঘটনার জেরে সেভেন সিস্টার্স রোড, হর্নসি রোড ও রকস্ট্রিটের যান চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ রাখে লন্ডন প্রশাসন।

এক প্রত্যক্ষদর্শীর বরাত দিয়ে ইনডিপেন্ডেন্ট জানায়, দ্রুতগতিতে গাড়িটি সোজা আমাদের সবার দিকে এগিয়ে আসে। সেখানে অনেক মানুষ ছিল। আমাদের সরে যেতে বলছিল কেউ। আল্লাহকে ধন্যবাদ, আমি একদিকে সরে যেতে পেরেছিলাম। আমি এক পাশে ঝাঁপিয়ে পড়ি। সবাই অনেক আঘাত পেয়েছে। আমার চারপাশে আহতরা পড়েছিল।

মুসলিম কাউন্সিল অব ব্রিটেন (এমসিবি) বলছে, পরিকল্পিতভাবে ওই ভ্যানটি মুসল্লিদের ওপর তুলে দেয়া হয়। এ ঘটনাকে ‘ইসলাম ভীতির সহিংস প্রকাশ’ হিসেবে বর্ণনা করে যুক্তরাজ্যের মসজিদগুলোতে বাড়তি নিরাপত্তার ব্যবস্থা করার আহ্বান জানিয়েছে কাউন্সিল।

হামলার পরপরই রাস্তায় নামাজ আদায় করেন অনেক মানুষ

সংস্থার প্রধান হারুন খান অবশ্য এটিকে দুর্ঘটনা বলতে নারাজ। তিনি জানিয়েছেন, ইচ্ছাকৃতভাবেই এই ঘটনা ঘটানো হয়েছে। তবে এটা সন্ত্রাসবাদীদের কাজ কিনা, তা নিয়ে কোনো মন্তব্য করেননি তিনি।

তবে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মে এ ঘটনাকে ‘ভয়ঙ্কর’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। পরিস্থিতি পর্যালোচনা করতে সোমবার উচ্চপর্যায়ের একটি বৈঠকও করেন থেরেসা মে। পাশাপাশি, আক্রান্ত এবং তাদের পরিবারের প্রতি সমবেদনাও জানিয়েছেন তিনি।

এক শোকবার্তায় তিনি বলেন, হতাহতদের পরিবার ও ঘটনাস্থলে থাকা জরুরি বিভাগের সবার পাশে আছি আমি।

মানবকণ্ঠ/জেডএইচ

Leave a Reply

Your email address will not be published.