‘রোহিঙ্গা’ সমস্যার স্থায়ী সমাধান হতে হবে: সুষমা

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে বৈঠকে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ বলেছেন, রাখাইন থেকে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের অবশ্যই ফেরত নিতে হবে মিয়ানমারকে। দুই দিনের সফরে রোববার সকালে ঢাকায় আসার পর সোনারগাঁওয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকের পর সন্ধ্যায় গণভবনে যান সুষমা। বৈঠকের পর প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে উদ্ধৃত করে সাংবাদিকদের বলেন, মিয়ানমারকে অবশ্যই তাদের নাগরিকদের ফেরত নিতে হবে। রোহিঙ্গা নাম উচ্চারণ না করে শরণার্থীদের ফেরত নেয়ার কথা বললেও সন্ত্রাসীদের শাস্তির কথাও বলেছেন সুষমা।

২৫ আগস্ট রাখাইনে সেনা ও পুলিশ ফাঁড়িতে রোহিঙ্গা বিদ্রোহীদের হামলার পর সেখানে সেনা অভিযান শুরু হয়। এ অভিযানে রোহিঙ্গা মুসলিমদের নির্বিচারে হত্যা, ধর্ষণ, ঘর জ্বালিয়ে দেয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। বিশাল সংখ্যার এই শরণার্থীদের বাংলাদেশের জন্য ‘বড় বোঝা’ হিসেবে আখ্যায়িত করেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, বাংলাদেশ কত দিন এই ভার বহন করবে। এর একটা স্থায়ী সমাধান হতে হবে।

মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের ভূমিকা রাখার ওপর জোর দেন তাদের প্রতিবেশী দেশ ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী। নিপীড়িত রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেয়ায় প্রধানমন্ত্রী ও বাংলাদেশের প্রশংসাও করেন সুষমা। তিনি এ সময় প্রধানমন্ত্রীকে জানান, রোহিঙ্গা সংকটের বিষয়ে মিয়ানমারের নেত্রী অং সান সুচিকে ভারতের প্রধানমন্ত্রী মোদি বলেছেন, ‘আন্তর্জাতিকভাবে আপনার একটা উজ্জ্বল ভাবমূর্তি আছে, এটা নষ্ট করবেন না।’

সাক্ষাত্কালে প্রধানমন্ত্রী একাত্তর সালে বাংলাদেশের উদ্বাস্তুদের ভারতে আশ্রয় দেয়ার কথা স্মরণ করেন। স্মরণ করেন মুক্তিযুদ্ধে ভারতের সহযোগিতার কথাও। সেজন্য দেশটির নেতৃত্ব ও জনগণের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন বঙ্গবন্ধু কন্যা। শেখ হাসিনা পঁচাত্তরের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের পর ছোট বোন শেখ রেহানাকে নিয়ে উদ্বাস্তু হিসেবে দেশের বাইরে দীর্ঘদিন থাকার কথাও উল্লেখ করেন সাক্ষাতে।

বৈঠকের শুরুতে মুক্তিযুদ্ধের সময় মুক্তিবাহিনী ও ভারতীয় বাহিনীর ব্যবহৃত কিছু সমরাস্ত্র প্রদানের অনুষ্ঠান হয়। বাংলাদেশকে শুভেচ্ছার স্মারক হিসেবে তখন ব্যবহৃত এমআই হেলিকপ্টার, দুটি ট্যাংক, ২৫টি বিভিন্ন অস্ত্র দিয়েছে ভারত। গণভবনের অনুষ্ঠানে ৩৮ ক্যালিবারের একটি সার্ভিস রিভলবার শেখ হাসিনার হাতে তুলে দেন সুষমা স্বরাজ।

বৈঠকে শেখ হাসিনার সঙ্গে ছিলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ এইচ মাহমুদ আলী, প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা গওহর রিজভী, ভারতে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত সৈয়দ মোয়াজ্জেম আলী, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব কামাল আবদুল নাসের চৌধুরী। ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে ছিলেন সেদেশের পররাষ্ট্র সচিব জয়শঙ্কর এবং ঢাকায় দেশটির রাষ্ট্রদূত হর্ষ বর্ধন শ্রিংলা।

মানবকণ্ঠ/এফএইচ