রোহিঙ্গাদের দেশছাড়া করার নতুন কৌশল এমপিসি কার্ড

রোহিঙ্গাদের দেশ ছেড়ে যেতে বাধ্য করতে রাখাইন রাজ্যে এবার মিয়ানমার পুলিশ ক্লিয়ারেন্স-এমপিসি কার্ড বাধ্যতামূলক করেছে মিয়ানমার সরকার। নিজ দেশে অধিকার হারা হওয়ার আশঙ্কায় রোহিঙ্গারা এ কার্ড নিতে অপারগতা প্রকাশ করায় গ্রেফতারের পাশাপাশি রোহিঙ্গাদের কাছ থেকে সে দেশের সরকার লাখ লাখ টাকা জরিমানা আদায় করছে। আর জরিমানা দেয়ার আতঙ্কে বাংলাদেশমুখী হচ্ছে মিয়ানমারে অবস্থানরত অবশিষ্ট রোহিঙ্গারা। সংঘাতে জড়িত থাকার অজুহাতে রোহিঙ্গাদের মিয়ানমার থেকে বিতাড়িত করতে একের পর এক কৌশল বাস্তবায়ন করে যাচ্ছে দেশটির সরকার। সবশেষ গত এক সপ্তাহ ধরে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে অবস্থানরত অবশিষ্ট রোহিঙ্গাদের এমপিসি কার্ড নেয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

কিন্তু ওই কার্ডের জন্য নিবন্ধনের নামে নিজস্ব জাতিসত্তা পরিবর্তনের পাশাপাশি সম্পত্তির অধিকার থেকে বঞ্চিত করার চেষ্টা চলছে বলে অভিযোগ রোহিঙ্গাদের। এই এমপিসি কার্ডে তাদের বাঙালি জাতি হিসেবেই চিহ্নিত করার চেষ্টা চলছে।

রোহিঙ্গারা বলেন, আমাকে মারধরের পর আবার ৩ লাখ টাকা জরিমানাও নিয়েছে। বাজারে যেতে পারছি না, সন্ধ্যার দিক বের হয়েছিলাম ধরে নিয়ে গেছিল। জনপ্রতি ১ লাখ টাকা না দিতে পারলে ওরা বলে থানায় ধরে নিয়ে যাবে।

নাগরিকত্ব ছাড়া রোহিঙ্গারা এমপিসি কার্ড তৈরিতে অনীহা প্রকাশ করায় আবার মারমুখী অবস্থান নিয়েছে মিয়ানমার সেনাবাহিনী। এমপিসি কার্ড ছাড়া রাস্তায় বের হতেও নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। কার্ডবিহীন রোহিঙ্গাদের দিনের পর দিন থানায় আটকে রেখে স্থানীয় মুদ্রায় সর্বনিম্ন ৩ লাখ থেকে সর্বোচ্চ ২০ লাখ কিয়াত পর্যন্ত জরিমানা আদায় করা হচ্ছে।

রোহিঙ্গারা আরো বলেন, মিয়ানমার সেনারা বলছে আমরা মিয়ানমারের নাগরিক নই। অন্য দেশের বাসিন্দা, মিয়ানমারে মেহমান হিসেবে গিয়েছি। এমপিসি কার্ড নিলেও এক বছর পরে ওরা আমাদের মারবে ক্ষেত খামার নষ্ট করবে, আমাদের জায়গাজমি সব দখল করবে। সাবেক কূটনীতিক মেজর (অব.) এমদাদুল ইসলামের মতে, রোহিঙ্গাদের দেশ ছাড়তে বাধ্য করতে নতুন করে এই এমপিসি কার্ড বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

তিনি বলেন রোহিঙ্গাদের ফাঁদে ফেলতে এটা মিয়ানমারের একটা কৌশল। হয়তো বিশ্বকে তারা দেখানোর চেষ্টা করবে দেখো আমরা তাদের সুযোগ দিতে চাচ্ছি কিন্তু তারা নিতে চাচ্ছে না।

এর আগে রোহিঙ্গাদের মিয়ানমার ছাড়তে বাধ্য করতে দেশটির সেনাবাহিনী বসতবাড়িতে আগুন এবং নির্বিচারে হত্যাকাণ্ড চালায়। এর ফলে গত দু’মাসে সাত লাখের বেশি রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ করেছে বাংলাদেশে।

অপরদিকে রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ কিছুতেই বন্ধ হচ্ছে না। প্রতিদিন বিভিন্ন পয়েন্ট দিয়ে কয়েক শ’ রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ করছে। বেশিরভাগ রোহিঙ্গা শাহপরীর দ্বীপ পয়েন্ট দিয়ে আসছে। শাহপরীর দ্বীপের দক্ষিণপাড়া, জালিয়াপাড়া, ঘোলাচরসহ বিভিন্ন পয়েন্ট দিয়ে রোহিঙ্গা নারী, পুরুষ ও শিশু এ পারে প্রবেশ করেছে।

পালিয়ে আসা রোহিঙ্গারা জানান, মিয়ানমারে নির্যাতন এখনো কমেনি। তারা নির্যাতনের ধরন ও কৌশল পাল্টেছে মাত্র। পালিয়ে আসা বেশিরভাগ রোহিঙ্গা রাখাইনের বুচিডং ও রাচিডং থানার বাসিন্দা। বুধবার সকালে টেকনাফ পৌরসভার নিউ গার্ডেনের সামনে ৩ শতাধিক রোহিঙ্গাকে দেখা গেছে। এদিন এক হাজারের বেশি রোহিঙ্গা শাহপরীর দ্বীপ পয়েন্ট দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করে। এসব রোহিঙ্গাকে সেনাবাহিনীর জওয়ানরা ট্রাকসহ বিভিন্ন যানবাহনে করে ক্যাম্পে পাঠিয়ে দিচ্ছে।

মানবকণ্ঠ/এসএস