ব্যালট উদ্ধারের অভিযোগ ভিত্তিহীন: রোকেয়া হল প্রভোস্ট

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রোকেয়া হলের ঘটনাকে সম্পূর্ণ ‘মিস কনসেপশন’ হিসেবে আখ্যায়িত করে হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. জিনাত হুদা। তিনি বলেন, ‘আমরা সেদিন গণমাধ্যমকর্মী ও প্রার্থীদের ব্যালট বাক্স দেখিয়েই নির্বাচন শুরু করেছিলাম। তাই এটা নিয়ে অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। বৃহস্পতিবার দুপুরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্লাবে রোকেয়া হল সংসদ নির্বাচনের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে সংবাদ সম্মেলন তিনি একথা বলেন। এ সময়ের হল সংসদ নির্বাচনের আলোচিত তিনটি ট্রাঙ্কও সেখানে হাজির করেন তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে ১১ মার্চের নির্বাচনের দিন রোকেয়া হলে ঘটে যাওয়া ঘটনার বর্ণনা দেন রোকেয়া হলের হাউজ টিউটর দিল আরা জাহান। পরে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাব দেন রোকেয়া হল প্রাভোস্ট ড. জিনাত হুদা।

তিনটি ব্যালট পেপারের বাক্স ভোট কেন্দ্রের বাইরে পাওয়ার ব্যাপারে তিনি বলেন, ‘ব্যালট পেপারের বাক্সগুলো ভোট কেন্দ্রের বাইরে ছিলো না। বাক্সগুলো যেখানে পাওয়া গিয়েছিলো (অডিটোরিয়ামে), সেটাও ভোট কেন্দ্রের অংশ। ভেতরের ব্যালট পেপার শেষ হয়ে যাওয়ার পর আমরা সেগুলো ব্যবহারের জন্য সেখানে রেখেছিলাম।’

শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে মামলার ব্যাপারে তিনি বলেন, কোনো শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়নি। আমি প্রভোস্ট হিসেবে শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে কোনো মামলা করিনি। আমি মামলার কথা জেনেছি গণমাধ্যম থেকে।

রোকেয়া হলের প্রভোস্ট বলেন, ‘কোনো শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে বহিষ্কারাদেশ দেয়া হয়নি। আমি অনশনকারীদের জানিয়েছি যে, পুরনো নির্বাচন বাতিল করে নতুন নির্বাচন দেয়ার এখতিয়ার কোনো প্রাধ্যক্ষের নেই।’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) ও হল সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ চলাকালে রোকেয়া হলের প্রভোস্ট ড. জিনাত হুদাকে লাঞ্ছিত করার অভিযোগে একটি মামলা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃত্যকলা বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী ও ছাত্রলীগ নেতা মারজুকা রায়না বাদী হয়ে গত সোমবার মামলাটি করেন। পরে চার দফা দাবিতে অনশনে বসেন রোকেয়া হলের পাঁচ ছাত্রী। তাদের দাবির মধ্যে রয়েছে, ডাকসু ও হল সংসদে পুনঃর্নির্বাচন, হল প্রভোস্টের পদত্যাগ, মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার ও আন্দোলনকারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। অনশনে বসা চারজন ডাকসু ও হল সংসদ নির্বাচনে বিভিন্ন পদের প্রার্থী ছিলেন।

মানবকণ্ঠ/এফএইচ

Leave a Reply

Your email address will not be published.