রাসিক নির্বাচনের প্রচারের শুরুতেই পাল্টাপাল্টি অভিযোগ

রাসিক নির্বাচনের প্রচারের শুরুতেই পাল্টাপাল্টি অভিযোগ

রাজশাহী সিটি কর্পোরেশন (রাসিক) নির্বাচনের প্রচারের শুরুতেই পাল্টাপাল্টি অভিযোগ তুলেছে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি। এরই মধ্যে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ জমা পড়েছে নির্বাচন কমিশনে। এনিয়ে দুই দলের নেতা কর্মীদের মধ্যেও উত্তেজনা তৈরি হচ্ছে। এদিকে, রাজশাহী সিটি কর্পোরশন নির্বাচনে মেয়র প্রার্থী মোহাম্মদ মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল দুই ওসির প্রত্যাহার দাবি করেছেন। তিনি নগরীর কাশিয়াডাঙ্গা থানা ও নগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) এর দুই ওসির প্রত্যাহার দাবি করেছেন। বৃহস্পতিবার দুপুরে নগর বিএনপির কার্যালয়ে রাসিক নির্বাচন নিয়ে সংবাদ সম্মেলেনে বুলবুল এ দাবি জানান। পাশাপাশি বিএনপির পক্ষ থেকে যে অভিযোগগুলো করা হবে একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট দিয়ে তা তদন্তের দাবিও জানানো হয়।

সংবাদ সম্মেলনে মেয়র প্রার্থী বুলবুল বলেন, নির্বাচনে প্রচার প্রচারণার দুই দিনে অবৈধ ভাবে চার কোটি টাকার পোস্টার, ব্যানার ছাপানো হয়েছে। কে দিলো এতো টাকা ? বুধবার বিএনপির এক কর্মীকে মারধর করে যুবলীগের এক কর্মী তাকে পুলিশে দেয়। আওয়ামী লীগের সঙ্গে প্রশাসনও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়াচ্ছেন বলে তিনি দাবি করেন।

তিনি আরো বলেন, তারা মিডিয়াকেও ভালো ভাবে সংবাদ প্রচার করতে দিচ্ছে না। আগে রাজশাহীতে যে লাল গাড়ি ও রক্ষিবাহিনী দিয়ে দৌরাত্ম চালানো হতো। এখন হলে আমরা রুখে দেব। জমি দখলসহ সংখ্যালঘুদের দেশ ছাড়া কারা করে তা রাজশাহীবাসী জানে।

এসময় বিএনপির চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা মিজানুর রহমান মিনু বলেন, এই নির্বাচন কমিশন সরকারের দালাল। নির্বাচন পরিচালনা করতে শতভাগ ব্যর্থ হয়েছে। এ নির্বাচন কমিশনের অধিনে কোথাও কোনো সুষ্ঠু নির্বাচন হয়নি। যদি নির্বাচনের পরিবেশ নষ্ট হয়, এর দায়ভার নির্বাচন কমিশনকেই নিতে হবে।

এসময় উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির সভাপতি তোফাজ্জল হোসেন তপু, নগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট শফিকুল হক মিলন, নগর যুবদলের সভাপতি আবুল কালাম আজাদ সুইট, সাধারণ সম্পাদক মাহফুজুর রহমান রিটন এছাড়া নগর ও জেলা বিএনপির নেতাকর্মী।

এর আগে বিএনপির মেয়র প্রার্থী মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুলের পক্ষে জেলা বিএনপির সভাপতি তোফাজ্জল হোসেন তপু ৭টি অভিযোগ সম্বলিত একটি অভিযোগপত্র নির্বাচন কমিশনের কাছে জমা দিয়েছেন।

এর আগে আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটনের পক্ষে মুসাব্বিরুল ইসলাম অপর একটি অভিযোগ নির্বাচন কমিশনের কাছে দেয়া হয়েছে। দুই মেয়র প্রার্থী একে অপরের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে নির্বাচনী প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। গত রাসিক নির্বাচনে প্রচারণার শেষ মহুর্তে বড় দুই দল আওয়ামী লীগ-বিএনপির প্রার্থীরা একে অপরের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছিলেন। কিন্তু এবার শুরুতেই দুই প্রার্থীর অভিযোগ নির্বাচন কমিশনের কাছে জমা পড়লো। আগামী দিনগুলোতে অভিযোগ পাল্টা অভিযোগ আরো বাড়বে বলে শঙ্কা প্রকাশ অনেকেই।

এদিকে, নিবাচনী প্রচারণার তৃতীয় দিন বৃহস্পতিবার সকালে বিএনপির মেয়র প্রার্থী মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল নগরীর ১৬নং ওয়ার্ডের জিন্নাহনগর, কয়েরদাড়া, বিসিক এলাকায় গণসংযোগ, লিফলেট বিতরণ ও প্রচার চালান। এসময় বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা মিজানুর রহমানসহ দলীয় নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

অন্যদিকে নগরীর ১২নং ওয়ার্ডের আরডিএ মার্কেট ও সাহেব বাজার এলাকায় আওয়ামী লীগ প্রার্থী এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন গণসংযোগ, লিফলেট বিতরণ ও প্রচার চালান। এসময় মহানগর আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

গণসংযোগের সময় আওয়ামী লীগ ও বিএনপির মেয়র প্রার্থীরা সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে একে অপরের বিরুদ্ধে প্রচার কাজে বাধা ও ভোটারদের ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগ করেন। একইসঙ্গে নগরীর উন্নয়নের স্বাথে তাদের ভোট দেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

মানবকণ্ঠ/এসএস

Leave a Reply

Your email address will not be published.