রাত তিনটা পর্যন্তও একাধারে কাজ করেছি

জাকির হোসাইনসংগ্রামী এক ছাত্র নেতা। মেধাবী শিক্ষার্থী আর সুবক্তা হিসেবেই ইতিমধ্যেই যিনি পরিচিতি পেয়েছেন। সম্প্রতি বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক এস এম জাকির হোসাইন মানবকণ্ঠের মুখোমুখি হন। কথা বললেন নিজের রাজনৈতিক জীবন, ছাত্রলীগ নিয়ে নিজের ভাবনা, ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা নিয়ে। ব্যক্তিগত জীবনের নানা অব্যক্ত কথা জানালেন মানবকণ্ঠকে। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন জায়েদ হাসান

 

মানবকণ্ঠ:  রাজনীতিতে আসার কারণ কী?

জাকির:  বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছে। এ দেশের মানুষের জন্য অনেক ত্যাগ ও কষ্ট করেছেন তিনি। তার নিজ হাতে গড়া সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগ। তাই তার আদর্শে উজ্জীবিত হয়ে ছাত্রলীগে আসা। আর আমার মূল অনুপ্রেরণা জননেত্রী শেখ হাসিনা।

মানবকণ্ঠ:  আপনার রাজনীতিতে পথ চলার শুরুটা বলুন

জাকির :  শুরুটাতো ছাত্র জীবন থেকেই। অর্থাৎ ক্লাস সেভেনে যখন পড়ি তখনকার কথা। আমার থানার নাম জুড়ি। এ থানার ছাত্রলীগের আহ্বায়ক ছিলেন সেলিম ভাই। উনি এখন কানাডায় থাকেন। তার সাথে আমার সম্পর্ক ছিল। উনার মাধ্যমেই ছাত্রলীগে আসা। এ সংগঠন সম্পর্কে জানা।

S M Jakir Hossainছাত্রলীগের ২৮তম নির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক এস এম জাকির হোসাইন: ছবি আবদুল্লাহ মমীন

 

মানবকণ্ঠ:  সময়ের সাথে সাথে আজ আপনি ছাত্রলীগের গুরুত্বপূর্ণ পদে। এ পর্যন্ত আসার পেছনের গল্প বলুন-

জাকির:  এইচএসসি পাস করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হই। প্রথম বর্ষে পড়ি। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় আগস্টে ঢাবি ক্যাম্পাসে আন্দোলন শুরু হয়। সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার বিরোধী আন্দোলন। তখন ছাত্রলীগের রোটন ভাইকে গ্রেফতার করা হলো, আন্দোলন করার জন্য। আমরা তার মুক্তির জন্য মিছিল শুরু করলাম। বিভিন্ন কর্মসূচি দিতে লাগলাম। শহীদ মিনারে মানববন্ধন করলাম। ছাত্রলীগের সব কর্মসূচিতে অংশ নিতে লাগলাম। মনে আছে ২০১৪ সালের নির্বাচনের আগে সভা হতো, মিটিং হতো। দেখা যেত তখন অনেকেই পদ নিতে চাইতো না। কিন্তু সে সময় সকল আন্দোলন, সংগ্রামে আমরা অংশ নিতাম।

মানবকণ্ঠ:  এ সময় কোনো সমস্যায় পড়েছিলেন?

জাকির:  হল রাজনীতিতে একটু ছিল। গ্রুপিংয়ের কারণে অনেক কিছুই হয়েছে। কিন্তু এগুলোকে আমি স্বাভাবিকভাবেই ধরি। কারণ এসব রাজনীতিরই একটা অংশ। সুখ-দুঃখ মিলিয়েই রাজনীতি।

S M Jakir Hossainমধুর ক্যান্টিনে জাকির হোসাইন: ছবি আবদুল্লাহ মমীন

 

মানবকণ্ঠ:  হলে রাজনীতি করার সময় এমন কোনো স্মৃতি আছে যা আজো মনে পড়ে?

জাকির:  স্মৃতি তো আছেই। অনেক স্মৃতি আছে। তখন আমি ঢাবির জিয়া হলে থাকতাম। ছাত্রলীগের নির্বাচনের পর দেখা গেল হলের বিভিন্ন রুমের নামের লিস্ট দরকার। আমার এখনো মনে আছে সে সময় জিয়া হল ছাত্রলীগের জিকু ভাই, মারুফ ভাই আমাকে একটা কাজ দিয়েছিলেন। হলের রুমগুলোর লিস্ট করার। সন্ধ্যার পর কাজ শুরু করেছিলাম। রাত প্রায় তিনটা পর্যন্ত একাধারে কাজ করেছি। লিস্ট করতে করতে যখন ১০৬ নম্বর রুমে গেলাম, তখন দেখলাম মারুফ ভাই ওই রুমে থাকেন| তখন আমাদের দেখে তিনি নিজেই অবাক হলেন। তিনি তার রুমমেটদের বললেন, আমরাই তো তাকে কাজ দিয়েছি। এত রাত পর্যন্ত সে কাজ করছে।

মানবকণ্ঠ:  আপনার বাবা তো  একজন শিক্ষক, সে ক্ষেত্রে পরিবারের পক্ষ থেকে রাজনীতি করায় কোনো বাধা এসেছিল?

জাকির:  ফুলতলি নামে একজন পীর আছেন, আমার বাবা উনার মুরিদ। ফুলতলি পীর আবার আওয়ামী লীগ সমর্থিত। তিনি নৌকা প্রতীককে সাপোর্ট করেন। তাই এদিক দিয়ে আমি পরিবার থেকে পুরোপুরি সাপোর্ট পেয়ে আসছি।

S M Jakir Hossain
মধুর ক্যান্টিনে প্রধানমন্ত্রীর ছবির পাশে জাকির হোসাইন: ছবি আবদুল্লাহ মমীন

মানবকণ্ঠ: দেখা যায় ছাত্রলীগের মধ্যে অনেকে পদ পাওয়ার জন্য মরিয়া- এ বিষয়ে কী বলবেন?

জাকির:   আমি বলবো যে আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করবে, পরিশ্রম করবে সে অবশ্যই মূল্যায়ন হবে। সুতরাং আমি বলবো এইভাবে দ্রুত কিছু পাবার আশা না করে, ছাত্রলীগের জন্য কাজ করে যান। অবশ্যই মূল্যায়ন হবে।

মানবকণ্ঠ: অনেক সময় ছাত্রলীগের মধ্যে গ্রুপিংয়ের কারণে সংঘর্ষ হয়। হতাহতের মত ঘটনা ঘটে। আপনি কী বলবেন?

জাকির:  আপনি দেখবেন ইদানিং ছাত্রলীগের মধ্যে এসব কিছু হচ্ছে না। তবে যা হয় তা ভুল বুঝাবুঝি। ছোট ঘটনাকে নিয়ে অনেক কিছু হয়ে যায়। ছাত্রলীগের মধ্যে কোনো গ্রুপিং নেই।

মানবকণ্ঠ:  যারা এই সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ছে তাদের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নিচ্ছেন?

জাকির: যারা এমন ভুল করবে তাদের বিরুদ্ধে আমরা কঠোর। আমরা তাত্ক্ষণিক ব্যবস্থা নিচ্ছি। ভবিষ্যতেও ছাড় দেয়া হবে না।

মানবকণ্ঠ:  দলের নেতা-কর্মীদের নিয়ে বলুন

জাকির:  আমার সব সময় নেতাকর্মীদের নিয়ে থাকতেই ভাল লাগে। একা একা থাকতে ভালো লাগে না। তবে মাঝে মধ্যে কখনো কখনো তাদের সঙ্গে রাগারাগি হয়। এটা সাময়িক। আর এটা দলের ভালোর জন্যই, সবার ভালোর জন্যই হয়। কারণ দেখেন, এই বয়সের, স্টুডেন্ট লাইফের একটা ছেলেকে কন্ট্রোল করাটা কঠিন। তার পরেও আমরা সুন্দরভাবে সব কিছু করে যাওয়ার চেষ্টা করছি। আমরা তাদের সুখে-দুঃখে পাশে দাঁড়াচ্ছি। তারাও আমাদের পাশে দাঁড়াচ্ছে।

মানবকণ্ঠ:  এবার আপনার ব্যক্তিগত জীবন সম্পর্কে জানতে চাই

জাকির:  আমার বাবা আব্দুল জলীল। আমরা পাঁচ ভাই চার বোন। ভাই বোনদের মধ্যে আমিই সবার ছোট।

মানবকণ্ঠ: ভালোবাসেন এমন কেউ কী আছে, যাকে আপনি জীবন সঙ্গিনী হিসেবে চান?

এই প্রশ্ন শুনে মুচকি হেসে তিনি জানালেন,  ‘এটাতো থাকতেই পারে। সবাই তো নিজের প্রিয় মানুষটিকে জীবন সঙ্গিনী হিসেবে চায়। তবে এটা ভিজিবল কিছু না ইনভিজিবল। যখন সময় হবে তখন জানতে পারবেন।’

মানবকণ্ঠ:   অবসর সময় কীভাবে কাটান?

জাকির:  আমি বই পড়তে পছন্দ করি। সময় পেলে নাটক দেখি। মোশাররফ করিমের নাটক বেশি দেখা হয়। উনাকে আমার ভালো লাগে। এছাড়া সিনেমাও দেখা হয়। হিন্দি ছবি ‘কুছ কুছ হোতা হ্যায়’ আমার ভালো লাগে। এটি বেশ কয়েকবার দেখা হয়েছে। দেশের অনেকগুলো ছবি আছে যা আমার কাছে ভালো লাগে। তবে জাজ মাল্টিমিডিয়ার ছবি আমার ভালো লাগে। গানের মধ্যে লালনের গান শুনি। শাহ আব্দুল করিমের গানও শুনি। এছাড়া চিরকুট ব্যান্ডের সুমির গান ভালো লাগে।

মানবকণ্ঠ:  স্বপ্ন কী?

জাকির:   স্বপ্ন তো দেশের জন্য কাজ করা। দেশের মানুষের জন্য কাজ করা। অনেক সময় ফেইসবুক বা অনলাইনের খবরে অসহায় মানুষের সংবাদ দেখি। তাদের পাশে দাঁড়াতে ইচ্ছে করে। চেষ্টা করি সাধ্যানুযায়ী তাদের পাশে দাঁড়াতে।

মানবকণ্ঠ:  সময় দেয়ার জন্য ধন্যবাদ

জাকির:  আপনাকেও ধন্যবাদ। মানবকণ্ঠকেও ধন্যবাদ।

One Response to "রাত তিনটা পর্যন্তও একাধারে কাজ করেছি"

  1. AK   19/07/2017 at 4:07 AM

    ও যা বলল সে কি বিশ্বাস করে

    Reply

Leave a Reply

Your email address will not be published.