রাজীবের ভাইদের ক্ষতিপূরণে আপিলের আদেশ আজ

নিজস্ব প্রতিবেদক :
কলেজছাত্র রাজীবের দুই ভাইকে এক কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দিতে হাইকোর্টের আদেশের বিরুদ্ধে বিআরটিসি ও স্বজন পরিবহনের করা আবেদনের বিষয়ে আজ মঙ্গলবার আদেশ দেবেন সর্বোচ্চ আদালত। প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বে আপিল বেঞ্চ গতকাল সোমবার আবেদন দুটি শুনে আদেশের জন্য এই দিন ঠিক করে দেন।
বিআরটিসির পক্ষে আপিল বিভাগে শুনানি করেন এবিএম বায়েজিদ, তার সঙ্গে ছিলেন মুনীরুজ্জামান। স্বজন পরিবহনের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন আবদুল মতিন খসরু ও পঙ্কজ কুমার কুণ্ডু।
ক্ষতিপূরণের জন্য রিট আবেদনকারী আইনজীবী রুহুল কুদ্দুস কাজলও নিজেই আপিল বিভাগে শুনানি করেন।
শুনানিতে বিআরটিসির আইনজীবী এবিএম বায়েজিদ বলেন, আমরা তো ওইদিন কোনো অপরাধ করিনি। বিআরটিসির বাসটি দাঁড়ানো ছিল। স্বজন পরিবহন বাঁদিক থেকে এসে ধাক্কা দিয়েছে।
স্বজন পরিবহনের আইনজীবী আবদুল মতিন খসরু এ সময় বলেন, ঘটনাটা হƒদয়বিদারক। কিন্তু আমরা আপাতত পাঁচ লাখ টাকা জমা দিতে চাই।
ক্ষতিপূরণের পক্ষে আইনজীবী রুহুল কুদ্দুস কাজল বলেন, হাইকোর্ট বিভাগ রুলে এক কোটি টাকা ক্ষতিপূরণের কথা বলেছেন। টাকা জমা রাখার জন্য এরই মধ্যে একটা যৌথ ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলা হয়েছে।
শুনানি শেষে বিআরটিসির আইনজীবী মুনীরুজ্জামান বলেন, প্রধান বিচারপতি বলেছেন, ‘কারো ওপর অবিচার হোক, আমরা চাই না। হাইকোর্টের আদেশটা সংশোধন করতে হবে। আর ক্ষতিপূরণের টাকা যে রাজীবের দুই ভাই পাবে সেটা নিশ্চিত করাটা খুব কঠিন।’ আগামীকাল আদালত আদেশ দেবেন।
৮ মে হাইকোর্ট রাজীবের দুই ভাইকে ক্ষতিপূরণের আদেশ দেয়ার পর ১০ মে সে আদেশ স্থগিত চেয়ে চেম্বার আদালতে আবেদন করে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্পোরেশন (বিআরটিসি) ও স্বজন পরিবহন।
চেম্বার বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী বিষয়টি শুনানির জন্য আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে পাঠিয়ে দিলে সোমবার এ বিষয়ে শুনানি হয়।
৩ এপ্রিল কারওয়ান বাজারে বিআরটিসি ও স্বজন পরিবহনের রেষারেষিতে বিআরটিসির যাত্রী রাজীবের ডান কনুইয়ের ওপর থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। তার মাথার সামনে-পেছনের হাড় ভেঙে যাওয়া ছাড়াও মস্তিষ্কের সামনের দিকে আঘাত লাগে।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৭ এপ্রিল রাতে সরকারি তিতুমীর কলেজের এই শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়।