রাজনৈতিক বিবেচনায় আসছে আরো ৪ ব্যাংক

রাজনৈতিক বিবেচনায় আসছে আরো চার ব্যাংক। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র মো. সিরাজুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

সোমবার গভর্নর ফজলে কবিরের সভাপতিত্বে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের সভায় নতুন ব্যাংক অনুমোদনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়।

ব্যাংক চারটি হলো- কমিউনিটি ব্যাংক অব বাংলাদেশ, দ্য বেঙ্গল ব্যাংক, পিপলস ব্যাংক, দ্য সিটিজেন ব্যাংক ও কমিউনিটি ব্যাংক অব বাংলাদেশক। এর মধ্যে পুলিশ সদস্যদের মালিকানায় কমিউনিটি ব্যাংক অব বাংলাদেশকে চূড়ান্ত অনুমোদন দেয়া হয়েছে। তবে বাকি তিন ব্যাংকের কিছু কাগজপত্রে ত্রুটি থাকায় অনুমোদনের জন্য শর্ত জুড়ে দেয়া হয়েছে।

শুরুতে আপত্তি ও নানা সমালোচনা উপেক্ষা করে শেষ পর্যন্ত সরকারের শেষ সময়ে অনুমোদন পেতে যাচ্ছে ব্যাংক চারটি।

এ বিষয়ে মো. সিরাজুল ইসলাম বলেন, পর্ষদের সভায় চারটি ব্যাংকের প্রস্তাব তোলা হয়। একটি ব্যাংকের চূড়ান্ত অনুমোদন দেয়া হয়েছে। বাকি তিনটি শর্তসাপেক্ষে অনুমোদনের সিদ্ধান্ত হয়েছে। তাদের প্রস্তাবে ও নথিপত্রে কিছু ঘাটতি ও ত্রুটি রয়েছে। সেগুলো সংশোধন করে দিলেই অনুমোদন দেবে পর্ষদ। বাংলাদেশ পুলিশের উদ্যোগে কমিউনিটি ব্যাংক অব বাংলাদেশ চালু করার প্রস্তাব করে বাংলাদেশ পুলিশ কল্যাণ ট্রাস্ট। ইতোমধ্যে এ ব্যাপারে নীতিগত সিদ্ধান্ত মেলে। আজ চূড়ান্ত অনুমোদন দেয়া হয়েছে।

দ্য বেঙ্গল ব্যাংকের প্রধান উদ্যোক্তা হলেন আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য মোরশেদ আলমের ভাই বেঙ্গল গ্রুপের ভাইস চেয়ারম্যান মো. জসিম উদ্দিন। দেশে তাদের প্লাস্টিক শিল্পসহ বিভিন্ন ব্যবসা রয়েছে।

দ্য সিটিজেন ব্যাংকের মালিক হলেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হকের মা জাহানারা হক। পিপলস ব্যাংকের উদ্যোক্ত চট্টগ্রামের সন্দ্বীপের বাসিন্দা যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের নেতা এম এ কাশেম।

বাংলাদেশে এখন সরকারি-বেসরকারি মিলিয়ে ৫৮টি বাণিজ্যিক ব্যাংক রয়েছে। আর ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠান রয়েছে ৩৪টি। বাংলাদেশের আর্থিক খাতের চাহিদার তুলনায় ব্যাংকের এই সংখ্যা বেশি বলে মনে করেন অধিকাংশ অর্থনীতিবিদ।

প্রসঙ্গত, ২০১২ সালে নয়টি বেসরকারি ব্যাংকের লাইসেন্স দেয় শেখ হাসিনার নেতৃতাধীন ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সরকার। রাজনৈতিক বিবেচনায় ব্যাংকের অনুমোদন দেয়ায় শুরু থেকেই সমালোচনা করে আসছেন অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা। পরে বর্ডার গার্ড অব বাংলাদেশের (বিজিবি) মালিকানায় সীমান্ত ব্যাংকের অনুমোদন দেয় সরকার।

মানবকণ্ঠ/এএম