রাজনৈতিক ফায়দা নিতে পল্টনে পুলিশের ওপর হামলা: মনিরুল

হামলাকারী হেলমেটধারীসহ গ্রেফতার ৬

রাজনৈতিক ফায়দা নিতে পল্টনে পুলিশের ওপর হামলা: মনিরুল

রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপি কার্যালয়ের সামনে পুলিশের ওপর অতর্কিত হামলা পূর্বপরিকল্পিত বলে জানিয়েছেন কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিটের প্রধান ও অতিরিক্ত ডিএমপি কমিশনার মনিরুল ইসলাম। তিনি বলেন, পুলিশকে উসকে দিয়ে রাজনৈতিক ফায়দা লাভের জন্য ওই হামলা চালানো হয়। পুলিশের ওপর হামলা ও গাড়িতে আগুন দেয়ার ঘটনায় গ্রেফতাররা ছাত্রদলের নেতাকর্মী।

গত সপ্তাহে পল্টনে পুলিশের সঙ্গে বিএনপি সমর্থকদের সংঘর্ষের ঘটনার ভিডিও ও ছবি থেকে শনাক্ত করে ছয়জনকে গ্রেফতার করেছে মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। বিষয়টি জানিয়ে মঙ্গলবার দুপুরে ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন সিটিটিসি প্রধান।

পুলিশকে টার্গেট করে হামলার কারণ হিসেবে মনিরুল ইসলাম বলেন, মামলার তদন্ত, গোয়েন্দা তথ্য ও আসামিদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে— যারা এই হামলার পরিকল্পনা করেছে তাদের উদ্দেশ্য ছিল পুলিশকে উসকানি দিয়ে পুলিশকে অ্যাকশনে যেতে বাধ্য করা। যেন তারা নেতাকর্মীদের ওপর পুলিশের অ্যাকশনের ও লাঠিচার্জের ভিডিও দেখিয়ে বিভিন্ন মহলে রাজনৈতিক ফায়দা নিতে পারে।

তিনি বলেন, গ্রেফতাররা প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পুলিশকে জানায়, বড় নেতারা তাদের হেলমেট পরে যেতে বলেন যাতে নাশকতার সময় কেউ তাদের শনাক্ত করতে না পারে। এ ছাড়া সেখানে আগে থেকেই লাঠিসোঁটা রাখা ছিল। তিনি আরো বলেন, পল্টনের ঘটনায় আসামিরা ফেসবুকের অ্যাকাউন্ট ডিঅ্যাকটিভেটেড করেছিল, তবুও তারা পালাতে পারেনি। অপরাধ করে কেউ পালাতে পারবে না।

অতিরিক্ত ডিএমপি কমিশনার জানান, সেদিন পুলিশ কোনো অ্যাকশনে যায়নি। আমাদের ঢাকা মহানগর পুলিশের যে সক্ষমতা রয়েছে, তাতে তাদের সেখান থেকে সরিয়ে দিতে সর্বোচ্চ ৫/৭ মিনিট সময় প্রয়োজন হতো। নয়াপল্টনে হেলমেট পরা হামলাকারীরা গ্রেফতার হয়, কিন্তু নিরাপদ সড়কের দাবিতে আন্দোলনের সময় ৫ আগস্ট সায়েন্স ল্যাবে সাংবাদিকদের ওপর হামলাকারীরা কেন গ্রেফতার হয় না— এর জবাবে মনিরুল বলেন, ওই ঘটনার তদন্ত চলছে। যেখানেই ফৌজদারি অপরাধ ঘটবে সেখানে পুলিশ আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।’

ইকোনমিস্টের একটি রিপোর্টে লেখা হয়েছে— সংসদ নির্বাচনে বিএনপি-জামায়াত নাশকতা করবে। তাদের ব্যাকআপ দেবে পাকিস্তানি গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই। এ বিষয়ে পুলিশের কাছে কি তথ্য আছে? সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে সিটিটিসি প্রধান বলেন, আমাদের বিশ্বাস ও প্রত্যাশা সব রাজনৈতিক দলের শুভবুদ্ধি উদয় হোক। কিন্তু কেউ যদি নাশকতা করার চেষ্টা করে, সে যেই হোক না কেন তাকে আইনের আওতায় আনা হবে।

পল্টনে পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় গ্রেফতাররা হলেন— মো. এইচ কে হোসেন আলী, সোহাগ ভূঁইয়া, মো. আব্বাস আলী, মো. আশরাফুল ইসলাম রবিন, জাকির হোসেন উজ্জ্বল ও মাহবুবুল আলম। এরা প্রত্যেকে ছাত্রদলের নেতাকর্মী। বিএনপি নেতা মির্জা আব্বাসের অনুসারী।
মনিরুল ইসলাম বলেন, ভিডিও ফুটেজ বিশ্লেষণে দেখা গেছে, আসামিদের মধ্যে হোসেন আলী হেলমেট পরে শার্ট খুলে পুলিশের গাড়ির ওপর উঠে লাফিয়েছিল, সোহাগ শার্ট খুলে লাঠি হাতে পুলিশের গাড়ি ভাঙচুর করে, আব্বাস আলী গাড়ি ভাঙচুর ও পুলিশের ওপর হামলা করেছে, আশরাফুল ইসলাম পুলিশের পিকআপ ভাঙচুর ও পুলিশের ওপর হামলা করেছে। এ ছাড়াও উজ্জ্বল ও মাহবুবুল পুলিশের ওপর হামলা, ভাঙচুর, গাড়িতে অগ্নিসংযোগ ও সড়ক অবরোধ করেছে।

মানবকণ্ঠ/এসএস