রাজনৈতিক আলাপে সরব সচিবালয়

রাজনৈতিক আলাপে সরব সচিবালয়
ঈদুল ফিতরে ছুটি শেষে প্রথম কর্মদিবসে প্রশাসন পরিচালনার কেন্দ্রবিন্দু বাংলাদেশ সচিবালয়ে মন্ত্রী-সচিবদের সরব উপস্থিতি দেখা গেছে। তারা নিজ দফতরে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে ঈদের কুশলাদি বিনিময় করেছেন। কয়েক মন্ত্রী সাংবাদিকদের সঙ্গে বিভিন্ন ইস্যুতে কথা বলেছেন। সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেন, অন্য দলের মতো বিএনপিও নির্বাচনের প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছে। আর অর্থমন্ত্রী আবুল আল আব্দুল মুহিত আগামী নির্বাচনে নিজ আসনে খালেদার চেয়ে এরশাদকে শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বী মনে করছেন। এর কারণ ব্যাখা করে তিনি বলেন, এরশাদ সাহেব সিলেটে ব্যাপক উন্নয়ন করেছেন। যা খালেদা করেননি।

তবে গতকাল সচিবালয়ে কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের উপস্থিতি ছিল হাতে গোনা। এ কারণে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগে ছিল সুনসান নীরবতা। এরই মধ্যে সচিবালয়ে বিএনপি-জামায়াত অনুসারী কর্মকর্তা-কর্মচারী সংযুক্ত পরিষদের নেতারা জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব ড. মো. মোজাম্মেল হক খানের সঙ্গে দেখা করে ৫ দফা দাবিনামা দিয়েছেন।

গতকাল সোমবার সচিবালয় ঘুরে এসব তথ্য জানা গেছে। মন্ত্রীদের মধ্যে আরো যারা অফিস করেছেন তাদের মধ্যে রয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ, কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী, স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহম্মদ নাসিম, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, স্থানীয় সরকার ও পল্লী উন্নয়ন মন্ত্রী খন্দকার মোশাররফ হোসেন, তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু। সবার দফতরেই ছিল বিভিন্ন পদের মিষ্টি।

বিএনপির নির্বাচনী প্রস্তুতির কথা উল্লেখ ক্ষমতাসীন দলের সাধারণ সম্পাদক বলেন, আবার ভোট ছাড়াও দেশের বাইরে বিভিন্ন দেশে দলটির ষড়যন্ত্রমূলক নানা তৎপরতারও সব খবর সরকারের হাতে আছে।

তার (কাদের) দাবি, জনগণের প্রতি আস্থা হারিয়ে এখন ষড়যন্ত্রের পথে হাঁটতেও দ্বিধা করছে না বিএনপি।

বিএনপির আন্দোলন সম্পর্কিত সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে ওবায়দুল কাদের বলেন, আন্দোলনের ডাক দিয়ে বার বার ব্যর্থ হয়ে তারা দেশের জনগণের প্রতি আস্থা হারিয়ে ফেলেছে। জনগণ তাদের ডাকে সাড়া দিচ্ছে না। এজন্যই নানান তৎপরতা তারা চালাচ্ছেন।

তিনি বলেন, আমরা এসব নিয়ে কিন্তু কিছুই বলিনি। কখনো ব্যাংকক গিয়ে, কখনো দিল্লিতে গিয়ে চেষ্টা করছে বিদেশিদের কাছে নালিশ জানিয়ে।

বিএনপির তৎপরতার সব খবরই সরকারের কাছে আছে বলেও জানান কাদের। তিনি বলেন, ব্যাংকক থেকে লন্ডনে যোগাযোগ, অন্যান্য জায়গায় যোগাযোগ, দুবাইতে যোগাযোগ- সব খবর সরকারের কাছে আছে। আমরা শুধু দেখছি তারা কী করে এমন মন্তব্য করেন কাদের।

বিএনপির চক্রান্ত সংক্রান্ত প্রশ্নের জবাবে সেতুমন্ত্রী বলেন, এসব মানুষ কখন করে? যখন নিজের দেশের জনগণের প্রতি আস্থা থাকে না। তখনই হতাশ হয়ে এদিক-সেদিক এবং ষড়যন্ত্রমূলক রাস্তা ধরে চলতেও তখন কোনো দ্বিধা থাকে না।

মন্ত্রী হিসেবে বিভিন্ন এলাকায় সফরে গিয়ে খালেদা জিয়াকে ছাড়া নির্বাচনী আমেজ লক্ষ্য করেছেন কিনা- এমন প্রশ্ন ছিল একজন সাংবাদিকের।

কাদের জবাব দেন, নির্বাচনী আমেজ আছে। কিন্তু কাউকে ঘিরে আমেজটা কেন? নির্বাচন হবে, মানুষ এখন নির্বাচনের মুডে। সব দলেরই নেতারা, সবাই কিন্তু প্রচার শুরু করে দিয়েছেন।

গাজীপুর ও পরে রবিশাল, রাজশাহী এবং সিলেট সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের বিষয়ে সড়কমন্ত্রী বলেন, ‘এগুলো সেমিফাইনাল, এরপর ডিসেম্বরে ফাইনাল। প্রস্তুতি সবার আছে, বিএনপিও বসে নেই।’

বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার চিকিৎসার চেয়ে বিএনপি রাজনৈতিক ইস্যু খুঁজতে ব্যস্ত বলেও অভিযোগ করেন কাদের। তিনি দাবি করেন, এবার ঈদে বাড়ি ফেরার ব্যবস্থাপনা অন্য বছরের তুলনায় ভালো ছিল। আর এজন্য তিনি সড়ক বিভাগ, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, গণমাধ্যমকর্মী, জনপ্রতিনিধিদের ধন্যবাদ জানান।

‘খালেদা জিয়াকে অনেক খাতির করা হচ্ছে’: স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেছেন, কারাবন্দি খালেদা জিয়াকে জেল কোড অনুযায়ী সব সুবিধা দেয়া হচ্ছে। তিনি প্রধানমন্ত্রী ছিলেন, এজন্য তাকে অনেক বিষয়েই খাতির করা হচ্ছে। দুর্নীতির দায়ে তার জেল হবে, আবার যা তা করতে চাইবেন, তাই দেয়া হবে এটা হয় না।

মন্ত্রী বলেন, ঈদের দিন খালেদা জিয়ার সঙ্গে পরিবারের সদস্যদের দেখা করতে দিয়েছে পুলিশ। এটা বাংলাদেশের সবারই সুযোগ আছে। এটা নিয়ে রাজনীতি করার কিছু নেই। দলীয় নেতারা গিয়েছিলেন দেখা করতে দেয়া হয়নি, এটা জেল কোড অ্যালাউ করেনি। খালেদা জিয়ার জেল ইস্যু নিয়ে বিএনপি তো কিছুই করতে পারবে না। যদি কোনো কিছু করার চেষ্টা করে তা করতে দেয়া হবে না।

স্থানীয় সরকার মন্ত্রী বলেন, ঈদের দিনে আত্মীয়-স্বজন দেখা করেছেন খালেদা জিয়ার সঙ্গে। দলীয় নেতারা ঈদের পরদিন দেখা করতে পারতেন বা আজ দেখা করুক, তাতে তো কোনো সমস্যা নেই। আর সাংবাদিকরা এটা ঢালাওভাবে প্রচার করল। সাংবাদিকদের যদি এতটুকু বিবেচনা না থাকে তাহলে তারা সাংবাদিক হলো কী করে। এটা আমার বোধগম্য নয়।

খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, এবার ঈদে মানুষের মাঝে ছিল স্বস্তি। নির্বিঘ্নে মানুষ ঈদুল ফিতর উদযাপন করেছে। যোগাযোগ ব্যবস্থাও ছিল বেশ ভালো।

গতকাল প্রথম কর্মদিবসে প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরের অনেক কর্মকর্তা (সচিব, অতিরিক্ত সচিব, যুগ্ম সচিব, উপসচিব, সিনিয়র সহকারী সচিব) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সচিবের সঙ্গে দেখা করেছেন। এ ছাড়াও সচিবালয় কর্মকর্তা-কর্মচারী সংযুক্ত পরিষদের নেতারা দেখা করে লিখিত ৫ দফা দাবি দিয়েছেন।

সচিবালয়ের ১১১ সৃষ্ট পদের স্থগিতাদেশ প্রত্যাহারের দাবি: সহকারী সচিব ও সিনিয়র সহকারী সচিবের ১১১টি সৃষ্ট পদের স্থগিতাদেশ প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে সচিবালয় কর্মকর্তা-কর্মচারী সংযুক্ত পরিষদ।

সোমবার জনপ্রশাসন সচিব ও অর্থ মন্ত্রণালয়ে স্মারকলিপি দিয়ে এ দাবি জানায় তারা। স্মারকলিপি অনুযায়ী তারা সহকারী সচিব ও সিনিয়র সহকারী সচিবের ১১১টি সৃষ্ট পদের স্থগিতাদেশ প্রত্যাহারের দাবি ছাড়াও তাদের বেতন স্কেল ১০ম থেকে ৯ম গ্রেডে উন্নীতকরণ, অভিন্ন জ্যেষ্ঠতা তালিকা প্রণয়ন করে পদোন্নতির ব্যবস্থা, বেতন সমতাকরণ বিধান পুনর্বহালসহ ৫ দফা দাবি তুলে ধরেন। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব এই স্মারকলিপি গ্রহণ করেন।

এদিকে বরাবরের মতো ঈদের ছুটির পরে সচিবালয়ে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উপস্থিতি ছিল হাতে গোনা। যদিও সচিবালয়ের নিরাপত্তায় নিয়োজিত এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে দুপুর ১২টায় দাবি করে মানবকণ্ঠকে বলেন, কর্মচারীদের উপস্থিতি ৩৫ ভাগের ওপরে।

মানবকণ্ঠ/এসএস