রাজনীতি নিয়ে বিএনপির কোনো ইস্যু নেই: হানিফ

রাজনীতি নিয়ে বিএনপির কোনো ইস্যু নেই: হানিফ

বিএনপি জামায়াতের সামনে এখন রাজনীতি নিয়ে কোনো ইস্যু নেই মন্তব্য ক‌রে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল-আলম হানিফ ব‌লে‌ছেন, জাতির কাছে বলার মতো তাদের কিছু নেই। কারণ যে দলের শীর্ষ নেতা নেত্রী আদালত কর্তৃক দণ্ডপ্রাপ্ত হয়ে কারাগারে এবং বিদেশে পলাতক থাকে, সেই দলের দেশের জনগণের জন্য কথা বলার আর কোনো নৈতিক অধিকারই থাকতে পারে না। তাদের কোন কথা নেই, ইস্যু নেই, ইস্যু এখন নির্বাচন।

বৃহস্পতিবার জাতীয় প্রেসক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলে স্বপ্ন ফাউন্ডেশনের আয়োজনে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় তিনি এ মন্তব্য করেন।

হানিফ বলেন, যারা একাত্তরে দোসর, তার আবার নতুনভাবে ষড়যন্ত্র তৈরি করছে। জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে অকারণে অহেতুক বিতর্ক তুলে আবার দেশের মধ্যে একটি অস্থিরতা তৈরির চক্রান্ত করছে। নির্বাচন হয়ে গেছে। এই নির্বাচনে আওয়ামী লীগ বিজয়ী হয়েছে। এই বিজয় ছিল প্রত্যাশিত। আওয়ামী লীগ যে এই নির্বাচনে নিরঙ্কুশ বিজয় লাভ করবে এটি দেশবাসী জানতো, বিশ্ববাসীও জানতো।

তারপরও যারা ক্ষমতায় থাকতে দেশকে কোন কিছু দিতে পারে নাই, ক্ষমতায় থাকতে যারা দেশকে দুর্নীতিবাজ ও সন্ত্রাসী রাষ্ট্রে পরিণত করেছিলো, ক্ষমতার বাইরে থেকেও যারা দেশের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডকে বাধাগ্রস্থ করেছিল, সেই সমস্ত রাজনীতিবিদরা তাদের অস্তিত্ব রক্ষা করতে এখন নির্বাচনী বিভিন্ন সময় কথা বলে যাচ্ছে।

পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর বৈষম্যমূলক আচরণের কথা উল্লেখ করে এই নেতা বলেন, ১৯৫২ সালের একুশে ফেব্রুয়ারিতে আমরা আমাদের মাতৃ ভাষার জন্য প্রাণ দিয়েছিলাম। পৃথিবীর মধ্যে আর কোন দ্বিতীয় দেশ খুঁজে পাওয়া যাবে না, যাদের তার মায়ের ভাষার জন্য প্রাণ দিতে হয়েছে। একটি জাতির কত দুঃখজনক ব্যাপার যে তারা মায়ের ভাষায় কথা বলতে পারবে না। এর মধ্য দিয়ে প্রমাণ হয়েছিল পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী কতটা বৈষম্যমূলক আচরণ আমাদের সঙ্গে করেছিল।

বাংলা ভাষার ব্যবহার নিয়ে তিনি বলেন, একটা বিষয়ে আমাদের মধ্যে এখনও কষ্ট রয়ে গেছে। এখনো বাংলা ভাষার ব্যবহার সব জায়গায় পরিপূর্ণভাবে হচ্ছে না। বিশেষ করে আমরা দেখি আদালতে যে রায় গুলো লেখা হয়, তা ইংরেজিতে লেখা হয়। আদালত ইংরেজি ভাষায় এই রায় গুলো যেভাবে লিখেন, একমাত্র ওই আদালতের যারা প্র্যাকটিস করা আইনজীবী শুধু তারাই ভালো বুঝতে পারেন। এত দুর্বোধ্য ভাবে লেখা হয়, যা সাধারণ মানুষ বুঝতে পারেনা। আমরা সকলের কাছে আশা করি, যে মাতৃভাষার জন্য আমরা প্রাণ দিয়েছিলাম তা সকল জায়গায় আমরা যেন ব্যবহার করতে পারি।

ডাকসু নির্বাচন নিয়ে এই নেতা বলেন, ডাকসু নির্বাচনে আমাদের তফসিল ঘোষিত হয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রাচ্যের অক্সফোর্ড হিসেবে বিবেচিত। এটি আমাদের বাংলাদেশের ঐতিহ্য। সেই ঐতিহ্যবাহী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদ নির্বাচন হবে। আমরা আশা করছি এই নির্বাচনে যত ছাত্র সংগঠন আছে তারা সবাই অংশ নেবেন।

আলোচনা সভায় আরো উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক অ্যাডভোকেট আফজাল হোসেন, ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সাধারণ সম্পাদক শাহে আলম মুরাদ এবং স্বপ্না ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ রিয়াজ উদ্দিন রিয়াজ প্রমুখ।

মানবকণ্ঠ/এসএস