রাজনীতির ইতিহাসে বিষ দিয়ে হত্যার যত চেষ্টা

রাজনৈতিক স্বার্থ রক্ষায় বিষ প্রয়োগ করে অনেককেই হত্যার চেষ্টা করা হয়েছে। বিষ দিয়ে মারার সর্বশেষ প্রচেষ্টা ঘটেছে ব্রিটেনে: রুশ গুপ্তচর সের্গেই স্ক্রিপাল ও তার কন্যা কোনো অজ্ঞাত বিষের ক্রিয়ায় হাসপাতালে। কিন্তু রাজনীতির ইতিহাসে বিষ দিয়ে মারার চেষ্টা বহুবার হয়েছে- কখনো সফল, কখনো বিফল। নিচে এ রকম কিছু ঘটনার কথা উল্লেখ করা হলো-

গেয়র্গি মার্কভ
১৯৭৮ সালে বুলগেরীয় সরকারবিরোধী মার্কভ বিবিসিতে কাজ শেষ করে বাসের জন্য অপেক্ষা করছিলেনÑ হঠাৎ কিছু একটা তার থাই ফুঁড়ে দেয়। ওদিকে মার্কভ দেখেন, এক পথচারী তার ছাতা মাটি থেকে তুলছে।
ছুঁচ ফোটার জায়গাটা ফুলে উঠে চারদিনের মধ্যে মার্কভ প্রাণ হারান। ময়নাতদন্ত বলে, একটি শূন্য দশমিক দুই মিলিগ্রাম রিসিন বিষের পেলেট থেকে মার্কভের মৃত্যু ঘটেছে।
পথচারীর ছাতা থেকেই পেলেটটা ছোড়া হয়েছিল, বলে অনেকের বিশ্বাস।

গ্রিগরি রাসপুটিন
রুশ বিপ্লবের ঠিক আগে রাসপুটিন একজন আধ্যাত্মিক শক্তিসম্পন্ন গুনিন হিসেবে পরিচিত ছিলেন। ১৯১৬ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর তিনি সেন্ট পিটার্সবার্গের ইয়ুসুপভ প্রাসাদে আসেন প্রিন্স ফেলিক্স ইয়ুসুপভের আমন্ত্রণে।
প্রিন্স ইয়ুসুপভ তাকে পটাসিয়াম সায়ানাইড বিষ মাখানো কেক খেতে দেন ও সায়ানাইড মাখানো পাত্রে সুরা পরিবেশন করেন। সেই বিষাক্ত কেক ও সুরা থেকে রাসপুটিনের
কিছুই হয় না। অতঃপর রাসপুটিনকে গুলি করে
হত্যা করা হয়।

সের্গেই স্ক্রিপাল
৬৬ বছর বয়সি সাবেক রুশ গুপ্তচর সের্গেই স্ক্রিপালকে ব্রিটেনের স্যালিসবেরি শহরের একটি শপিংমলের সামনে অজ্ঞান অবস্থায় একটি বেঞ্চের ওপর পাওয়া যায়।
তিনি কোনো অজ্ঞাত বিষের শিকার হয়েছেন বলে পুলিশের ধারণা। রুশ প্রেসিডেন্ট ভøাদিমির পুতিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেস্কভ এই পরিস্থিতিকে ‘দুঃখজনক’ বললেও যোগ করেছেন যে, ‘(ঘটনার) কারণ কী হতে পারে অথবা
সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি কী করেছেন, সে বিষয়ে আমাদের কাছে কোনো তথ্য নেই।’

ভিক্টর ইউশ্চেঙ্কো
ইউক্রেনের বিরোধী নেতা ইউশ্চেঙ্কো ২০০৪ সালের নভেম্বর মাসে অসুস্থ হয়ে পড়েন ও দেখা যায় যে, একটি ভাইরাল ইনফেকশন ও সে সঙ্গে রাসায়নিকের বিষক্রিয়ার ফলে তার অ্যাকিউট প্যানক্রিয়াটিস হয়েছে। এর ফলে ইউশ্চেঙ্কোর জন্ডিস হয়, মুখ ফুলে যায় এবং ত্বকে এক ধরনের দাগ থেকে যায়, যা ডাইঅক্সিন বিষের প্রভাবে ঘটে থাকতে পারে বলে চিকিৎসকদের ধারণা। সরকারি চররা তাকে বিষ দিয়েছে বলে ইউশ্চেঙ্কো দাবি করেন।

কিম জং নাম
উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনের বৈমাত্রেয় ভাই কিম জং নাম ২০১৭ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি কুয়ালালামপুর বিমানবন্দরে প্রাণ হারান। দৃশ্যত দুই মহিলা তার মুখে ভিএক্স নামের একটি রাসায়নিক মাখিয়ে দিয়েছিলেন। গতমাসে মালয়েশিয়ার একটি আদালতে অভিযুক্তদের বিচার চলার সময় জানা যায় যে, আক্রান্ত হওয়ার সময় কিম জং নামের পিঠের ব্যাগে ভিএক্স বিষের ডজন খানেক অ্যাম্পুল ছিল।

আলেক্সান্ডার লিটভিনেঙ্কো
সাবেক রুশ গুপ্তচর লিটভিনেঙ্কো দেশ ছেড়ে ব্রিটেনে আশ্রয় নেয়ার পর সাংবাদিকতা শুরু করেন এবং রাশিয়ার ফেডারাল সিকিউরিটি সার্ভিস এফএসবি ও পুটিনের বিরুদ্ধে দুটি বই লেখেন। ২০০৬ সালের ২৩ নভেম্বর দু’জন সাবেক কেজিবি কর্মকর্তার সঙ্গে সাক্ষাতের পর লিটভিনেঙ্কো অসুস্থ হয়ে পড়েন ও পরে হাসপাতালে প্রাণত্যাগ করেন। সরকারি তদন্তে দেখা যায় যে, তেজস্ক্রিয় পলোনিয়াম-২১০ বিষের ক্রিয়ায় তার মৃত্যু হয়েছে।

ভিক্টর কালাশনিকভ
সোভিয়েত কেজিবি গোয়েন্দা বিভাগের সাবেক কর্নেল ভিক্টর কালাশনিকভ তখন সাংবাদিক হিসেবে সস্ত্রীক বার্লিনে বসবাস করছিলেন। ২০১০ সালের নভেম্বর মাসে কালাশনিকভ ও তার স্ত্রীকে হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়। সেখানে তাদের রক্তে যথাক্রমে ৩ দশমিক ৭ ও ৫৬ মাইক্রোগ্রাম পারদ পাওয়া যায়। স্বাভাবিক অবস্থায় রক্তে এক থেকে তিন মাইক্রোগ্রাম পারদ থাকা নিরাপদ। পরে এক সাক্ষাৎকারে কালাশনিকভ বলেন, ‘মস্কো আমাদের বিষ দিয়েছে।’

খালেদ মেশাল
১৯৯৭ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর তারিখে ইসরাইলের গুপ্তচর বিভাগ হামাস নেতা খালেদ মেশালকে হত্যা করার চেষ্টা করে। কথিত আছে, ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু স্বয়ং নাকি হত্যার নির্দেশ দিয়েছিলেন। মেশাল জর্ডানের আম্মানে অবস্থিত হামাসের কার্যালয় থেকে বেরোনোর সময় দু’জন ইসরাইলি গুপ্তচর তার কানে কোনো বিষাক্ত পদার্থ স্প্রে করে। মেশাল অক্ষতই থাকেন এবং পরে ওই দু’জন ইসরাইলি গুপ্তচরকে ধরাও সম্ভব হয়। – রাজনীতি ডেস্ক

Leave a Reply

Your email address will not be published.