রাজধানীসহ সারাদেশে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত ৩

আইনশৃ্ঙ্খলা বাহিনীর মাদকবিরোধী অভিযানে গত ২৪ ঘণ্টায় রাজধানীসহ সারাদেশে কথিত বন্দুকযুদ্ধে তিনজন ‘মাদক কারবারি’ নিহত হয়েছেন। বন্দুকযুদ্ধগুলো – ঢাকার শ্যামলী, কক্সবাজারের টেকনাফ ও যশোরের শার্শা উপজেলয় ঘটেছে।

শ্যামলীতে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ ‘মাদক কারবারি’ নিহত রাজধানীর শ্যামলীতে র‌্যাবের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ মেহেদী হাসান (৩২) নামে এক ‘মাদক কারবারি’ নিহত হয়েছেন

বুধবার ভোর ৬টার দিকে শ্যামলীর বাংলাদেশ স্পেশালাইজড হাসপাতালের সামনের সড়কে এ ঘটনা ঘটে।র‌্যাব-২ এর কোম্পানি কমান্ডার ও পুলিশ সুপার (এসপি) মুহাম্মদ মহিউদ্দিন ফারুকী বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

নিহত মেহেদী হাসানের কাছ থেকে একটা বিদেশি পিস্তল, পাঁচ রাউন্ড গুলি, ৩০০ গ্রাম হেরোইন, নগদ এক হাজার ৬৫০ টাকা, একটি জাতীয় পরিচয়পত্র, একটি ড্রাইভিং লাইসেন্স ও বাসের পাঁচটি টিকেট উদ্ধার করা হয়েছে।

এসপি মহিউদ্দিন জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র‍্যাব জানতে পারে মাদক ব্যবসায়ীদের একটি গ্রুপ চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে বাসযোগে মাদকসহ ঢাকায় আসছে। সংবাদ পেয়ে র‍্যাব রাজধানীর গাবতলী, দারুসসালাম ও কল্যাণপুরে অবস্থায় নেয়। একটি বাসকে লক্ষ্য করে র‍্যাব তার পিছু নেয়। শ্যামলী এলাকায় বাস থেকে কয়েকজন যাত্রী নামলে র‌্যাব সদস্যরা তাদের তল্লাশি করেন। এর মধ্যেই একজন বাস থেকে নেমে তল্লাশি করা দেখে হাঁটতে থাকেন। এ সময় র‌্যাব সদস্যরা পেছন থেকে তাকে ডাকতেই র‌্যাবকে লক্ষ্য করে কয়েকজন গুলি ছুঁড়তে থাকে।

আত্মরক্ষার্থে র‌্যাব সদস্যরাও পাল্টা গুলি ছুড়লে ঘটনাস্থল থেকে একজনকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। পরে গুলিবিদ্ধ ওই ব্যক্তিকে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। গোলাগুলির সময় হাসপাতালের পেছন দিয়ে আরও তিন-চারজন পালিয়ে যান বলেও জানান তিনি।

নিহতের মরদেহের সাথে থাকা জাতীয় পরিচয়পত্র ও ড্রাইভিং লাইসেন্স যাচাই করে তার নাম-পরিচয় নিশ্চিত হওয়া গেছে। নিহত মেহেদী রাজশাহীর সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে মাদক এনে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকাসহ নারায়ণগঞ্জে সরবরাহ করতেন বলে জানান এসপি মহিউদ্দিন।

টেকনাফে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ রোহিঙ্গা ‘মাদক কারবারি’ নিহত কক্সবাজারের টেকনাফের সাবরাংয়ে বর্ডার গার্ড ব্যাটালিয়নের (বিজিবি) সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ মো. জাফর আলম (২৬) নামের এক রোহিঙ্গা মাদক কারবারি নিহত হয়েছেন। এ সময় ঘটনাস্থল থেকে ৫ হাজার পিস ইয়াবা ও একটি আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করা হয়। বুধবার ভোর সাড়ে ৪টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। ‘বন্দুকযুদ্ধে’ বিজিবির দুইজন সদস্য আহত হয়েছেন।

নিহত মাদক কারবারি জাফর টেকনাফ নয়াপাড়া মুছনী রোহিঙ্গা ক্যাম্পের শালবাগান ‘এ’ ব্লকের দ্বীন মোহাম্মদের ছেলে।

টেকনাফ-২ বর্ডার গার্ড ব্যাটালিয়নের পরিচালক লে. কর্নেল মো. আছাদুদ-জামান চৌধুরী বলেন, ইয়াবা পাচার কাজে জড়িত থাকার অভিযোগে গত মঙ্গলবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় মিয়ানমারের নাগরিক জাফরকে রোহিঙ্গা ক্যাম্প থেকে আটক করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে সে জানায়, বুধবার ভোরে সাবরাং ইউনিয়নের ৫ নম্বর স্লুইচ গেট এলাকা দিয়ে মিয়ানমার থেকে ইয়াবার একটি চালান বাংলাদেশে ঢুকবে। এমন খবরে জাফরকে সঙ্গে নিয়ে নায়েক সুবেদার মো. তফাজ্জল হোসেনের নেতৃত্বে বিজিবির একটি টিম ওই স্থানে আগে থেকেই অবস্থান নেয়।

লে. কর্নেল মো. আছাদুদ-জামান চৌধুরী আরো জানান, ভোর সাড়ে ৪টার দিকে ওই স্থানে একদল লোককে খাল দিয়ে আসতে দেখে বিজিবি সদস্যরা চ্যালেঞ্জ করলে তারা বিজিবি সদস্যদের লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে এবং ধারালো অস্ত্র নিয়ে বিজিবির ওপর আক্রমণ করে।

আত্মরক্ষার্থে বিজিবিও ২০ থেকে ২৫ রাউন্ড গুলি ছোড়ে। এক পর্যায়ে ইয়াবা কারবারিরা পিছু হটলে ঘটনাস্থল থেকে পাঁচ হাজার পিস ইয়াবা, একটি আগ্নেয়াস্ত্র ও গুলিবিদ্ধ অবস্থায় জাফর আলমের মরদেহ উদ্ধার করা হয় বলে জানান আছাদুদ-জামান। এ সময় বিজিরি দুই সদস্যও আহত হন বলে জানান তিনি।

শার্শায় ‘বন্দুকযুদ্ধে’ অজ্ঞাত ‘মাদক কারবারি’ নিহত যশোরের শার্শায় ‘বন্দুকযুদ্ধে’ অজ্ঞাতপরিচয় এক মাদক কারবারি (২৬) নিহত হয়েছেন। পুলিশের দাবি, দুই দল মাদক কারবারির মধ্যে বন্দুকযুদ্ধে তার মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার দিবাগত রাতে উপজেলার উলাশি কুঁচেমোড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

শার্শা থানার এসআই আবুল হাসান জানান, মঙ্গলবার রাত সাড়ে ৩টার দিকে কুঁচেমোড়া এলাকায় গোলাগুলির খবর পেয়ে শার্শা থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে মাদক কারবারিরা পালিয়ে যায়। এ সময় ঘটনাস্থল থেকে অজ্ঞাত একজনের গুলিবিদ্ধ লাশ উদ্ধার করা হয়। এছাড়া দুই কেজি গাঁজা, একটি ওয়ান শুটার গান ও এক রাউন্ড গুলিও উদ্ধার করা হয়েছে। নিহতের মরদেহ যশোর জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।

তিনি আরো জানান, ধারণা করা হচ্ছে মাদক কারবারিদের অভ্যন্তরীণ কোন্দলের কারণে নিজেদের মধ্যে বন্দুকযুদ্ধে অজ্ঞাত ওই মাদক কারবারি নিহত হয়েছেন।

মানবকণ্ঠ/এআর