রাজধানীসহ সারাদেশে আরো ১০ জন নিহত

রাজধানীসহ সারাদেশে আরো ১০ জন নিহত

মাদকবিরোধী অভিযানে রাজধানী ঢাকার তেজগাঁওসহ আট জেলায় কথিত বন্দুকযুদ্ধে ও গোলাগুলিতে আরো ১০ জন নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে রাজধানী ঢাকায় র‌্যাবের গুলিতে একজন নিহত হয়েছেন। পুলিশের গুলিতে নেত্রকোণায় দুইজন এবং ময়মনসিংহ, সাতক্ষীরা, ঝিনাইদহ, কুমিল্লা ও শেরপুরে একজন করে মোট সাতজন নিহত হয়েছেন। এছাড়া কক্সবাজারের মহেশখালী ও হিমছড়িতে দুইজনের গুলিবিদ্ধ লাশ পাওয়ার কথা জানিয়ে পুলিশ বলেছে, মাদক বিক্রেতাদের মধ্যে গোলাগুলিতে তাদের মৃত্যু হয়েছে।

বৃহস্পতিবার রাত থেকে শুক্রবার সকালের মধ্যে কথিত এসব বন্দুকযুদ্ধ ও গোলাগুলির ঘটনা ঘটে বলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দাবি করেছেন। পুলিশ ও র‌্যাবের দাবি, নিহতরা সবাই মাদক চোরাকারবারে জড়িত ছিল। কারও কারও বিরুদ্ধে থানায় মাদক আইনে একাধিক মামলাও রয়েছে।

ঢাকা : রাজধানীর তেজগাঁওয়ের র‌্যাবের সঙ্গে গোলাগুলিতে কামরুল মাদক ও অস্ত্র মামলার আসামি এক যুবক নিহত হয়েছেন। তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানার এসআই মিজানুর রহমান বলেন, বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১২টার দিকে বিজি প্রেস স্কুল মাঠের গলিতে এ গোলাগুলি ঘটনা ঘটে।

নিহত কামরুরেলর বয়স অনুমানিক ৩৫ বছর। তেজগাঁও রেললাইন বস্তি এবং মহাখালী সাততলা বস্তি এলাকার শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী কামরুল ১৫টির বেশি মাদক ও অস্ত্র মামলার সাজাপ্রাপ্ত আসামি বলে র‌্যাব জানিয়েছে।

ময়মনসিংহ : ময়মনসিংহ নগরীতে বন্দুকযুদ্ধে শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী ৩৪ বছর বয়সী রাজন মিয়া নিহত হয়েছে। জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ওসি আশিকুর রহমান জানিয়েছেন, নগরীর পুরোহিত এলাকার হারনি মিয়ার ছেলে শীর্ষ মাদক ব্যাবসায়ী রাজনের বিরুদ্ধে অস্ত্র ও মাদকসহ নয়টি মামলা রয়েছে।

শুক্রবার রাত পৌনে ২টার দিকে পুরোহিত মহল্লায় রেলওয়ে কলোনীর রেনু বেগমের পুকুরের পাড়ে এ গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় তিনিসহ পুলিশের এক কনস্টেবল আহত হয়েছেন বলে এ পুলিশ কর্মকর্তা জানান। এছাড়া ঘটনাস্থল থেকে ৪০০ টি ইয়াবা, তিনটি গুলির খোসা ও একটি চাইনিজ কুড়াল উদ্ধার করা হয়েছে।

নেত্রকোণা : মাদক বিরোধী অভিযানের সময় পুলিশের সঙ্গে গোলাগুলিতে নেত্রকোণা সদর উপজেলায় দুই যুবক নিহত হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে। উপজেলার মদনপুর ইউনিয়নের মনাং গ্রামে বৃহস্পতিবার রাত ১টার দিকে এ ঘটনা ঘটে বলে নেত্রকোণা মডেল থানার ওসি বোরহান উদ্দিন খান জানান।

নিহত ৩৫ বছর বয়সী দুই যুবক মাদক বিক্রেতা বলে এ পুলিশ কর্মকর্তার দাবি।

কক্সবাজার : মাদকবিরোধী অভিযানের মধ্যে কক্সবাজারে পৃথক এলাকা থেকে এক ইউপি সদস্য ও এক যুবকের লাশ পাওয়া গেছে। পুলিশ বলছে, দুই দল মাদক বিক্রেতার গোলাগুলিতে এরা নিহত হয়েছে।

কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আফরুজুল হক টুটুল বলেন, রামু উপজেলার কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভ সড়কের হিমছড়ি এলাকা থেকে শুক্রবার সকালে আখতার কামালের (৪৮) লাশ উদ্ধার করা হয়।

আফতার টেকনাফ উপজেলার সাবরাং ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য ছিলেন। তার নামে টেকনাফসহ কক্সবাজারের বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলা রয়েছে এবং তিনি এমপি আবদুর রহমান বদির বেয়াই বলে পুলিশ জানায়।

অন্যদিকে বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলার বড় মহেশখালী ইউনিয়নের পাহাড়তলী এলাকা থেকে মোস্তাক আহমদের (৩২) লাশ উদ্ধারের খবর জানিয়েছেন মহেশখালী থানার ওসি প্রদীপ কুমার দাস।

সাতক্ষীরা : সাতক্ষীরার কলারোয়া উপজেলায় পুলিশের সঙ্গে কথিত বন্দুকযুদ্ধে ইউনুস আলী দালাল নামে এক ব্যক্তি নিহতের খবর জানিয়েছেন। কলারোয়া থানার ওসি বিপ্লব কুমার নাথ জানান, বৃহস্পতিবার রাত পৌনে দুইটার দিকে উপজেলার সোনাবাড়িয়া ইউনিয়নের রামকৃষ্ণপুর-বড়ালি গ্রামে এ গোলাগুলি ঘটনায় নিহত ইউনুস আলী দালাল নিহত হন।

কলারোয়ার দক্ষিণ ভাদিয়ালি গ্রামের আব্দুল্লাহ দালালের ছেলে ইউনুস একজন শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী এবং তার বিরুদ্ধে একাধিক মাদক মামলার বিচার চলছে বলে ওসি বিপ্লবের ভাষ্য।

ঝিনাইদহ : ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলায় পুলিশের সঙ্গে কথিত বন্দুকযুদ্ধে শামীম সরদার (৪৫) নামের এক মাদক বিক্রেতা নিহত হয়েছে। উপজেলার আড়পাড়ায় বৃহস্পতিবার রাত ১১ টার দিকে এ গোলাগুলির ঘটনা ঘটে বলে কালীগঞ্জ থানার ওসি মিজানুর রহমান জানান।

শামীম ওই এলাকার মমিন সরদারের ছেলে। তিনি উপজেলার অন্যতম শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী এবং তার বিরুদ্ধে কালীগঞ্জ থানায় নয়টি মাদক মামলা রয়েছে বলে পুলিশ জানায়।

কুমিল্লা : কুমিল্লায় মাদক বিরোধী অভিযানের সময় বন্দুকযুদ্ধে কামাল হোসেন ওরফে ফেন্সি কামাল (৫১) নামের এক তালিকাভুক্ত এক মাদক ব্যবসায়ী নিহতের খবর জানিয়েছেন বুড়িচং থানার ওসি মনোজ কুমার। উপজেলার ষোলনল ইউনিয়নের মহিষমারা এলাকায় বৃহস্পতিবার রাত সোয়া ১২টার দিকে এ ঘটনায় নিহত কামাল হোসেন সদর উপজেলার রাজমঙ্গলপুর গ্রামের হিরন মিয়ার ছেলে।

তার বিরুদ্ধে বুড়িচং ও কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানায় ১২টির অধিক মাদকের মামলা রয়েছে। এছাড়া ঘটনাস্থল থেকে ১ রাউন্ড কার্তুজসহ একটি পাইপগান ও ৫০ কেজি গাঁজা উদ্ধার করা হয়েছে বলে ওসি জানিয়েছেন।

শেরপুর : শেরপুর সদর উপজেলায় পুলিশের সঙ্গে কথিত বন্দুকযুদ্ধে মাদক ব্যবসায়ী আজাদ ওরফে কালু ডাকাত নিহত হয়েছে। উপজেলার চরপক্ষীমারী ইউনিয়নের ব্রহ্মপুত্র সেতুর কাছে সাতপাকিয়া এলাকায় শুক্রবার ভোর ৩টার দিকে এ গোলাগুলির ঘটনা ঘটে বলে শেরপুর সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো.আমিনুল ইসলাম জানান।

কালু সদরের মরাকান্দি খাসপাড়া গ্রামের মুন্তাজ আলীর ছেলে এবং চরপক্ষীমারী ইউনিয়নের সংরক্ষিত নারী আসনের সদস্য মমতাজ বেগমের ভাই।

গোলাগুলির সময় শেরপুর সদর থানার এক এসআই ও দুই পুলিশ কনস্টেবল আহত হলে তাদের জেলা সদর হাসপাতলে ভর্তি করা হয় বলে পুলিশ কর্মকর্তা আমিনুলের ভাষ্য।

চলতি মাসের ৪ মে থেকে মাদকবিরোধী অভিযান শুরু হয়েছে। অভিযানের মধ্যে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কথিত এই বন্দুকযুদ্ধে গত ছয় দিনে দেশের বিভিন্ন জেলায় অন্তত ৫৫ জন নিহত হয়েছে।

এদিকে মানবাধিকার সংগঠনগুলো এসব বন্দুকযুদ্ধ বা ক্রসফায়ারের ঘটনাকে ‘বিচারবহির্ভূত হত্যা’ হিসেবে বর্ণনা করে তা বন্ধের দাবি জানিয়ে আসছে। অন্যদিকে সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, মাদকের সঙ্গে জড়িত যেই হোক, কাউকে কোনো ছাড় দেয়া হবে না।

মানবকণ্ঠ/ডিএইচ/এসএস