রাজধানীর গ্যাস সমস্যা সমাধানে আরো ৯-১০ দিন লাগবে

রাজধানীর গ্যাস সমস্যা সমাধানে আরো ৯-১০ দিন লাগবে

রাজধানীর উত্তরা, আজিমপুর, পান্থপথ, রামপুরা, বনশ্রী, মিরপুরসহ পুরান ঢাকায় দিনের অংশে গ্যাসের চাপ এত কম যে, রান্নাই করা যায় না। বিকেলে ও রাতে গ্যাস সরবরাহ থাকলেও সকাল, দুপুর ও সন্ধ্যায় থাকছে না গ্যাস। এতে নগরবাসীকে সীমাহীন দুর্ভোগে পড়তে হচ্ছে। আর এ সমস্যা থেকে উত্তরণ ও গ্যাসের সরবরাহ স্বাভাবিক হতে আরো ১০ দিন সময় লাগতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

সূত্র মতে, পাইপলাইনের সমস্যার কারণে চট্টগ্রামের মহেশখালীর ভাসমান টার্মিনাল (এফএসআরইউ) থেকে এলএনজি সরবরাহে ঘাটতি দেখা দিয়েছে। ফলে রোববার থেকে নগরীর বাসাবাড়িতে দিনের বেলায় গ্যাসের চুলায় রান্না করা যাচ্ছে না। মহেশখালীর ভাসমান টার্মিনাল (এফএসআরইউ) থেকে এলএনজি সরবরাহ শুরু করতে আরো প্রায় ১০ দিন সময় লাগতে পারে।

তিতাসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোস্তফা কামাল বলেন, গত রোববার থেকে সাপ্লাই চেইনে সমস্যা হচ্ছে। ফলে তিতাসের সেবা পরিধিভুক্ত এলাকায় গ্যাস সরবরাহ কমে গেছে। তিনি জানান, সমাধানের চেষ্টা চলছে। আমরা তো আশা করছি যে কোনো সময় এটি ঠিক হয়ে যাবে। বাংলাদেশ গ্যাস ট্রান্সমিশন কোম্পানির (জিটিসিএল) ব্যবস্থাপনা পরিচালক আলী মো. আল মামুন বলেন, ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল থেকে প্রতিদিন ৩০ কোটি ঘনফুট গ্যাস পাচ্ছিল জাতীয় গ্রিড। কিন্তু যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে গত রোববার থেকে গ্যাস আসছে না। কর্তৃপক্ষ সেটি মেরামতের চেষ্টা চালাচ্ছে।

রূপান্তরিত প্রাকৃতিক গ্যাস কোম্পানি লিমিটেডের (আরপিজিসিএল) পরিচালনা বিভাগের পরিচালক কামরুজ্জামান খান জানান, তিতাসের সেবার আওতাধীন এলাকায় প্রতিদিন ১৭০ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করে আসছিলেন তারা। অবশ্য সেটিও চাহিদার তুলনায় কম। এলএনজি সরবরাহের দায়িত্বে থাকা রূপান্তরিত প্রাকৃতিক গ্যাস কোম্পানি লিমিটেড (আরপিজিসিএল) সূত্র জানায়, ভাসমান টার্মিনাল ও সমুদ্র তলদেশের পাইপলাইনের মধ্যবর্তী সংযোগস্থলের হাইড্রোলিক বাল্বটি অকার্যকর হয়ে গেছে। ফলে পাইপলাইনে গ্যাস আসছে না।

এ বিষয়ে আরপিজিসিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী মো. কামরুজ্জামান বলেন, ‘এলএনজি সরবরাহ ১৫ তারিখের দিকে ঠিক হয়ে যাবে।’ তিনি বলেন, ‘অকার্যকর হয়ে যাওয়া হাইড্রোলিক বাল্বটি ৪০ মিটার পানির নিচে পাইপলাইনের মধ্যে আছে। অভিজ্ঞ লোক ছাড়া মেরামত সম্ভব নয়। তাই এই কাজের জন্য বেসরকারি প্রতিষ্ঠান সামিটের ভাসমান টার্মিনাল স্থাপনের জন্য যারা এখন মহেশখালীতে কাজ করছেন, তাদের সহায়তা চাওয়া হয়েছে। তাদের ডুবুরি আছে। এই ধরনের কাজের জন্য বিশেষায়িত জাহাজ প্রয়োজন। সেটিও এখন মহেশখালীতে আছে।’

এদিকে গত ১৮ আগস্ট থেকে পাইপলাইনে এলএনজির বাণিজ্যিক সরবরাহ শুরু হয়। এর আড়াই মাসের মধ্যে দ্বিতীয়বারের মতো গত শনিবার পাইপলাইনের নতুন করে এই ত্রুটি দেখা দেয়। এতে জাতীয় গ্রিডে ৩০ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ কমে গেছে। এর আগেও পাইপলাইনের মধ্যেকার বিশেষ সংযোগে ত্রুটির কারণে বার বার তারিখ নির্ধারণ করার পরও গ্যাস সরবরাহ শুরু করা যায়নি।

পেট্রোবাংলা সূত্র জানায়, বর্তমানে দেশে গ্যাসের চাহিদা প্রতিদিন প্রায় ৩৫০ কোটি ঘনফুট। এলএনজি সরবরাহ শুরু হওয়ার পর এই চাহিদার বিপরীতে প্রায় ৩শ’ কোটি ঘনফুট সরবরাহ হচ্ছিল। এখন তা আবার কমে ২৭০ কোটি ঘনফুটে নেমেছে। প্রতিদিন ১৫ কোটি ঘনফুট গ্যাস কম পাচ্ছে তিতাস, যা স্বাভাবিক সরবরাহের প্রায় ৯ শতাংশ কম। বর্তমানে তিতাস দেশের মোট ১৯টি বিদ্যুৎকেন্দ থেকে গ্যাস সরবরাহ করে। এর মধ্যে বর্তমানে ১০টি বিদ্যুৎকেন্দ্রে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ রেখেছে।

তিতাস সূত্র জানায়, গাজীপুর, সাভার, আশুলিয়া, টঙ্গী, চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন এলাকার শিল্প-কারখানায় গ্যাসের চাপ কমে গেছে। তবে বেশি সমস্যা হচ্ছে ঢাকায় বাসাবাড়িগুলোয়। সারাদেশে সব মিলিয়ে প্রতিদিন ৩৫০ কোটি ঘনফুট গ্যাসের চাহিদা থাকলেও তা কখনই পূরণ করা যায় না।

মানবকণ্ঠ/এসএস

Leave a Reply

Your email address will not be published.