রাজধানীর উত্তর সিটিতে বইছে নির্বাচনী হাওয়া


রাজধানীর উত্তর সিটিতে নির্বাচনী হাওয়া বইছে। পৌষের হিমেল হাওয়ায় মেয়র প্রার্থীদের সমর্থকরা সকাল সকাল জেগে নির্বাচনী মাঠে অবস্থান করছেন। রাজধানীর উত্তর সিটির এ উপনির্বাচনকে ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে চলছে নানা হিসাব-নিকাশ। আর এ নির্বাচনের ফলাফলে মোড় ঘুরে দিতে পারে আগামী একাদশ নির্বাচনের সব হিসাব-নিকাশ। এমনটি মনে করছেন- রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। আর পাল্টে যেতে পারে দেশের সার্বিক রাজনৈতিক পরিস্থিতিও।

মঙ্গলবার নির্বাচন কমিশনের তফসিল ঘোষণার পর পরই ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ও ২০ দলের প্রধান শরিক বিএনপির নেতাকর্মীরা নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণা শুরু করেছেন। প্রার্থী বাছাইয়ের কাজও শুরু করেছে দল দুটি। বিএনপি জোটের মেয়র প্রার্থী আগে থেকেই চূড়ান্ত হলেও আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণার অপেক্ষায় রয়েছে। আওয়ামী লীগ থেকেও একজনকে ‘গ্রিন সিগনাল’ দেয়ার কথা বলা হলেও এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসবে ১৬ জানুয়ারি দলের স্থানীয় সরকার মনোনয়ন বোর্ডের বৈঠকে।

এ ছাড়া প্রার্থী ঘোষণা করছে সিপিবি, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, ইসলামী ঐক্যজোট ও এনডিএম। আর যোগ্য প্রার্থী না থাকায় ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের প্রার্থীর বিরুদ্ধে দাঁড়াবে না সংসদের বিরোধী দল জাতীয় পার্টি। গতকাল মানবকণ্ঠকে এমনটি জানিয়েছেন জাতীয় পার্টির এক শীর্ষ নেতা। এ জন্য তত্পরতা দেখা যায়নি দলটির শীর্ষ নেতাদের মধ্যে।

মঙ্গলবার নির্বাচন কমিশন তফসিল ঘোষণার পরই গতি পেয়েছে নির্বাচনী হাওয়া। ঢাকা উত্তরের মেয়র পদে উপনির্বাচনের পাশাপাশি দুই সিটিরই বর্ধিত ৩৬ ওয়ার্ডের কাউন্সিলর এবং সংরক্ষিত মহিলা কাউন্সিলর নির্বাচনের ভোট গ্রহণ ওই একইদিন। তাই পুরো রাজধানীতেই এখন নির্বাচনী আমেজ বইছে।

আওয়ামী লীগ: ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের উপনির্বাচনে প্রয়াত মেয়র আনিসুল হকের মতোই একজন গতিশীল ও ক্লিন ইমেজের প্রার্থী দিতে চায় আওয়ামী লীগ। ইতোমধ্যে প্রার্থী বাছাইয়ের প্রক্রিয়াও শুরু করেছে তারা। তফসিল ঘোষণার পর গতকাল বুধবার দলের আগ্রহীদের মনোনয়ন ফরম সংগ্রহের আহ্বান জানিয়েছে দলটি। দলীয় সভাপতির ধানমণ্ডির অফিস থেকে আগামী ১৩, ১৪ ও ১৫ (শনি, রোব ও সোমবার) জানুয়ারি ১১টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত মনোনয়নের আবেদন ফরম সংগ্রহ করতে বলা হয়েছে এবং ১৫ জানুয়ারি (সোমবার) সন্ধ্যা সাতটার মধ্যে মনোনয়নের আবেদনপত্র জমা দিতে হবে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ক্ষমতাসীন দলের মনোনয়নপ্রত্যাশীরা নানাভাবে লবিং-তদবির করছেন। দলের হাইকমান্ডের সবুজ সংকেত পেয়েছি- এমন দাবি নিয়ে নির্বাচনী এলাকার বিভিন্ন জায়গায় গণসংযোগ করছেন বাংলাদেশ তৈরি পোশাক প্রস্তুত ও রফতানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) সাবেক সভাপতি ব্যবসায়ী আতিকুল ইসলাম। তবে আশাবাদী দলের অন্য নেতারাও। তারাও সমানতালে বিভিন্ন জায়গায় গণসংযোগ ও নেতা-কর্মীদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাত্ করে ব্যস্ত সময় পার করছেন। যোগাযোগ রাখছেন দলের কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গেও। তাদের মধ্যে রয়েছেন আরেক ব্যবসায়ী হক গ্রুপের স্বত্ব্বাধিকারী শিল্পপতি আদম তমিজি হক। তিনিও দাবি করেছেন- আওয়ামী লীগের হাইকমান্ড তাকেও প্রচারণা চালাতে বলেছেন। আদম তমিজি হক ও আতিকুল ইসলাম দু’জনই ইতোমধ্যে নগরবাসীকে একটি আধুনিক ঢাকা উপহার দিতে যেসব কাজ করা প্রয়োজন সেভাবে রোডম্যাপ তৈরি করেছেন। এ ছাড়া ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সাদেক খান ও নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সাবেক এমপি অভিনেত্রী কবরী সারোয়ারসহ আরো কয়েকজন নৌকার মনোনয়ন নিয়ে উত্তর সিটি কর্পোরেশন থেকে নির্বাচন করতে চান।

এদিকে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে একজনকে ‘গ্রিন সিগনাল’ দেয়ার কথা বলা হলেও এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানা যাবে মূলত আগামী ১৬ জানুয়ারি। ওই দিন প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনে দলের স্থানীয় সরকার মনোনয়ন বোর্ডের সভা ডাকা হয়েছে। আওয়ামী লীগ ও স্থানীয় সরকার মনোনয়ন বোর্ডের সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে ওই সভাতেই দলীয় মনোনয়নপ্রত্যাশীদের মধ্যে থেকে চূড়ান্ত করা হবে নৌকার প্রার্থী।

আওয়ামী লীগের নীতি নির্ধারণী পর্যায়ের নেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে ঢাকা উত্তরের নির্বাচনকে সর্বোচ্চ গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েছেন তারা। এই সিটিতে ক্লিন ইমেজের প্রার্থীকে মনোনয়ন দিলে সুফল পাবে বলে ভাবছে দলটি। বিশেষ করে রংপুর সিটি নির্বাচনে আওয়ামী লীগের পরাজয়ের পর প্রার্থী নির্বাচনে সতর্ক থাকতে চায় আওয়ামী লীগ। জাতীয় নির্বাচনের আগ মুহূর্তে ডিএনসিসির মতো গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় কোনো ঝুঁকি নিতেও রাজি নয় তারা। তাই ভেবে চিন্তে দলের নেতাকর্মীদের মনোনভাব ও মাঠে ভোটের জরিপের ওপর নির্ভর করেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন তারা।

এ বিষয়ে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও গত নির্বাচনে উত্তরে দলীয় প্রার্থীর সমন্বয়কের দায়িত্বপালনকারী লে. কর্নেল (অব.) মুহাম্মদ ফারুক খান মানবকণ্ঠকে বলেন, আমরা মূলত তিনটি বিষয় মাথায় রেখে দলীয় মনোনয়ন দেব। এক. এলাকায় তার পরিচিত ও অবস্থান কেমন, মানে জনগণের সঙ্গে তার সম্পর্কটা কেমন। দুই. আমাদের দলীয় আদর্শ ও উন্নয়ন চেতনার সঙ্গে তার কতটা মিল আছে। আর তৃতীয় হলো- ঢাকা উত্তরে নেত্রী (আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা) গতবার আনিসুল হককে মনোনয়ন দিয়েছিলেন। তার একটা গ্রহণযোগ্যতা ছিল। তিনি অনেক উন্নয়ন করেছেন। তার মতো তো হবে না। কিন্তু আমরা চাই তেমনি একজন গ্রহণযোগ্য ও পরিচ্ছন্ন মানুষকে মনোনয়ন দিতে।

আওয়ামী লীগের হাই কমান্ডের ‘গ্রিন সিগনাল’ পাওয়ার দাবি প্রসঙ্গে জানতে চাইলে ফারুক খান বলেন, এটা তো অস্বাভিক কিছু নয়। তারা তাদের মতো করে কাজ করছেন। আমার সঙ্গে অনেকেই দেখা করেছেন। আমিও বলেছি- জনগণের কাছে যেতে, কাজ করতে। সুতরাং তাদের কাজ তারা করবেই। আমাদের দলের স্থানীয় সরকার নির্বাচন মনোনয়ন বোর্ড এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে। তিনি বলেন, এই নির্বাচনকে সামনে রেখে আমরা সব কিছু পর্যবেক্ষণ করছি। এক মাস আগে থেকে বেশ কিছু জরিপ করা হচ্ছে। সেগুলোরও ফলাফলও দেখা হবে।

বিএনপি: ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের (ডিএনসিসি) উপনির্বাচনে মেয়র পদে তাবিথ আউয়ালই পাচ্ছেন বিএনপির টিকিট। শনিবার ২০ দলের বৈঠকে আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হবে তার নাম। এর আগে শনিবার দলের স্থায়ী কমিটির বৈঠকের পর ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের (ডিএনসিসি) উপনির্বাচনে জোটের প্রার্থী চূড়ান্তভাবে ঘোষণা করার কথা জানান বিএনপি। সোমবার রাতে ২০ দলীয় জোটের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে খালেদা জিয়ার বৈঠকেও ডিএনসিসির উপনির্বাচনে প্রার্থী নিয়ে আলোচনা হয়েছে। এ ছাড়া মঙ্গলবার বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সাংবাদিকদের কাছে বলেন, ২০ দলীয় জোটের ব্যানারেই ডিএনসিসির উপনির্বাচনে অংশ নেয়া হবে। আর প্রার্থী দেয়া হবে ২০ দলের পক্ষেই।

আসন্ন এ উপনির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী কে হচ্ছেন, তা নিয়ে কিছুদিন ধরেই নানামুখী আলোচনা চলছে। বিগত ডিএনসিসি নির্বাচনেও বিএনপির প্রার্থী ছিলেন দলের ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুল আউয়াল মিন্টুর ছেলে তাবিথ আউয়াল। যদিও ওই নির্বাচনে বিএনপির পছন্দের প্রার্থী ছিলেন আব্দুল আউয়াল মিন্টু। তার মনোনয়ন বাতিল হয়ে যাওয়ায় তাবিথ আউয়াল দলের টিকিট পেয়ে যান। ২০১৫ সালের ২৮ এপ্রিলের ওই নির্বাচন শুরুর তিন ঘণ্টা পর কারচুপির অভিযোগে বিএনপি ভোট বয়কট করলেও তাবিথ আউয়াল ৩ লাখ ২৫ হাজার ভোট পান। এবার বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশীদের তালিকায় যুক্ত হয়েছেন আরো দুই নেতা। এরা হলেন ভাইস চেয়ারম্যান বরকত উল্লাহ বুলু ও সহ-প্রকাশনা সম্পাদক শাকিল ওয়াহেদ।

জানা গেছে, বিএনপির নির্বাহী কমিটির তরুণ নেতা তাবিথ আউয়াল দলের মনোনয়ন পাচ্ছেন ধরে নিয়েই বেশ কিছুদিন ধরে নির্বাচন সংশ্লিষ্ট নানা প্রস্তুতি শুরু করেছেন। নির্বাচনের অফিসও নেয়া হয়েছে তেজগাঁওয়ের ৪১৯/৪২০ নম্বর ভবনে।

এ প্রসঙ্গে তাবিথ আউয়াল মানবকণ্ঠকে বলেন, একজন প্রত্যাশী হিসেবে নির্বাচনের প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছি। তফসিল ঘোষণা হয়ে গেছে। আশা করছি, প্রত্যাশীদের মধ্য থেকে যোগ্য প্রার্থীকেই বিএনপি মনোনয়ন দেবে। বিগত নির্বাচনের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ওই নির্বাচনকে আসলে প্রকৃত নির্বাচন বলা যায় না। এক্ষেত্রে তিনি রাজধানীতে বিএনপি চেয়ারপার্সনের নির্বাচনী প্রচারণায় তিনবার হামলা, প্রকাশ্যে সিলমারা, কারচুপির মতো বিষয়গুলো উল্লেখ করেন।

বর্তমান পরিস্থিতিতে বিজয়ের ব্যাপারে কতটা আশাবাদী এমন প্রশ্নে তাবিথ আউয়াল বলেন, আশাবাদ তো রাখতেই হয়। নতুন নির্বাচন কমিশন এসেছে। তারা কীভাবে দায়িত্ব পালন করে সেটিও দেখতে হবে। দলের মনোনয়ন পেলে নির্বাচনের পুরো প্রক্রিয়ায় আমরা থাকব। তিনি বলেন, নিরপেক্ষ ভোট হলে ধানের শীষের প্রার্থীর বিজয় হবে। আগামীতে ঢাকার উন্নয়নে, রাজধানীকে বাসযোগ্য করতে নগরবাসীর যে প্রত্যাশা সেটি আমি পূরণে সক্ষম হব।

মনোনয়নের দৌড়ে তাবিথ আউয়াল এক নম্বরে থাকলেও তাকে নিয়ে দলে কিছুটা সমালোচনাও স্থান পেয়েছে। বিগত নির্বাচনের পর নেতাকর্মীদের সঙ্গে সম্পর্ক ভালোভাবে রক্ষা না করা কিংবা জনগণের পাশে না দাঁড়ানোর বিষয়টি নিয়ে কেউ কেউ কথা বলছেন। কোনো কোনো নেতার মত হচ্ছে- বিগত নির্বাচনে তাবিথ আউয়াল বিএনপির মূল প্রার্থী ছিলেন না, দলের প্রার্থী ছিলেন আব্দুল আউয়াল মিন্টু। তিনি নির্বাচনে অযোগ্য না হলে তাবিথ আউয়ালের আসার কোনো সম্ভাবনা ছিল না। এবার যেহেতু পরিস্থিতি ভিন্ন সেহেতু বিএনপির অনেক সুযোগ্য নেতার মধ্য থেকে প্রার্থী বাছাই করে সবচেয়ে যোগ্য নেতাকে প্রার্থী করা উচিত হবে।

সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে আলোচনায় থাকা বিএনপির সিনিয়র নেতা বরকত উল্লাহ বুলু নিজের প্রার্থিতা নিয়ে এখনো প্রকাশ্যে কিছু বলেননি। তবে দলের একটি অংশ মনে করছেন, চারদলীয় জোট সরকারের বাণিজ্য উপদেষ্টা, সাবেক এমপি ও যুবদলের সভাপতি হিসেবে বরকত উল্লাহ বুলু সফল রাজনীতিবিদ হিসেবে পরিচিত। দেশব্যাপী তার পরিচিতি রয়েছে। তাকে মনোনয়ন দিলে ভালো ফল হতে পারে। আরেক প্রার্থী শাকিল ওয়াহেদ নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করে দিয়েছেন। ঢাকায় লাগানো হয়েছে তার পোস্টার। ফেসবুকে প্রচারণা চলছে।

এদিকে ২০ দলীয় জোটের শরিক জামায়াতে ইসলামী দলের ঢাকা মহানগর উত্তরের সভাপতি সেলিম উদ্দিনকে প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করলেও ২০ দলীয় জোটের শীর্ষ নেতাদের বৈঠকে তা প্রত্যাহার করে নেয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। বৈঠকে অংশ নেয়া কর্মপরিষদ সদস্য মাওলানা আবদুল হালিম মানবকণ্ঠকে জানান, বৈঠকে জামায়াতের প্রার্থিতা নিয়ে আলোচনা হয়। এ সময় আমাদের পক্ষ থেকে খালেদা জিয়াকে জানানো হয়েছে, জোটের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত। এ নিয়ে আমাদের কোনো আপত্তি নেই।

অপরদিকে আওয়ামী লীগ-বিএনপি নির্বাচনে অংশ নেয়ার বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিলেও সংসদের বিরোধী দল জাতীয় পার্টি এক্ষেত্রে নিশ্চুপ। তারা যোগ্য মেয়র প্রার্থী খুঁজে পাচ্ছে না বলে জানিয়েছেন দলটির একাধিক নেতা। এক্ষেত্রে জাপা চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের কাছ থেকে এ নির্বাচনের বিষয়ে কোনো গ্রিন সিগন্যাল পাননি জাপার কোনো নেতাই। রংপুর সিটি কর্পোরেশনে ভূমিধস বিজয়ের পর দলের নেতাকর্মীরা মনে করেছিলেন ডিএনসিসিতে শক্তিশালী প্রার্থী দেবে এরশাদের নেতৃত্বাধীন জাতীয় পার্টি। কিন্তু দলটির ভেতরে এ নিয়ে আপাতত কোনো আলোচনা নেই বললেই চলে।

জাপা সূত্রে জানা গেছে, গতবারের নির্বাচনের অভিজ্ঞতা থেকেই ডিএনসিসিতে প্রার্থী দেয়ার বিষয়ে কোনো আগ্রহ নেই দলের চেয়ারম্যানের। কারণ গতবার ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণের সিটি নির্বাচনে জামানত হারিয়েছেন জাপার প্রার্থীরা। অন্যদিকে রংপুরের সিটি নির্বাচনে মেয়র পদে দলীয় প্রার্থীর বিশাল বিজয়ে ঢাকা সিটিতে প্রার্থী দিয়ে বিপর্যয়ে পড়তে চান না তিনি। এ ছাড়া জাপা চেয়ারম্যানের আগামী টার্গেট হচ্ছে গাইবান্ধা-১ (সুন্দরগঞ্জ) আসনের উপনির্বাচন নিয়ে। সেখানে জয়ের মতো প্রার্থী রয়েছে জাতীয় পার্টির। নির্বাচনে প্রার্থী দেয়ার বিষয়ে জাতীয় পার্টি সিনিয়র কো-চেয়ারম্যান জিএম কাদের গতকাল মানবকণ্ঠকে বলেন, এখন পর্যন্ত আমাদের দল এ নির্বাচন নিয়ে কোনো চিন্তা করছে না। এর কারণ হিসেবে তিনি বলেন, এখানে দেয়ার মতো আমাদের যোগ্য প্রার্থী নেই। যারা আছেন, তারা ঠিক কতটা নির্বাচন করার জন্য প্রস্তুত আছেন, তা আমার জানা নেই।

এ ছাড়া ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন উপনির্বাচনে চরমোনাই পীরের নেতৃত্বাধীন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী হচ্ছেন ঢাকা মহানগর উত্তরের সভাপতি অধ্যক্ষ হাফেজ মাওলানা শেখ ফজলে বারী মাসউদ। ২০১৫ সালেও এ সিটি নির্বাচনে তিনি দলের পক্ষে প্রার্থী হয়েছিলেন। সেই নির্বাচনে প্রায় ১৮ হাজার ভোট পান তিনি। সিপিবির প্রেসিডিয়াম সদস্য আবদুল্লাহ আল ক্বাফী রতনকে মনোনয়ন দিচ্ছে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি)। দলের সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম এ তথ্য জানিয়েছেন। আব্দুল্লাহ আল ক্বাফী রতন ২০১৫ সালেও ডিএনসিসি নির্বাচনে অংশ নিয়েছিলেন। ওই বছর তিনি হাতি মার্কা নিয়ে দুই হাজার ৪৭৫টি ভোট পেয়েছিলেন। সেবার তিনি সবার জন্য বাসযোগ্য ঢাকা আন্দোলনের ব্যানারে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন। সিপিবি ও বাসদ সমর্থিত ছিলেন ক্বাফী রতন।

জানতে চাইলে আব্দুল্লাহ ক্বাফী রতন বলেন, দলীয়ভাবে প্রার্থী হতে প্রস্তুতি নিতে আমাকে বলা হয়েছে। গত নির্বাচনেও আমি প্রার্থী হয়েছি। আশা করি এবারো প্রার্থী হবো। জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক আন্দোলন (এনডিএম) সমর্থিত মেয়র প্রার্থী হচ্ছেন গায়ক শাফিন আহমেদ। গত সোমবার রাজধানীর বনানী চেয়ারম্যানবাড়ি মাঠে সচেতন তরুণ সমাজ আয়োজিত এক প্রীতি ক্রিকেট ম্যাচ উদ্বোধন করে জনপ্রিয় এ গায়ক প্রচারণায় নামেন। মেয়র প্রার্থী ঘোষণা করেছে ইসলামী ঐক্যজোট। গত রোববার রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত ইসলামী ঐক্যজোটের সমাবেশে এ ঘোষণা দেয়া হয়। ডিএনসিসির উপনির্বাচনে দলের সহকারী মহাসচিব মাওলানা গাজী ইয়াকুবকে প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা দেন মহাসচিব মুফতি ফয়জুল্লাহ।

উল্লেখ্য, মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ দিন ১৮ জানুয়ারি। মনোনয়নপত্র বাছাই ২১ ও ২২ জানুয়ারি। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন ২৯ জানুয়ারি। আর ভোট হবে ২৬ ফেব্রুয়ারি। এ ছাড়া ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণে নতুন যুক্ত হওয়া ১৮টি করে ৩৬টি সাধারণ ওয়ার্ড এবং ছয়টি করে ১২টি সংরক্ষিত ওয়ার্ডের নির্বাচন হবে। ডিএনসিসিতে বর্তমান ভোটার সংখ্যা ২৯ লাখ ৪৮ হাজার ৫১০ জন। এই সিটি কর্পোরেশনের সম্প্রসারিত ১৮টি ওয়ার্ডে ভোটকেন্দ্রের সংখ্যা ২৩১টি, ভোটকক্ষ ১ হাজার ২৩১টি, অস্থায়ী ভোটকক্ষের সংখ্যা ৫৬টি। এসব ওয়ার্ডে মোট ভোটার সংখ্যা ৪ লাখ ৭৭ হাজার ৫১০ জন।
প্রসঙ্গত, লন্ডনে চিকিত্সাধীন অবস্থায় ২০১৭ সালের ৩০ নভেম্বর মারা যান ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আনিসুল হক। ২০১৫ সালের ২৮ এপ্রিল ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের সর্বশেষ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।

মানবকণ্ঠ/এফএইচ