রাজধানীতে চালু হচ্ছে কাউন্টার বাস সার্ভিস

রাজধানীতে চালু হচ্ছে কাউন্টার বাস সার্ভিস

রাজধানী দাপিয়ে বেড়াচ্ছে লোকাল, গেটলক ও সিটিং সার্ভিস নামে কয়েক হাজার বাস। তবে এবার সেসব বাসের দৌরাত্ম্য বাতিল করে রাজধানীতে চালু হচ্ছে কাউন্টার বাস সার্ভিস। ৫-৬টি পরিবহন কোম্পানির অধীনে বাসগুলো চলবে। আর পুরো মহানগরীজুড়ে সুশৃঙ্খলভাবে বাসগুলো চলাচল করবে। যত্রতত্র যাত্রী ওঠানামা করবে না এসব বাস। নির্ধারিত কাউন্টার থেকেই যাত্রী ওঠানামা করাতে হবে। ফলে রাস্তায় চালকদের ওভারটেকিং প্রবণতা কমবে, সড়কে দুর্ঘটনাও কমে আসবে। বাসগুলো হবে উন্নতমানের, এ কারণে ভাড়াও হবে তুলনামূলক বেশি। এমন উদ্যোগ নিয়েছে ঢাকা সড়ক পরিবহন মালিক সমিতি।

মালিক সমিতি বলছে, সিটি কর্পোরেশনের অনুমতি নিয়ে নির্ধারিত জায়গায় কাউন্টার বসানো হবে। এতে একদিকে টার্গেট অর্থাৎ চুক্তি ভিত্তিতে কোনো চালক গাড়ি চালাতে পারবেন না। অন্যদিকে বাসের নিয়ন্ত্রণ চালক ও কন্ডাক্টরের কাছ থেকে মালিকের কাছে চলে আসবে। তারা ঘরে বসে গাড়ির আয় পেয়ে যাবেন। পাশাপাশি রাস্তায় চালকদের ওভারটেকিং প্রবণতা কমবে, সড়কে দুর্ঘটনাও কমে আসবে। বাসগুলো হবে উন্নতমানের, এ কারণে ভাড়াও হবে তুলনামূলক বেশি।

এ বিষয়ে ঢাকা সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক খন্দকার এনায়েত উল্লাহ বলেন, সড়ক দুর্ঘটনা রোধের পাশাপাশি সুন্দরভাবে গাড়ি চালানোর জন্য ঢাকার রাস্তায় কাউন্টার সার্ভিস চালু করা হবে। কাউন্টার সার্ভিস চালু হলে বর্তমানে অবৈধভাবে চলা লোকাল, গেটলক ও সিটিং সার্ভিস বন্ধ হয়ে যাবে। সরকারি নিয়মে সিটিং সার্ভিস চালু হবে। সরকার যেভাবে বলবে গাড়ি সেভাবে চলবে। কাউন্টার সার্ভিসে রংচটা ও ফিটনেসহীন, লক্কর-ঝক্কর বাস থাকবে না। সম্পূর্ণ নতুন ও দৃষ্টিনন্দন বাসে আরামদায়ক ভ্রমণ উপযোগী সিট থাকবে বলেও জানান তিনি।

খন্দকার এনায়েত উল্লাহ বলেন, ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের প্রয়াত মেয়র আনিসুল হকের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে কাউন্টার সার্ভিস চালু করছি। পুরো ঢাকার জন্য মোট ৬টি পরিবহনের অধীনে বিভিন্ন রুটে বাস চলবে। দুই সিটি কর্পোরেশনের সঙ্গে বৈঠক করে তাদের কাছে রাস্তায় কাউন্টার তৈরি জন্য জায়গা চাইব।

তিনি আরো বলেন, ফিটনেস ও লাইসেন্সবিহীন চালকরা যাতে ঢাকায় গাড়ি চালাতে না পারেন সেজন্য কাজ করছি। চুক্তিভিত্তিক গাড়ি যাতে না চলে সেজন্য অভিযান চালাচ্ছি। এটা দ্রুত করতে পারলে কাউন্টার সার্ভিস চালু আরো সহজ হয়ে যাবে।

ঢাকা উত্তর সিটির প্রয়াত মেয়র আনিসুল হক সবুজ ঢাকা গড়তে ৪ হাজার নতুন বাস নামানোর উদ্যোগ নিয়েছিলেন। এর মধ্যে গুলশানে ঢাকা চাকা এবং মতিঝিল থেকে আব্দুল্লাপুর পর্যন্ত গ্রিন ঢাকা পরিবহনের কাউন্টার সার্ভিস চালু হয়েছে।

সম্প্রতি ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের মেয়র সাঈদ খোকন বলেছেন, রাজধানীর পরিবহন ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা ফেরাতে ছয় কোম্পানির অধীনে বাস চালানোর ব্যবস্থা করতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে আবেদন করা হবে।

‘আমাদের পথ, আমাদের হাতেই নিরাপদ’ শিরোনামে ওই সভায় ঢাকা দক্ষিণের মেয়র জানান, জাইকার অর্থায়নে মহানগরীর চারটি ইন্টারসেকশনে অর্থাৎ গুলিস্তান (ফুলবাড়িয়া), পল্টন, মহাখালী ও গুলশান-১ এ ভেহিকুলার ইমেজ ডিটেক্টর ভিডিও ক্যামেরা স্থাপনের মাধ্যমে চলন্ত গাড়ির সংখ্যা কেন্দ্রীয়ভাবে মনিটরিং করা এবং পৃথক লেন অনুসরণ করে গাড়ি চালানোর পাইলট প্রকল্পের কাজ চলছে।

মানবকণ্ঠ/এসএস

Leave a Reply

Your email address will not be published.