রাজধানীজুড়ে মশার উপদ্রব নজর নেই ডিসিসির

রাজধানীজুড়ে মশার উপদ্রব নজর নেই ডিসিসির

রাজধানীতে বেড়েছে মশার দৌড়াত্ম্য। এতে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে নগরবাসীর জীবন। দিন-রাতে চলছে মশার আধিপত্য। এতে ঢাকার বাসিন্দাদের মধ্যে বিরাজ করছে ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়ার আতঙ্ক। হঠাত্ করেই মশার এমন দৌরাত্ম্য বাড়লেও এ দিকে নজর নেই ঢাকার দুই সিটি কর্পোরেশনের (ডিসিসি)। তবে ডিসিসির কর্মকর্তারা বলছেন, অপরিকল্পিত নগরায়নই মশা বৃদ্ধির অন্যতম কারণ। তবে মশার উপদ্রব কমাতে বিশেষ পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে বলেও জানান তারা।

রাজধানীজুড়ে মশার উত্পাতে বিঘ্ন ঘটছে শিক্ষার্থীদের পড়ালেখা। সন্ধ্যার আগেই বাসার দরজা-জানালা বন্ধ করেও এর কামড় থেকে রক্ষা পাওয়া যাচ্ছে না। ‘আবার মশারির ফাঁক গলে ঢুকে পড়া মশা মারতে গিয়ে রাতের ঘুম হচ্ছে নষ্ট’- বলছিলেন মশার যন্ত্রণায় অতিষ্ঠ ক্ষিলখেত তালতলা এলাকার বাসিন্দা মাওলানা মো. ইউনুস খান।

তার অভিযোগ, সিটি কর্পোরেশন মশার উপদ্রব কমাতে মাঝে মধ্যে স্প্রে করলেও স্থায়ী কোন পদক্ষেপ নিচ্ছে না। তিনি বলেন, ‘রাজধানীতে মশার যন্ত্রণা এতটাই বেড়েছে যে, নামাজ পড়তে গেলে নাক-মুখ দিয়ে মশা ঢুকে পড়ে। এখনই মশার উত্পাত নিয়ন্ত্রণ করা না গেলে গত বছরের মতো আবারো ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়ায় আক্রান্ত হতে পারে নগরবাসী।’

ক্ষিলখেত উত্তর নামাপাড়া এলাকার বাসিন্দা ষাটোর্ধ্ব হাজী মো. সফুরুদ্দিন বলেন, ‘এবারের মতো মশার এত উপদ্রব আমার জীবনে আর দেখিনি। দিন-রাতে সমানে মশা কামড়াচ্ছে। কয়েলেও যাচ্ছে তাড়ানো যাচ্ছে না। শুনেছি সিটি কর্পোরেশনগুলোতে মশা নিধনে পূর্বের তুলনায় আরো অনেক বৃদ্ধি করেছে বাজেট। তাহলে কি মশক নিধনে বাজেট বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে মশার প্রকোপও সমান তালে বাড়ছে।’

অভিযোগ করে তিনি বলেন, ‘সিটি কর্পোরেশনে বাজেট বাড়ালেও মশা নিধনের দায়িত্বে থাকা লোকদের ফগার মেশিন নিয়ে এলাকায় যাতায়াত পূর্বের মতোই সৌভাগ্যক্রমে বছরে দু’একবার মিলে।’ এসব বাজেট নিয়ে নগরবাসীর কাছে জবাবদিহিতা না থাকায় কোথায় কি কাজে ব্যয় হয় তার খোঁজও অনেকেই জানেন না বলে জানান তিনি।

শুধু মাওলানা মো. ইউনুস খান অথবা হাজী মো. সফুরুদ্দিনের পরিবারই নয়, রাজধানীর বিভিন্ন এলাকার লোকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বেশ কিছুদিন ধরে তারাও মশার যন্ত্রণায় অতিষ্ঠ। তারা বলেন, দিন শেষ হতে না হতেই কানের কাছে মশার শোঁ শোঁ শব্দ শুরু হয়। শিক্ষার্থীরা পড়ার টেবিলে বসতে পারে না। ঘুমেরও ব্যাঘাত ঘটে। নগরীতে মশার দৌরাত্ম্য এখন এমন পর্যায় পৌঁছেছে যে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বিমান উড্ডয়নেও বিঘ্ন ঘটাচ্ছে।

রাজধানীর শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অপেক্ষায় থাকা কয়েকজন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘এখানে অনেক মশা। সন্ধ্যা হলে আরো বেড়ে যায়। এখানে দাঁড়িয়ে থাকা যাচ্ছে না। বসা যাচ্ছে না।’ একই ভোগান্তির কথা জানালেন বিমানবন্দরের নিরাপত্তাকর্মী আনিসুর রহমান। তিনি বলেন, ‘মশার জ্বালায় তো এখানে দাঁড়িয়ে থাকাই অসম্ভব।’

এ প্রসঙ্গে মালয়েশিয়ান এয়ারলাইন্সের স্টেশন ম্যানেজার মোহাম্মদ আজিজ বলেছেন, ‘হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে মশার উপদ্রব খুবই বৃদ্ধি পেয়েছে। মশার উত্পাতের কারণে গত বছর ২২ ফেব্রুয়ারি দিবাগত রাতে মালয়েশিয়ান এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইট ছাড়তে নির্দিষ্ট সময় থেকে দুই ঘণ্টা দেরি হয়েছিল। মশার কারণে ফ্লাইটটি যথাসময়ে ছেড়ে যেতে পারেনি। বিমানবন্দরে আলফা-২ বে এরিয়া থেকে মালয়েশিয়ান এয়ারলাইন্সের (এমএইচ ১৯৭) ফ্লাইটটি যাত্রীদের নিয়ে উড্ডয়নের জন্য রানওয়ের দিকে এগিয়ে যাচ্ছিল। বিমানবন্দর থেকে বোয়িং ৭৩৭ মডেলের উড়োজাহাজে প্রায় ১৫০ জন যাত্রী ওঠার সময় মশাও ঢুকে পড়ে। বাধ্য হয়ে মশা নিধন করে পুনরায় ফ্লাইটটি ছেড়ে যায়।’

অপরদিকে মশার প্রকোপ বাড়ায় গ্রিন রোডের বাসিন্দা রাজীবুল ইসলামের পরিবারের পাঁচজনেরই চিকুনগুনিয়া হয়েছিল। তার মা লিপি বেগম এখনো চিকুনগুনিয়া-পরবর্তী সমস্যায় ভুগছেন। আবারো চিকুনগুনিয়ার আতঙ্কে বেশ চিন্তায় পরিবারটি।

জানা গেছে, গত বছরের মাঝামাঝি রাজধানীতে এডিস মশাবাহিত রোগ চিকুনগুনিয়ায় বিপুলসংখ্যক মানুষ আক্রান্ত হয়। তখন চিকুনগুনিয়া ঠেকাতে সরকারি-বেসরকারি নানা উদ্যোগ চোখে পড়ে। চিকুনগুনিয়ার প্রকোপ কাটতে না কাটতেই রাজধানীতে মশার প্রকোপ বাড়ায় আতঙ্কিত অনেক নগরবাসী।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের রিউম্যাটোলজি বিভাগ চিকুনগুনিয়া-পরবর্তী চিকিত্সা দিতে ২০১৭ সালের ১৩ আগস্ট আথ্রাইটিস ক্লিনিক চালু করে। এ বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মিনহাজ রহিম চৌধুরী বলেন, ‘শহরবাসী কিন্তু বিপন্মুক্ত নয়। আবার মশা বাড়ছে। এখনই প্রতিরোধ না করা হলে পুনরায় বড় ধরনের স্বাস্থ্যগত সমস্যা হতে পারে। মশা থেকে ডেঙ্গু, চিকুনগুনিয়ার পাশাপাশি মানুষ জিকা ভাইরাসেও আক্রান্ত হতে পারে।’

এ দিকে মশার প্রকোপ কমাতে গত বছর ৪৫০ কিলোমিটার নর্দমায় গাপ্পি মাছের পোনা ছাড়েন ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের (ডিএসসিসি) মেয়র মোহাম্মদ সাঈদ খোকন। কিন্তু এ কর্মসূচিতে তেমন কোনো সুফল এখনো নগরবাসী পায়নি বলে নগরবাসীর অভিযোগ।

এ বিষয়ে ডিএসসিসি মেয়র মোহাম্মদ সাঈদ খোকন বলেন, ‘সব ড্রেন গাপ্পি মাছ ছাড়ার উপযোগী নয়। কারণ মাছ ছাড়লেই হবে না, এর পরিচর্যার বিষয়টিও আছে।’

নগরীর বিভিন্ন এলাকার বাসাবাড়ি, কর্মস্থল, চলতি পথ কোথাও মশার কামড় থেকে নিস্তার মিলছে না। শুধু রাতেই নয় এখন দিন-দুপুরেই নগরবাসীকে সইতে হচ্ছে এর যন্ত্রণা। মশার কামড় থেকে বাঁচতে মশারির ভেতরে বসেই পড়াশোনা করছে শিক্ষার্থীরা। মশারির ভেতরেও শান্তিতে ঘুমাতে পারছে না শিশুরা। নগরবাসীকে মশার উপদ্রবের হাত থেকে রেহাই পেতে দুই সিটি কর্পোরেশন বছরে ৪৭ কোটি টাকা খরচ করলেও কাঙ্ক্ষিত সেবা মিলছে না নগরবাসীর।

রাজধানীতে মশা নিয়ন্ত্রণে সিটি কর্পোরেশন ঠিকমতো ওষুধ ছিটায় না বলে অভিযোগ রয়েছে। অনেকের অভিযোগ, মাঝে মধ্যে প্রধান সড়কে বিকেলে ওষুধ ছিটানো হয়। কিন্তু গলিতে দেয়া হয় না। কুড়িল এলাকার বাসিন্দা সৈয়দ রিফাত বলেন, ‘মশা নিধনে কী যে স্প্রে করে তা বুঝিনা শুধু শব্দই হয়। মশা মরে না। আগে তো অনেক ধোঁয়া হতো। এখন দেখি তা-ও কম।’

রাজধানীতে মশার প্রকোপ বিষয়ে জানতে চাইলে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের (ডিএনসিসি) প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. জাকির হাসান বলেন, ‘নগরীতে যারা মশা নিয়ন্ত্রণে কাজ করে এমন বিভিন্ন সংস্থার সঙ্গে ডিএনসিসি আলোচনা করেছে। তাছাড়া নিয়মিত কার্যক্রমের পাশাপাশি মশা নিয়ন্ত্রণে গত বছর ফেব্রুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত বিশেষ কর্মসূচি পালন করা হয়েছে।’

নগরীতে মশা বৃদ্ধির ব্যাপারে তিনি বলেন, ‘যত দ্রুত অপরিকল্পিত নগরায়ন হবে, তত দ্রুতই কিন্তু বিভিন্ন ধরনের স্ল্যাম তৈরি হচ্ছে, আনহাইজিনিক সিচ্যুয়েশন তৈরি হচ্ছে, ডোবা-নালা তৈরি হচ্ছে। নালাগুলো অপরিষ্কার। আবার অনেক মানুষ সচেতন নন। এ ছাড়া অনেকে স্থানে ড্রেনের ওপর বস্তি এবং দোকান গড়ে ওঠায় একদিকে মশার নিরাপদ বংশ বিস্তার ঘটছে।’ অপরদিকে এই পতঙ্গটি নিয়ন্ত্রণে প্রতিবন্ধকতারও সৃষ্টি হচ্ছে। এর পাশাপাশি বিভিন্ন সরকারি দফতরের মধ্যে সমন্বয়হীনতাকেও একটি কারণ হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি।

শুধু মশার ওষুধ দিয়েই মশা নির্মূল সম্ভব নয়। এ জন্য যেখানে সেখানে ময়লা-আবর্জনা না ফেলতে নগরবাসীকে অনুরোধ জানানোর পাশাপাশি সিটি কর্পোরেশন কর্মকর্তারা ড্রেন, ঝিল ও ডোবা পরিষ্কার রাখতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের (ডিএসসিসি) স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মীর মুস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘মশা নিয়ন্ত্রণে ইতোমধ্যে একটি ক্রাশ কর্মসূচি চালানো হয়েছে, যেখানে একটি অঞ্চলে ডিএসসিসির সব লোকবল এক সঙ্গে কাজ করেছে। এটি একটি চলমান প্রক্রিয়া। প্রয়োজন হলে আরো বাড়তি পদক্ষেপ নেয়া হবে।’

অভিযোগ রয়েছে, মশার ওষুধ ছেটানোর কিছু সময় পর আবার মশা চলাচল শুরু করছে। মশার শরীরে ওষুধ ছেটানো হলেও মশা মরে না। ফলে দুই ডিসিসির মশা নিধনের ওষুধের কার্যকারিতা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন কাউন্সিলররা। তারা বলছেন, মশা মারার ওষুধ কোনো কাজে আসছে না। এ বিষয়ে কর্পোরেশনকে পরীক্ষা করে মশার ওষুধ কেনারও পরামর্শ দিয়েছেন তারা।

ডিএনসিসির ৩১নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মো. শফিকুল ইসলাম সেন্টু বলেন, ‘আমরা মশা নিধনে অনেক কাজ করছি। কিন্তু ওষুধে কোনো কাজ হচ্ছে না। মশার ওপর ওষুধ ছিটালে মরে না। ফলে আমাদের সব চেষ্টা বৃথা যাচ্ছে। এদিকে এলাকাবাসীর কাছে আমাদের কথা শুনতে হচ্ছে।’

ডিএনসিসির ৩০ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর আবুল হাশেম হাসু বলেন, ‘মশার ওষুধের কার্যকারিতা নেই। ওষুধ দিলে মশা কিছুক্ষণ চুপ থেকে আবারো উড়ে যাচ্ছে। কর্তৃপক্ষকে এ বিষয়ে জানানো হয়েছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘কর্পোরেশনকে জানানো হয়েছে। তারা বলেন, ‘ল্যাবরেটরিতে টেস্ট করার সময় মশা-মাছি মারা যায়। এর পর অন্য হাতে ওষুধ গেলে দুই নম্বর হয়ে যায়। এ বিষয়ে শক্ত মনিটরিং থাকা প্রয়োজন বলেও তিনি মনে করেন। এভাবে মশার ওষুধ নিয়ে আরো একাধিক কাউন্সিলর সন্দেহ প্রকাশ করেছেন।’

অপরদিকে ডিএসসিসি বলছে, ওষুধে কাজ না হলে নতুন ওষুধ দিয়ে ক্রাশ প্রোগ্রাম নেয়া হবে। তখন ডোবা, নালাসহ মশার প্রজনন স্থানগুলোয় নতুন করে ওষুধ ছিটানো হবে। এরপর আর মশার উপদ্রব থাকবে না। তবে নাম প্রকাশ না করার শর্তে মশা নিধনের সঙ্গে জড়িত ডিএনসিসির এক কর্মচারী বলেন, ‘সিটি কর্পোরেশনের মশক নিধনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্মচারীরা যে ভাতা পান তা দিয়ে নির্ধারিত অঞ্চলের যে দুরত্ব তাতে ওষুধ ছিটাতে গেলে নিজেকে বাড়ি থেকে টাকা নিয়ে খরচ করতে হবে। যার ফলে চাইলেও সকল অঞ্চলে তারা ওষুধ দিতে পারছেন না। তা ছাড়া বর্তমানে মশা নিধনে যে ওষুধ দেয়া হচ্ছে তাতে কোনো কাজ হচ্ছে না।’

কারণ হিসেবে তিনি বলেন, ‘মশা নিধনের ওষুধেই ভেজাল তাই মশার ওপর ওষুধ দিলেও মরছে না।’

অভিযোগ রয়েছে, নগরীর ডোবা-জলাশয়গুলো সঠিকভাবে পরিষ্কার না করা এবং নিয়ম মেনে মশার ওষুধ না ছিটানোর কারণে মশার উপদ্রব ঢাকার দুই সিটি কর্পোরেশনের যেন নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে। বাজেট আসে, বাজেট যায় কিন্তু মশার উপদ্রব কমছে না। অভিযোগে প্রকাশ, মশার ওষুধ ক্রয়, মান নিয়ন্ত্রণ, সংরক্ষণ ও স্প্রে সংশ্লিষ্ট মনিটরিং কমিটিসহ সব পর্যায়ে অনিয়ম ও দায়িত্বে অবহেলা রয়েছে। এর ফলে দুই কর্পোরেশনকে বরাদ্দকৃত অর্থ ব্যয়ের পরও আশানুরূপ ফল পাওয়া যাচ্ছে না।

সংশ্লিষ্ট সূত্রমতে, ২০১৪-১৫ অর্থবছরে মশক নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রমে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের (ডিএসসিসি) বাজেট ছিল ১০ কোটি ৩০ লাখ টাকা। সংশোধিত বাজেটে বাড়িয়ে ১১ কোটি ৯৯ লাখ টাকা করা হয়। ২০১৫-১৬ অর্থবছরে বাজেট ছিল ১২ কোটি ৫০ লাখ টাকা এবং ২০১৬-১৭ অর্থবছরে ১১ কোটি ৫০ লাখ টাকা। ২০১৭-১৮ অর্থবছরে ২৫ কোটি ৬০ লাখ টাকা। তবে চলতি অর্থবছরে তা বাড়িয়ে ২৬ কোটি টাকা করা হয়েছে।

অপরদিকে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনে (ডিএনসিসি) ২০১৪-১৫ অর্থবছরে ১০ কোটি টাকা এবং ২০১৫-১৬ অর্থবছরে ১৪ কোটি টাকা বাজেট ছিল। ২০১৬-১৭ অর্থবছরে এটি বাড়িয়ে ২৩ কোটি ২৫ লাখ টাকা করা হয়েছিল। ২০১৭-১৮ অর্থবছরে ২০ কোটি টাকা করা হয়। চলতি অর্থবছরে তা কিছু বাড়িয়ে ২১ কোটি টাকা করা হয়। এ ছাড়া দুই কর্পোরেশনে আলাদাভাবে কচুরিপানা ও আগাছা পরিষ্কার, ফগারসহ অন্যান্য মেশিন সরবরাহের জন্য পৃথক অর্থ বরাদ্দ করা হয়েছে। তবে বরাদ্দ বৃদ্ধি পাওয়ার পাশাপাশি রাজধানীজুড়ে বৃদ্ধি পেয়েছে মশককুলের উপদ্রবও। বাসাবাড়ি, অফিস, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কোথাও নিস্তার নেই মশার হাত থেকে। কয়েকদিন ধরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোয়ও মশার উপদ্রবের কারণে নগর কর্তৃপক্ষের কর্মকাণ্ড নিয়ে চলছে সমালোচনা। নগরবাসীর অভিযোগ, শীত আগমনের সঙ্গে সঙ্গে মশার উপদ্রব বৃদ্ধি পায় এটা তো সংশ্লিষ্টরা জানেন। তাহলে আগে থেকে প্রস্তুতি নেন না কেন? তাদের মতে মশক নিধনে আগে থেকে প্রস্তুতি নিলে তো নগরবাসী মশার দৌরাত্ম্য থেকে মুক্তি পেত।
সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের (ডিএসসিসি) ১, ২, ৩, ৪, ৫, ৬, ৮, ৯, ১০, ১১, ১২ ও ১৩ নম্বর ওয়ার্ডে ৩১২ একর জলাধার রয়েছে। এগুলো কচুরিপানা ও আবর্জনায় ভর্তি। একই চিত্র ১৪, ২২, ২৩, ২৪, ২৫, ২৬, ২৭, ২৮, ২৯, ৫৫, ৫৬, ৫৭ ওয়ার্ডের ৩২ একর জলাধারের। এ ছাড়াও ৭, ৩৯, ৪০, ৪১, ৪৪, ৪৫, ৪৬, ৪৭, ৪৮, ৪৯, ৫০, ৫১, ৫২, ৫৩ ও ৫৪ নম্বর ওয়ার্ডের ১৪৪ বিঘা ৯ কাঠা জলাশয় দীর্ঘদিন ধরে পরিষ্কার করা হয় না।

খোঁজখবরে জানা যায়, ডিএসসিসির মশক নিধন বিভাগে স্প্রে ম্যান রয়েছে ১৮৩ জন, ক্রু ম্যান রয়েছে ১৫১, সুপারভাইজার রয়েছে ১০ জন। মশার ওষুধ ছিটানোর জন্য ডিএসসিসিতে ৯৪০টি মেশিন রয়েছে। সংস্থাটিতে ফগার মেশিন রয়েছে ৪৪৭টি, হস্তচালিত মেশিন রয়েছে ৪৪২টি, হুইল ব্যারো মেশিন রয়েছে ৫১টি, ইউএলভি মেশিন রয়েছে ২টি, পাওয়ার স্পেয়ার রয়েছে ৫টি এবং ন্যাপসেক পাওয়ার রয়েছে ১টি। এর মধ্যে ৪৪২টি হস্তচালিত মেশিনের মধ্যে ২০৮টি, ৪৪৭টি ফগার মেশিনের মধ্যে ১৮৬টি পুরো ও ১৬টি আংশিক অচল এবং ৫১টি হুইল ব্যারো মেশিনের মধ্যে ১৮টিই অচল, ২টি ইউএলভি, ৫টি পাওয়ার স্পেয়ার ও ১টি ন্যাপসেক পাওয়ার মেশিন নষ্ট।

অপরদিকে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের (ডিএনসিসি) পাঁচটি অঞ্চলে জলাধার রয়েছে ১ হাজার ৮৭৫ বিঘা। এর মধ্যে অন্যতম এলাকা হচ্ছে বসিলা, গাবতলী, মিরপুর, কুড়িল, গুলশান ও উত্তরা। এ ছাড়াও অন্য এলাকায় বেশ কিছু জলাধার রয়েছে। আর ডিএনসিসির ৩০৯ জন মশক নিধন শ্রমিক রয়েছে। এর মধ্যে স্প্রে ম্যান রয়েছে ১২০ জন এবং ক্রু ম্যান রয়েছে ১৮৯ জন। সুপারভাইজার রয়েছে ৮ জন। মশক নিধনে ডিএনসিসিতে ৬৫৩টি মেশিন রয়েছে। হস্তচালিত ৩৮৭টি, ফগার ২৫৫টি, হুইল ব্যারো ১০টি এবং একটি ভেহিকল মাউন্টেড ফগার মেশিন। এই মেশিনগুলোরও অধিকাংশই বিকল, যা আর ঠিক করা হয়নি।

মানবকণ্ঠ/এসএস