রাঙামাটিতে ছাত্রলীগের হামলায় সাংবাদিকসহ আহত ৪

রাঙামাটিতে ছাত্রলীগের হরতাল চলাকালে সাংবাদিক ও পথচারীদের ওপর আবারও হামলা চালিয়েছে সংগঠনটির নেতা-কর্মীরা। এতে দুই সাংবাদিকসহ অন্তত চারজন আহত হয়েছেন। মঙ্গলবার বিকেল ৩টার দিকে শহরের বনরূপা বাজারে এ হামলা সংঘটিত হয়।

আহতরা হলেন— চট্টগ্রামের আঞ্চলিক পত্রিকা দৈনিক পূর্বদেশের রাঙামাটি প্রতিনিধি মো. কামাল উদ্দিন, চ্যানেল নাইনে রাঙামাটি প্রতিনিধি সাইফুল বিন হাসান, রাঙামাটি জেলা পরিষদ চেয়ারম্যানের গাড়ি চালক রুপকুমার ত্রিপুরা ও এক ডিবি পুলিশের সদস্য। আহত দুই সাংবাদিককে রাঙামাটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

এর আগে গত সোমবার বিকেলে রাঙামাটি স্টেডিয়ামে জেলা ছাত্রলীগের সদস্য সুপায়ন চাকমার ওপর হামলার প্রতিবাদে মঙ্গলবার হরতাল কর্মসূচি পালন করছিল জেলা ছাত্রলীগ। সকাল থেকে শান্তিপূর্ণভাবে হরতাল পালন হয়ে আসলেও বিকেলে এসে হঠাৎ সাংবাদিক ও পথচারী ওপর হামলা করা হয়।

আহত সাইফুল বিন হাসান বলেন, বিকেলে বনরূপা বাজারে হরতাল সমর্থনে ছাত্রলীগের কর্মীরা মিছিল নিয়ে বনরূপায় জড়ো হতে থাকে। এ সময় তিনি ছবি তুলতে গেলে মিছিল থেকে তার ওপর হামলা করা হয়।

মো. কামাল উদ্দিন বলেন, ছাত্রলীগের মিছিল থেকে তার ওপর হামলা করা হয়। সাংবাদিক পরিচয় পাওয়ার পর তার আরো ক্ষুব্ধ হয়ে আঘাত করে ক্যামরা কেড়ে নেয়। তবে এ বিষয়ে জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক প্রকাশ চাকমার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি মোবাইল রিসিভ করেননি।

সাংবাদিকদের উপর হামলার খবর পেয়ে আহত সাংবাদিকদের দেখতে হাসপাতালে ছুটে যান প্রেস ক্লাবের সভাপতি সাখাওয়াত হোসেন রুবেল, রিপোর্টাস ইউনিটির সভাপতি সুশীল প্রসাদ চাকমা, রাঙামাটি টিভি জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি শামসুল আলম, রাঙামাটি সাংবাদিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক হিমেল চাকমা, দৈনিক পার্বত্য চট্টগ্রাম পত্রিকার সম্পাদক ফজলে এলাহীসহ অন্যান্য মিডিয়ায় কর্মরত সাংবাদিকরা। এ ঘটনায় রাঙামাটি সাংবাদিক সংগঠনগুলো মঙ্গলবার সন্ধ্যায় জরুরি সভা আহ্বান করেছে।

প্রসঙ্গত গত সোমবার সন্ধ্যায় শহরের খেলা শেষে স্টেডিয়াম এলাকায় সুপায়ন চাকমার (১৮) ওপর হামলা করে দুর্বৃত্তরা। এর প্রতিবাদে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা শহরের বনরূপা, চম্পক নগর এলাকায় মূল সড়কে গাড়ির টায়ার জালিয়ে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করতে থাকলে শহরে জনদুর্ভোগ সৃষ্টি ও আতঙ্ক ছড়াতে থাকে। এক পর্যায়ে জেলা প্রশাসনের একটি গাড়ি ভাঙচুর করে অবরোধকারীরা। পরে পুলিশ অবরোধ তুলে নিতে বললে পুলিশের ওপর ক্ষুব্ধ হয়ে ইট পাটকেল ছুড়ে ছাত্রলীগের কর্মীরা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ ফাঁকা গুলি ও রাবার বুলেট ছুড়ে। এতে পুলিশের ওপর আরো ক্ষুব্ধ হয় ছাত্রলীগের কর্মীরা। এ সময় দৈনিক সমকালের স্টাফ রিপোর্টার ও একুশে টিভির রাঙামাটি প্রতিনিধি সত্রং চাকমার ওপর হামলা করে ছাত্রলীগের কর্মীরা। অবরোধকারীদের ইট পাটকেলের হামলায় আহত হয় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জাহাঙ্গীর, কোতয়ালী থানার এসআই লিমসহ ৬ পুলিশ সদস্য। এ সময় ভাঙচুর করা হয় পুলিশ সুপার, ম্যাজিস্ট্রেট গাড়ি।

এদিকে সোমবারের সংঘর্ষের ঘটনা রাঙামাটি কোতয়ালী থানায় ৪/৫ শ’ জনকে আসামি করে একটি মামলা করেছে পুলিশ।

রাঙামাটি অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিবি) রুহুল আমিন ছিদ্দিকি বলেন, রাঙামাটির পরিস্থিতি স্বাভাবিক আছে। সোমবারের ঘটনায় পুলিশের পক্ষ থেকে একটি মামলা করা হয়েছে।

মানবকণ্ঠ/এফএইচ

Leave a Reply

Your email address will not be published.