রাখাইনে জাতিসংঘের হস্তক্ষেপ চেয়ে নোবেলজয়ীদের চিঠি

মিয়ানমারের রাখাইনে চলমান সংকট নিরসনে জাতিসংঘের হস্তক্ষেপে চেয়ে খোলা চিঠি লিখেছেন নোবেলজয়ী ও বিশিষ্টজনরা। এই চিঠিতে স্বাক্ষর করেছেন ১২ নোবেলজয়ী ও ১৫ বিশিষ্টজন।  বুধবার ঢাকায় ইউনূস সেন্টার থেকে চিঠিটি সংবাদ মাধ্যমে পাঠানো হয়।

চিঠিতে বলা হয়, মিয়ানমারে মানবীয় ট্র্যাজেডি ও মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ ভয়ংকর রূপ নিয়েছে।এর অবসানে জাতিসংঘের জরুরি হস্তক্ষেপ প্রয়োজন। আপনাদের এই মুহূর্তের সাহসী সিদ্ধান্তের ওপর মানব ইতিহাসের ভবিষ্যৎ গতিপথ অনেকটাই নির্ভর করছে।

আরো বলা হয়, আমরা মনে করিয়ে দিতে চাই যে, রাখাইন রাজ্যে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর সাম্প্রতিক আক্রমণে শত শত রোহিঙ্গা জনগণ নিহত হচ্ছে। বাস্তুচ্যুত হচ্ছে লাখ লাখ মানুষ। বহু গ্রাম সম্পূর্ণ জ্বালিয়ে দেয়া হয়েছে, নারীদের ধর্ষণ করা হচ্ছে, শিশুদের হত্যা করা হচ্ছে। আতঙ্কের বিষয়, মানবিক সাহায্য সংস্থাগুলোকে এই এলাকায় একবারেই প্রবেশ করতে দেয়া হচ্ছে না।

খোলা চিঠি উল্লেখ করা হয়, সহিংসতার মাত্রা বৃদ্ধি পেলে গত বছরের শেষে আমরা কয়েকজন নোবেল লরিয়েট এ বিষয়ে জরুরি হস্তক্ষেপের আহ্বান জানিয়ে আপনাদের (জাতিসংঘ) নিকট অনুরোধ জানিয়েছিলাম। আপনাদের হস্তক্ষেপ সত্ত্বেও পরিস্থিতির উন্নতি হয়নি। রাখাইন এলাকায় স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে সুনির্দিষ্ট ও কার্যকর পদক্ষেপ নেয়ার জন্য আমরা আবার আপনাদের কাছে অনুরোধ জানাচ্ছি।

এই চিঠিতে স্বাক্ষর করা শান্তিতে নোবেল বিজয়ীরা হলেন- প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস, মেইরিড মাগুইর,বেটি উইলিয়ামস, আর্চবিশপ ডেসমন্ড টুটু, অসকার আরিয়াস সানচেজ, জোডি উইলিয়ামস, শিরিন এবাদি, লেইমাহ বোয়ি, তাওয়াক্কল কারমান, মালালা ইউসুফজাই।

স্যার রিচার্ড জে রবার্টস (চিকিৎসাশাস্ত্রে নোবেল জয়ী), এলিজাবেথ ব্ল্যাকবার্ন, (চিকিৎসাশাস্ত্রে নোবেল জয়ী),  সাইয়েদ হামিদ আলবার (মালয়েশিয়ার সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী), এমা বোনিনো (ইতালির সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী), স্যার রিচার্ড ব্র্যানসন (ব্যবসায়ী নেতা ও সমাজসেবী), গ্রো হারলেম ব্রান্ড্টল্যান্ড (নরওয়ের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী), মো. ইব্রাহীম (উদ্যোক্তা ও সমাজসেবী), কেরি কেনেডি
(মানবাধিকার কর্মী)।

আলা মুরাবিত (লিবীয় নারী অধিকার প্রবক্তা, এসডিজি সমর্থক), নারায়ণ মূর্তি, (ব্যবসায়ী নেতা), কাসিত পিরোমিয়া (থাইল্যান্ডের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী), সুরিন পিটসুয়ান (আসিয়ানের সাবেক মহাসচিব), পল পোলম্যান (ব্যবসায়ী নেতা, এসডিজি সমর্থক), ম্যারি রবিনসন (আয়ারল্যান্ডের সাবেক প্রেসিডেন্ট), জেফরে ডি সাচ (পরিচালক, জাতিসংঘ সাসটেইনেবল ডেভেলপমেন্ট সলিউশন্স নেটওয়ার্ক), ফরেস্ট হুইটেকার (অভিনেতা, এসডিজি সমর্থক), জোকেন জাইট্জ (ব্যবসায়ী নেতা ও সমাজসেবী)।

মানবকণ্ঠ/জেডএইচ

Leave a Reply

Your email address will not be published.