রংপুরের ৬টি আসন উন্মুক্ত করে দেয়ার দাবি আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের

রংপুরের ৬টি আসন উন্মুক্ত করে দেয়ার দাবি আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের
একাদশ সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়নপত্র গ্রহণ ও জমাদান পর্ব শেষ। এখন রংপুরের ৬টি আসন জোট মহাজোটের বৃত্তে বন্দি না রেখে আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টির প্রার্থীদের জন্য উন্মুক্ত করে দেয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা।

তারা বলছেন, রংপুর আওয়ামী লীগের জন্য উর্বর ভূমিতে পরিণত হয়েছে। সিটি কর্পোরেশনের মেয়র পদটি হাতছাড়া হয়ে গেলেও বিশাল ব্যবধানে জয়ী বর্তমান জাপার মেয়র জনগণের নাগরিক অধিকার বাস্তবায়নে ব্যর্থ। যে আশা নিয়ে জনগণ তাকে মেয়র নির্বাচিত করেছিল তা আশায় গুড়েবালিতে পরিণত হওয়ায় রংপুরের জনগণ এখন জাপা থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে। ইমেজ কমে গেছে এরশাদ ও জাপার। এ কারণে রংপুরের ৬টি আসন উন্মুক্ত করে দেয়া হলে জাপার প্রার্থীরা জামানত হারাবেন। তবু প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ওপর আস্থা ও বিশ্বাস থাকায় তার সিদ্ধান্তই সঠিক সিদ্ধান্ত হিসেবে মেনে নেবেন বলে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা সাফ জানিয়ে দিয়েছেন।

সূত্র মতে, রংপুর জেলার ৮ উপজেলা তিনটি পৌরসভা ও ৫৮টি ইউনিয়ন এবং ৫২২টি ওয়ার্ড রয়েছে। সব উপজেলা, পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আওয়ামী লীগের। জনপ্রতিনিধি না থাকায় সরকারি বরাদ্দে কাজ করতে না পারায় জাপা নেতাকর্মীরা নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়েছে। বিপরীতে পুরো রংপুরজুড়ে আওয়ামী লীগের উন্নয়ন ও নেতাকর্মীদের অবস্থান প্রকাশ্যে। ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বর ৯ম সংসদ নির্বাচনের পর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শত ব্যস্ততায় চোখ রেখেছিলেন রংপুর অঞ্চলের দিকে। উন্নয়নে সমৃদ্ধ করতে নিয়েছিলেন নানামুখী পদক্ষেপ। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাত ধরে এসেছে রংপুর বিভাগ, সিটি কর্পোরেশন, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়, মেরিন একাডেমি, মেট্রোপলিটন পুলিশ ও চারলেনের সড়কসহ নানা মেগা প্রকল্প।

২০১৪ সালের দশম সংসদ নির্বাচনে রংপুরের ৬টি সংসদীয় আসনের ৪টি আওয়ামী লীগের দখলে চলে আসে। ফলে দলীয় এমপিদের উন্নয়ন মনোভাবের সঙ্গে সরকারের উন্নয়ন প্রক্রিয়াযুক্ত হয়ে রংপুরজুড়ে অবিস্মরণীয় উন্নয়ন এখন চোখে পড়ার মতো। গ্রামে লেগেছে আধুনিকতার ছোঁয়া। পায়ে হাঁটা মেঠোপথ পাকা সড়কে উন্নীত হয়েছে। যোগাযোগ ব্যবস্থার আমূল বদলে যাওয়া গতি দিয়েছে রংপুর অঞ্চলের মানুষের জীবনে। সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ১০টি বিশেষ উদ্যোগ একটি বাড়ি একটি খামার, ডিজিটাল বাংলাদেশ, নারীর ক্ষমতায়ন, কমিউনিটি ক্লিনিক ও শিশু বিকাশ, ঘরে ঘরে সবার জন্য বিদ্যুৎ, আশ্রয়ন প্রকল্প, শিক্ষা সহায়তা কার্যক্রম, বিনিয়োগ বিকাশ, পরিবেশ সুরক্ষা কর্মসূচির সুফলে উন্নয়ন বঞ্চনার দুঃখ ঘুচিয়ে সুফল এনেছে রংপুর অঞ্চলের মানুষের জীবনে। যা জনগণের রাজনৈতিক মনে গভীর প্রভাবের সৃষ্টি করেছে। সমর্থক বেড়েছে আওয়ামী লীগের।

এর প্রভাবে এবার একাদশ সংসদ নির্বাচনে রংপুর ৪ ও ৬ আসনে একজন করে ছাড়া বাকি ৪টি আসনে প্রার্থী হতে ২১ নেতা আওয়ামী লীগের মনোনয়ন ফরম তুলেছেন। রংপুর-১ গংগাচড়া ও আংশিক সিটি আসনে মনোনয়ন ফরম তুলেছেন জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট রেজাউল করিম রাজু, উপজেলা আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান রুহুল আমীন, বর্তমান উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সম্পাদক আসাদুজ্জামান বাবলু ও কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক লীগের সদস্য রবিউল ইসলাম রেজভীসহ ৪ জন।

রংপুর-২ তারাগঞ্জ-বদরগঞ্জ আসনে মনোনয়ন ফরম তুলেছেন আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য চৌধুরী খালেকুজ্জামান, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক ও রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান বর্তমান বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের সদস্য ড. এম শাহ্ নওয়াজ আলী, বর্তমান এমপি আবুল কালাম মো. আহসানুল হক চৌধুরী ডিউক, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আহসানুল হক চৌধুরী টুটুল, বদরগঞ্জ পৌরসভার চারবার নির্বাচিত মেয়র উত্তম কুমার সাহা, সাবেক উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও বাংলাদেশ কৃষক লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক কৃষিবিদ বিশ্বনাথ সরকার বিটুসহ ৬ জন।

রংপুর-৩ (সদর-সিটি) আসনে আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য চৌধুরী খালেকুজ্জামান, জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবির) পরিচালক বিশিষ্ট ব্যবসায়ী অ্যাডভোকেট আনোয়ারুল ইসলাম, মহানগর আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক রেজাউল ইসলাম মিলন, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মমতাজ উদ্দিন আহমেদ, জেলা আওয়ামী লীগের দফতর সম্পাদক তৌহিদুর রহমান টুটুল, জেলা আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক রোজি রহমান, সদর উপজেলা চেয়ারম্যান নাছিমা জামান ববি ও সংরক্ষিত ৩০৩ আসনের এমপি অ্যাডভোকেট হোসনে আরা লুৎফা ডালিয়াসহ মোট ৮ জন।

রংপুর-৪ কাউনিয়া-পীরগাছা আসনে আওয়ামী লীগের একক প্রার্থী স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি বর্তমান এমপি টিপু মুনসি। রংপুর-৫ মিঠাপুকুর আসনে বর্তমান এমপি এইচএন আশিকুর রহমান, জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক বিশিষ্ট ব্যবসায়ী মোতাহার হোসেন মণ্ডল মওলা, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান জাকির হোসেন সরকারসহ ৩ জন।

রংপুর-৬ পীরগঞ্জ আসনটির এমপি জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী একাই মনোনয়ন ফরম তুলেছেন।

মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক তুষার কান্তি মণ্ডল ও মহানগর স্বেচ্ছাসেক লীগের সভাপতি আতাউরজ্জামান বাবু বলেন, রংপুর আওয়ামী লীগের দুর্গ ছিল। মধ্যখানে হাতছাড়া হয়েছিল। আবার রংপুর আওয়ামী লীগের দুর্গে পরিণত হয়েছে। ৬টি আসন উন্মুক্ত করে দিলে আওয়ামী লীগের প্রার্থীর বিজয় ঠেকাতে পারবে না কেউ।

জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাাদক কামরুজ্জামান চৌধুরী তুহীন ও জেলা আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক রোজি রহমান বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রতিশ্রুতি দিয়ে রংপুর উন্নয়নের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে গেছেন। এমতাবস্থায় আমরা মনে করি উন্মুক্ত করে দিলে ৬টি আসনেই আওয়ামী লীগ প্রার্থী জয়লাভ করবে। রংপুর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট রেজাউল করিম রাজু বলেন, রংপুরকে উন্নয়নের উচ্চ শিখরে নিয়ে যাওয়ার জন্য আওয়ামী লীগের নেতৃত্ব প্রয়োজন ছিল। সময় এসেছে তাই স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতারাই এখন উন্নয়নের হাল ধরার জন্য প্রস্তুত।

আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য চৌধুরী খালেকুজ্জামান বলেন, রংপুরের উন্নয়ন গতি সচল রাখার জন্য আওয়ামী লীগ ঘরের এমপি প্রয়োজন। রংপুরবাসীর কাছে উন্নয়ন প্রশ্নে নৌকা প্রতীক জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে। নৌকা প্রতীকে ভোট দেয়ার জন্য রংপুরের মানুষ অপেক্ষায় আছে। পরিবর্তন এখন সময়ের হাতে।

মানবকণ্ঠ/এসএ